ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ যেমন হওয়ার দরকার ঠিক তেমনিই হলো সুপার ফোরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মহারণটি। টানাটানা উত্তেজনা পূর্ণ ম্যাচটিতে ১ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান। এতে করে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারতের কাছে ৫ উইকেটে হারের প্রতিশোধও নিয়ে নিলো বাবর আজমের দল।

 

সুপার ফোরে দুইদলের মুখোমুখি লড়াইয়ে টস করতে এসে বাঁধে এক ঝামেলা। পাকিস্তান অধিনায়ক হেড বললেও রবি শাস্ত্রী শুনেন টেল। উঠেও হেড। পরে ম্যাচ রেফারির সিদ্ধান্তে টস জিতে বাবর আজম। টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাবর। রোহিত জানান তিনিও নিতে বোলিং।

 

আগের ম্যাচ থেকে পাকিস্তান একটি ও ভারত তিনটি পরিবর্তন নিয়ে নামে মাঠে।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো গতিতে রান তুলতে থাকে দুই ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা ও কেএল রাহুল। মাত্র ৪.২ ওভারে ৫০ রান করে ভারত।

 

ষষ্ঠ ওভারে দলীয় ৫৪ রানের মাথায় ১৬ বলে ব্যাক্তিগত ২৮ করে ফিরেন রোহিত শর্মা। পরের ওভারে ফিরেন আরেক ওপেনার রাহুলও। ব্যাট হাতে আজ আলো ছড়াতে ব্যর্থ হোন সূর্যকুমার যাদব। মাত্র ১০ রান করে সাজঘরে ফিরেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক হার্দিক পান্ডিয়া ফিরেন শূন্য রানে। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন একজন। তিনি বিরাট কোহলি। আসিফ আলীর দূর্দান্ত থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফেরার আগে তুলেন নেন টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক। ৪৪ বলে খেলেন ৬০ রানের ইনিংস।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটি করলেন কোহলি।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮১ রান।

 

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দলীয় মাত্র ২২ রানে অধিনায়ক বাবর আজমের উইকেট হারায় পাকিস্তান। ১০ বলে ১৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন তিনি।

বাবরের বিদায়ের পর ফখরকে নিয়ে ৩০ রানের জুটি গড়েন আরেক ওপেনার রিজওয়ান। দলীয় ৬৩ রানে চাহালকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে কোহলির তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে ফিরেন ফখরও।

 

এরপর ক্রিজে আসেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার নেওয়াজ।  রিজওয়ানের সাথে বাঁধেন ৭১ রানের জুটি৷ মাত্র ২০ বলে ৪২ রান করে ফেরার আগে ম্যাচটি ঝুলিয়ে দেন নিজেদের দিকে।

৫১ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলে পান্ডিয়ার বলে সূর্যকুমার যাদবের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হোন রিজওয়ান। ভারতীয়রা তখন আবারো ফিরে ম্যাচে।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটি করেন রিজওয়ান।

এরপর আসিফ আলীর একেবারে সহজ একটি ক্যাচ ফেলে দেন তরুণ আর্শদীপ। ভারত ম্যাচটি যেনো সেখানেই ফেলে দেয়।

 

শেষ ১২ বলে পাকিস্তানের দরকার ছিলো ২৬ রান। বোলিংয়ে আসেন ভুবেনেশ্বর কুমার। তবে তার করা ১৯তম ওভারে ১৯ রান নেয় পাকিস্তান। চার ও ছক্কা হাঁকান খানিক আগে জীবন পাওয়া আসিফ আলী। শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিলো ৭ রান।

 

প্রথম বলে ১ রান, পরের বলে চার তৃতীয় বল ডট দেওয়ার পর চতুর্থ বলে আসিফ আলী এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়লে আবারো জমে উঠে ম্যাচ।
ক্রিজে আসেন নতুন ব্যাটসম্যান ইফতিখার আহমেদ। ২ বলে তখন দরকার ২ রান। ফুলটস পাওয়া বলটি বোলারের মাথার ওপর দিয়ে তুলে দিয়ে দুই রান নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

 

বল ও ব্যাট হাতে অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সের কারণে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান পাকিস্তানের বাঁহাতি অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নেওয়াজ।


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন