টসঃ
টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। টস হারা সাকিবও চেয়েছিলেন আগে বোলিং করতে।

লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ দলে এসেছে তিন পরিবর্তন। আগের ম্যাচের দুই ওপেনার এনামুল, নাইম বাদ পড়েছেন, বাদ পড়েছেন অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনও।

দলে ফিরেছেন সাব্বির রহমান, মেহেদি মিরাজ ও পেসার এবাদত।

বাংলাদেশ একাদশঃ

সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, ইবাদত হোসেন, তাসকিন আহমেদ।

শ্রীলঙ্কা একাদশঃ

সাব্বির-মিরাজর ওপেনিংঃ

একাদশে স্বীকৃত ওপেনার নেই। তাই নতুন ওপেনার বেচে নিতে হয়েছে সাকিবকে। সাব্বির ও মিরাজের ওপেনিং জুটি কত দূর পাড়ি দিতে পারে তা দেখার অপেক্ষায় সমর্থকরা।

১৯ রানে ভাঙ্গলো ওপেনিং জুটিঃ

দলীয় ১৯ রানে ব্যক্তিগত ৬ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন সাব্বির। ফার্নান্দোর বলে উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দিয়ে আউট হোন সাব্বির।

মিরাজের নৈপুণ্যে পাওয়ার প্লে’তে পাস মার্ক বাংলাদেশেরঃ

সাব্বির রহমান ফিরলেও সাকিবকে সাথে নিয়ে মেহেদি হাসান পাওয়ার প্লে’তে এনে দিলেন পাশ মার্ক। ছয় ওভারো ১ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫৫ রান।

হাসরাঙ্গার গুগলিতে কাবু মিরাজঃ

পাওয়ার প্লে’তে দূর্দান্ত খেলতে থাকা ওপেনার মেহেদি হাসান মিরাজকে ফেরালেন হাসরাঙ্গা। ব্যাট চালাতে গিয়ে লঙ্কান এই লেগ স্পিনারের গুগলির ফাঁদে পড়ে বোল্ড হয়ে ২৬ বলে ৩৮ রান করে সাজঘরে ফিরেন মিরাজ।

মিরাজের পর হাল ধরলেন সাকিব, ১০ ওভারে সংগ্রহ ৮৫/৩ মিরাজের আউটের পর মুশফিকও দ্রুত ফেরায় শঙ্কা জেগেছিলো ব্যাটিং লাইন আপে ধস নামার। তবে অধিনায়ক সাকিবের দায়িত্বশীল ও বুদ্ধিমান ব্যাটিংয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলো টাইগাররা।

বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে বোল্ড সাকিব!
 দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে থাকা সাকিব তিকশানাকে
জায়গা বানিয়ে মারতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফিরেন। সাজঘরে ফেরার আগে অবশ্য সাকিব স্পর্শ করেন দারুণ এক মাইলফল। তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে করেন ৬ হাজার রান।

১২৩-৪! (১৫ ওভার)

পনেরো ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১২৩ সংগ্রহ বাংলাদেশের। ক্রিজে আফিফ-রিয়াদ। শেষ পাঁচ ওভারে কত রান যোগ করতে পারবে বাংলাদেশ তা দেখার বিষয়!

আফিফের বিদায়ে ভাঙ্গলো ৫৭ রানের পার্টনারশীপ!

সাকিবের বিদায়ের পর রিয়াদ কে নিয়ে ৫৭ রানের পার্টনারশীপ গড়েন আফিফ। দলীয় ১৪৪ রানে ব্যক্তিগত ৩৯ করে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন আফিফ, পরের ওভারে হাসরাঙ্গাকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ২৭ রানে ক্যাচ দেন রিয়াদও।

শেষ পাঁচ ওভারে ৬০ রান!

রিয়াদ, আফিফের পর মোসাদ্দেক, তাসকিনের দূর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শেষ পাঁচ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬০ রান।

লঙ্কানদের সামনে পাহাড় সমান লক্ষ্যঃ

বাঁচা মরার লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১৮৪ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান করে বাংলাদেশ। যা দুবাইয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান।

অভিষেকে এবাদতের জোড়া আঘাতঃ

টি-টোয়েন্টিতে নিজের অভিষেক ম্যাচে প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট নিলেন পেসার এবাদত হোসেন।নিসাঙ্কা ও আসালাঙ্কাকে ফিরিয়ে নিজের প্রথম ওভারে দলকে এনে দেন জোড়া ব্রেক থ্রু।

ব্যাট হাতে ব্যর্থ মুশফিক ব্যর্থ গ্লাভস হাতেও!

ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন মুশফিক। সুযোগ ছিলো গ্লাভস হাতে ব্যর্থতার দাগ মুছে দিতে। তবে উল্টো কাজটিই করলেন মুশফিক। তাসকিনের বলে উইকেটের পিছনে ছেড়ে দেন কুশালের ক্যাচ। জীবন পেয়ে এই লঙ্কান ব্যাটার চড়া হোন সাকিবের ওপর। হাঁকান তিন বলে তিনটি ছক্কা। ব্যাপারটি শেষ হতে পারতো সেখানে। তবে মুশফিক আরো একবার ভুল করলেন উইকেটের পিছে। তিন উইকেট নেওয়া এবাদত পেতে পারতেন চতুর্থ উইকেট। পরের বলে কট বিহাইন্ডের আবেদন করলে আম্পায়ার সাড়া দেননি। বল ব্যাটে লাগার আওয়াজ শুনেনি বলে সাফ জানিয়ে দেন মুশফিক, তাতে রিভিউ না নিয়ে কপাল পুড়ে বাংলাদেশের। রিভিউতে স্পষ্ট দেখা যায় বল কুশালের গ্লাভসে লাগে।

চারবার জীবন পেয়ে কুশালের অর্ধশতকঃ

এক, দুই, তিন, চার!!  একে একে চারবার জীবন পেলেন লঙ্কান ব্যাটার কুশাল। তাসকিনের বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ ফেলেন মুশফিক, আফিফের বলে বোল্ডও হোন পরে। তবে নাটকীয় নো বলে বেঁচে যান সেবারও। এবাদতের দ্বিতীয় ওভারে মুশফিককে ক্যাচ দেন কুশাল। তবে আম্পায়ার সাড়া দেননি আবেদন। সাকিবরা রিভিউ না নিলে সে যাত্রায় ও বাঁচেন তিনি। এরপর রান আউট হতে হতেও চতুর্থ জীবন পান কুশাল। এক ম্যাচে চার জীবন পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে ভুলেননি কুশাল। তুলেন নেন ৩২ বলে অর্ধশতক।

তাসকিনের দূর্দান্ত ক্যাচে কুশালকে ফেরালেন মুস্তাফিজ!

চার চারবার জীবন পেয়ে নিজের ভয়ংকর রূপ দেখতে থাকা কুশাল মেন্ডিসকে ফেরালেন মুস্তাফিজুর রহমান। দূর্দান্ত এক ক্যাচ নেন তাসকিন। এরপর নিজের শেষ ওভারে বোলিং করতে এসে  তাসকিন ফেরান হাসরাঙ্গাকেও।

শেষ দুই ওভারে লঙ্কানদের দরকার ২৫ রান

ম্যাচ জিততে ১২ বলে শ্রীলঙ্কার দরকার ২৫ রান। জয়ের স্বপ্ন দেখানো লঙ্কান দলপতিকে ৪৫ রানে ফেরালেন শেখ মেহেদি। ১৮ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান সংগ্রহ শ্রীলঙ্কার।

এভাবে ম্যাচ হারা যায়!

এভাবেও তাহলে ম্যাচ হারা যায়? জয়ের খুব কাছে গিয়ে সমর্থকদের হৃদয় ভাঙ্গতে অভস্ত বাংলাদেশ পারলো না নিজেদের পুরাতন অভ্যাস ছাড়তে। তরী ভিড়িয়ে আরো একবার তরী ডুবালো। হৃদয় ভাঙ্গলো সমর্থকদের।

বাঁচা মরার লড়াইয়ে আজ দুবাই স্টেডিয়ামে নিজেদের রেকর্ড গড়া রান টার্গেট দিয়েও বোলারদের নো বল, উইকেটের পিছনে মুশফিকের ক্যাচ মিস, ভুল সিদ্ধান্ত সব মিলিয়ে আরো একবার হারলো বাংলাদেশ। ৩ বল হাতে রেখে পাহাড় সমান রান তাড়া করে ২ উইকেট জিতে সুপার ফোরে জায়গা করে নিলো লঙ্কানরা। পর পর দুটি হতাশার হারে দেশের ফ্লাইট ধরতে হবে বাংলাদেশকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৮৩/৭ (মিরাজ ৩৮, সাব্বির ৫, সাকিব ২৪, মুশফিক ৪, আফিফ ৩৯, মাহমুদউল্লাহ ২৭, মোসাদ্দেক ২৪*, মেহেদি ১, তাসকিন ১১*; মাদুশাঙ্কা ৪-০-২৬-১, থিকশানা ৪-০-২৩-১, আসিথা ৪-০-৫১-১, হাসারাঙ্গা ৪-০-৪১-২, করুনারত্নে ৪-০-৩২-২)।

শ্রীলঙ্কা: ১৯.৩ ওভারে ১৮৪/৮ (নিসানকা ২০, মেন্ডিস ৬০, আসালাঙ্কা ১, গুনাথিলাকা ১১, রাজাপাকসা ২, শানাকা ৪৫, হাসারাঙ্গা ২, করুনারত্নে ১৬, থিকশানা ০*, ফার্নান্দো ১০*; মুস্তাফিজ ৪-০-৩২-১, তাসকিন ৪-০-২৪-২, সাকিব ৪-০-৩১-০, ইবাদত ৪-০-৫১-৩, মেহেদি ৩.৩-০-৩০-১, মিরাজ ১-০-১১-০)।


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন