দুবাই এশিয়া কাপে এবারের আসরে খেলছে ছয়টি দল। বাংলাদেশ,ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও হংকং।

আজকের গল্পটি ভারত ও পাকিস্তানের সাথে গ্রুপ পর্বে খেলা হংকংয়ের ক্রিকেটারদের নিয়ে।

হংকংয়ে ক্রিকেট খেলে ক্রিকেটাররা মনের তৃপ্তি মেটাতে পারলেও পারে না পেটের ক্ষুদা মেটাতে। কারণ দেশটিতে ক্রিকেট এখনো সেরকম পেশা হয়ে উঠে নি যে তারা শুধু ক্রিকেট খেলেই পেট চালাতে পারবে। তাই জীবনের তাগিয়ে বাধ্য হয়ে দেশটির ক্রিকেটাররা যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন পেশায়। কেউ চাকরী করেন, কেউ কাজ করেন ডেলিভারি ম্যানের। আবার কেউ বা করেন ব্যবসা।

ইএসপিএনক্রিকইনফোতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হংকং জাতীয় দলের কোচ ট্রেন্ট জনস্টন নিজের দল সম্পর্কে বলেন,

❝দলের তিন–চারজন ক্রিকেটার কোচিং পেশার সঙ্গে যুক্ত। দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ফুড পান্ডা বা ডেলিভারো নামে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করে। দলের সহ-অধিনায়ক কিঞ্চিৎ শাহ করে জুয়েলারি ব্যবসা। স্কট ম্যাকচিনির নিজের ব্যবসা আছে, তাই তার ক্রিকেটে সময় দেওয়া নিয়ে ঝামেলা কম। ওপেনিং বোলার ইয়াং শাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। এ ছাড়া কয়েকজন সরকারি চাকরিও করে।’

গত তিন মাসে দলটির ছিলো ব্যস্ত সূচি। তাই তিন মাস ক্রিকেটারা ছিলো দেশের হয়ে খেলতে পরিবার থেকে দূরে। তিন মাসে সন্তানের বাবা হয়েছেন দলটির তিন ক্রিকেটার বাবর হায়াত, এহসান খান, ইয়াসিম মুর্তাজা। তবে সন্তানের মুখ এখনো দেখা হয়ে ওঠেনি তাদের।

এই দীর্ঘ সময় চাকরী, ব্যবসা ও পরিবার থেকে দূরে থাকা ক্রিকেটাররা নাকি একবারও বলেননি বাড়ি যাওয়ার কথা। পড়ে ছিলেন ক্রিকেট নিয়ে, ব্যাট-বলের খেলাটিকে ভালোবেসে। তাতে মুগ্ধ দলটির কোচ।

‘গত তিন মাসে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে অনেক কিছুই ত্যাগ করেছে তারা। তাদের পরিবারকে ধন্যবাদ দিলে সেটা কমই হবে। ক্রিকেটারদের স্ত্রী, প্রেমিকা, সন্তানেরা তাদের ঘরে ফেরার জন্য অপেক্ষা করছে। অথচ দলের একজনও কখনো বলেনি যে সে বাড়ি ফিরতে চায়। তাদের সঙ্গীরাও অসাধারণ কাজ করেছে, সংসারটা চালিয়ে নিচ্ছে।’

এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে হেরেছে হংকং। তবে প্রথম ১৩ ওভারে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বেশি কিছু করতে দেয়নি দলটির বোলাররা। যদিও শেষ সাত ওভারে সূর্যকুমার যাদবের দূর্দান্ত ব্যাটিংয়ে লন্ডভন্ড হয়েছে তারা। ব্যাট হাতেও লড়াই করেছে হংকং। ম্যাচ হারার আগে হারায়নি মনোবল।

আজ গ্রুপ পর্বে বাঁচা মরার লড়াইয়ে আরেক শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে হংকং। পাকিস্তানকে যদি কোনোভাবে হারিয়ে দেওয়া যায় তাহলে তা হবে হংকং ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় আর্শিবাদ সরূপ। নইলে ভারত-পাকিস্তানের মতো বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে হলে অপেক্ষা করতে হবে কোন এক এশিয়া কাপের আসর শুরুর আগ পর্যন্ত।


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন