কথায় আছে মানুষের জীবন নাকি সিনেমার চিত্রনাট্যের থেকেও বেশি নাটকীয়। কথাটির যথার্থতা বুঝতে হলে খুব বেশি একটা কষ্ট করতে হবে না আপনার। আইপিএলের দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের স্পিনার কার্তিকেয় সিংয়ের জীবনের গল্পটি পড়লেই একেবারে জলের ন্যায় পরিস্কার হয়ে যাবে মানুষের জীবন কতটা নাটকীয়তা ভরপুর।

 

নাম কার্তিকেয় সিং। বাবা ছিলেন উত্তর প্রদেশের সামান্য একজন পুলিশ কনস্টেবল। বাবার সীমিত আয়ে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। তাই কার্তিকেয়ের ক্রিকেট খেলাটা চালিয়ে যেতে উর্পাজন করতে হতো নিজেকেই।

 

নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাড়ি ছাড়েন কার্তিকেয়। শপথ নিয়েছিলেন ক্রিকেটে কিছু করতে না পারার আগে বাড়ি ফিরবেন না।

উর্পাজন করতে কাজ করেছেন শ্রমিক হয়ে। দুপুরে খাবার না খেয়ে ১০ রুপি দিয়ে খেয়েছেন বিস্কুট।

 

সম্প্রতি কার্তিকেয় সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ পোস্ট শেয়ার করেছেন, নিজের ও মায়ের ছবি দিয়ে তাঁর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘৯ বছর ৩ মাস পর আমার পরিবার এবং মায়ের সঙ্গে দেখা হল। আমি আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।’

ছবিতেঃ কুমার কার্তিকেয়ের করা টুইট।

 

আইপিএলের শেষ আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মহম্মদ আর্শাদ খান ইনজুরতে পড়ে ছিটকে গেলে তার জায়গায় ডাক পান বাঁহাতি স্পিনার কুমার কার্তিকেয় সিং। সুযোগ পেয়ে তা কাজে লাগাতে ভুল করেনি নেট বোলার হিসেবে দলের সাথে থাকা কার্তিকেয়। নিজের স্পিন ঘূর্ণিতে চমকে দিয়েছিলেন পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে।অভিষেক ম্যাচে ১৯ রান খরচ করে ১ উইকেট নেওয়া কার্তিকেয় মোট চার ম্যাচ খেলে নেন পাঁচটি উইকেট।

এক সাক্ষাৎকারে এই ক্রিকেটার জানান ❝তিনি যখন দিল্লি যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাঁর বাবাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি ক্রিকেটার না হওয়া পর্যন্ত ঘরমুখো হবেন না।❞

 

কার্তিকের বাবাও ছিলেন একজন ক্রিড়াবিদ। শুটিং প্লেয়ার বাবা থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে জড়ান খেলাধুলায়।

মধ্যপ্রদেশের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেন কার্তিকেয়। ২০১৮ সালে কেরলের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়। ২০১৯ সালে সৈয়দ মুস্তাক আলিতে অভিষেক সিকিমের বিরুদ্ধে। কুমার কার্তিকেয় সিং এখনও পর্যন্ত তার প্রথম শ্রেণীর কেরিয়ারে ১২টি ম্যাচ খেলেছেন এবং এই সময়ের মধ্যে ৫৫টি উইকেট নিতে সফল হয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন