২০১৩ সালের পর কেটেছে নয়টি বছর, ওয়ানডে ফরমেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জয়তো দূরের কথা ম্যাচও জিততে পারে নি জিম্বাবুয়ে। তবে এবার ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ যে ফরমেটে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সে ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে সিরিজ হারানো হুমকি দিয়েছিলেন জিম্বাবুয়ে অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা। বাংলাদেশকে হারানোর কথা শুধু বলেই শান্ত হয়নি রাজা। ব্যাট হাতে তার একক রাজত্বে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচ জিতেই সিরিজ জিতিয়েছেন দলকে।

 

প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ৩০৪ রানের টার্গেট দিয়ও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচটিতেও হারলো বাংলাদেশ। নয় বছর পর দলটির কাছে হারলো সিরিজও।

 

জিম্বাবুয়ে সফরে টস হারের যাত্রা থামছেই না বাংলাদেশের। তারই ধারাবাহিকতায় আজও টস হারে বাংলাদেশ। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুটা করে নিজেদের সিগনেচার স্টাইলে। মানেটা পরিস্কার, হয় বাউন্ডারি নইলে বাউন্ডারি। প্রথম ৬০ বলে ৪০ টি ডট বল খেলেন তামিম-এনামুল জুটি।

 

ওয়ানডেতে নিজের ৫৫তম পঞ্চাশ করে ফিরেন তামিম। অবশ্য ৭১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গে তামিমের আগে রান আউট হয়ে এনামুল মাঠ ছাড়লে। মাত্র নিজের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ রাঙ্গলেও এই ম্যাচে বিজয় করেন মোটে ২০ রান।

 

এরপর শান্ত-মুশফিকের ৬০ বলে ৫০ রানের জুটিতে ২৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান তুলে বাংলাদেশ। ২৫ রানে মুশফিক ফেরার পর ৩৮ রানে থামেন শান্তের শান্তশিষ্ট ইনিংসটিও।

এরপর আফিফ-রিয়াদের ৮২ বলে ৮১ রানের জুটি ভাঙ্গেন সিকান্দার রাজা। ৪১ রান করা আফিফকে ফেরান তিনি।

আফিফের পর ব্যাট করতে নেমে ১২ বলে ১৫ করে সাজঘরে ফিরেন মিরাজ।

 

৪৬ ওভারে ৬ উইকেটে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৪৯ রান। শেষ চার ওভারে রিয়াদের ঝড়ে শেষ পর্যন্ত ২৯০ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। তিনটি করে ছক্কা ও চারে ৮৪ বলে ৮০ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ।

 

২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আগের ম্যাচের মতো শুরুতে সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিকরা।

১৬ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নেমে প্রথম ওভারে হাসান মাহমুদ ফেরান কাইটানোকে। পরের ওভারে এসে সাজঘরের পথ দেখান আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান কাইয়াকে। মাধেভারেকে মিরাজ ফেরালে ৮ ওভারে জিম্বাবুয়ের রান দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৭।

মারুমানিক তাইজুল ফেরালে ১৫ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোরকার্ড জমা হয় ৪ উইকেটে ৪৯ রান। জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকা বাংলাদেশের স্বপ্নকে সেখানেই থমকে দেন পঞ্চম উইকেটে রাজা-চাকাভার জুটি।

 

যদিও ৪২ রানের মাথায় রাজাকে ফেরাতে পারতো বাংলাদেশ। তবে মিরাজের বাচ্চা সুলভ ভুলে জীবন পেয়ে যান রাজা। আগের ম্যাচে ৪৩ রানে জীবন পেয়ে দলকে ম্যাচ জেতানো রাজা আজও জীবন পেয়ে খেললেন আরো একটি ম্যাচ জেতানো, সিরিজ জেতানো ইনিংস।

নিজের শেষ ওভারে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক চাকাভাকে ফেরান মিরাজ। তবে ততক্ষণে ৭৫ বলে ১০২ রানের সুনামি ইনিংস খেলেন চাকাভা। রাজার সাথে করেন ১৬৯ বলে ২০১ রানের জুটি।

চাকাভা ফিরলেও ক্রিজ কামড়ে পড়ে ছিলেন রাজা। ১২৭ বলে চারটি ছক্কা ও আটটি চারে ১১৭ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন রাজা। বাংলাদেশকে সিরিজ হারানোর কথা দিয়ে কথা রাখলেন এই জিম্বাবুইয়ান অলরাউন্ডার।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯০/৯ (তামিম ৫০, এনামুল ২০, শান্ত ৩৮, মুশফিক ২৫, মাহমুদউল্লাহ ৮০*, আফিফ ৪১, মিরাজ ১৫, তাসকিন ১, তাইজুল ৬, শরিফুল ১; ইভান্স ৭.৪-০-৬৪-০, নিয়াউচি ৮-০-৩৯-১, চিভাঙ্গা ৮.২-০-৪৯-১, রাজা ১০-০-৫৬-৩, মাধেভের ৯-০-৪০-২, জঙ্গুয়ে ৭-০-৪০-০)

জিম্বাবুয়ে: ৪৭.৩ ওভারে ২৯১/৫ (মারুমানি ২৫, কাইটানো ০, কাইয়া ৭, মাধেভেরে ২, রাজা ১১৭*, চাকাভা ১০২, মুনিয়োঙ্গা ৩০*; মাহমুদ ০-০-০-০, মিরাজ ০-০-০-০, শরিফুল ০-০-০-০, তাসকিন ০-০-০-০, তাইজুল ১০-০-৪৮-১)


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন