শেষ ওভারে আফগানিস্তানকে হারাতে পাকিস্তানের দরকার ১১ রান। হাতে আছে মাত্র একটি উইকেট। বল করতে এলেন তিন ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি পেসার ফারুকি। স্ট্রাইকে দশ নম্বরে নামা নাসিম শাহ্।

 

ফারুকির করা প্রথম বলে ফুলটস পেয়ে সোজা ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তান সমর্থকদের আশায় ফেরান নাসিম। তখনও ৫ বলে দরকার ৬ রান। পরের বল করলেন ফারুকি। আবারো ফুলটস! এবং আবারো ছক্কা!

 

ব্যাট ফেলে দৌড় দিলেন নাসিম, খুলে ফেললেন হ্যালমেটও। এ যেন যুদ্ধে জয় করে আসা এক সৈনিক। পাকিস্তানের ড্রেসিংরুম থেকে ততক্ষণে মাঠের ঢুকে নাসিম শাহ্কে নিয়ে উল্লাসে মেতেছে সতীর্থরা৷ পাকিস্তান দশর্করা গ্যালারীতে মেতেছেন উল্লাসে।

ম্যাচ জিতিয়ে যেন শূন্যে উড়ছেন নাসিম শাহ্।

 

বিপরীত চিত্র আফগানিস্তান শিবিরে। একটু আগেই আসিফ আলীকে আউট করে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকা দলটির স্বপ্নে এভাবে জল ঢেলে দিবেন নাসিম শাহ্ তা হয়তো বিশ্বাসই করতে পারছেন না আফগানিস্তান ক্রিকেটার, কোচ কিংবা সমর্থকেরা।

ম্যাচটি বর্ণনা করতে গিয়ে অবিশ্বাস্য! নাটকীয়! শ্বাসরুদ্ধকর, কোন শব্দটির ব্যবহার যথার্থ হবে তা নিয়ে তালগোল পাকিয়েছেন অনেকে।

 

প্রথমে ব্যাট করতে নামা আফগানিস্তানের ইনিংস থাকে ১২৯ রানে। যদিও ব্যাট হাতে দারুণ শুরু করেছিল আফগানিস্তানের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা। পাওয়ার প্লে’তে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৮ রান তুলে আফগানিস্তান। ১০ ওভারে করে ৭২ রান, তখন মাত্র দুই উইকেট। ১৪ তম ওভারের শুরুতে দলীয় ৯১ রানের মাথায় মোহাম্মদ নবী সাজঘরে ফিরলে ধীরগতিতে ঘুরতে থাকে আফগানদের রানের চাকা।

 

শারজায় ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতাটা খুব কঠিন কিছু ছিলো না পাকিস্তানের জন্য। তবে সহজে জেতার ম্যাচটি একেবারে সবচেয়ে কঠিন করেই জিতলো পাকিস্তান।

 

নিজেদের ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম বল খেলতে গিয়ে ফারুকির বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন গোল্ডেন ডাকের স্বাদ পান পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এর আগে মাত্র একবারই গোল্ডেন ডাক মেরেছিলেন বাবর।

 

বাবর আজমের ডাক মারার ঘটনায় অবশ্য পাকিস্তান সমর্থকরা খুশি হওয়ার কথা ছিলো। টি-টোয়ান্টিতে এর আগে বাবর রানের খাতা না খুলে আউট হওয়া সবকটি ম্যাচে জিতেছিল পাকিস্তান। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

 

বাবরের পর দ্রুত ফিরেন ফখর জামানও। এরপর ক্রিজে আসা ইফতেখারকে সাথে নিয়ে ৩৩ বলে ২৪ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিকভাবে বিপর্যের সামাল দেন রিজওয়ান। দলীয় ৪৫ রানের মাথায় ফিরেন সদ্য টি-টোয়েন্টিতে সেরা ব্যাটসম্যানের খেতাব পাওয়া রিজওয়ানও। লেগ স্পিনার শাদাব খান ও ইফতেখার মিলে ৪১ বলে ৪২ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিতে থাকেন।

ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে শাদাব খান।

তবে দলীয় ৮৭ ও ৯৭ রানের মাথায় শাদাব ও ইফতেখারকে ফিরিয়ে ম্যাচে ফিরে আফগানিস্তান।

 

আগের ম্যাচের নায়ক নেওয়াজকে ব্যক্তিগত মাত্র ৫ রানের মাথায় এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ম্যাচে লাগাম টেনে ধরেন ফারুকিরা৷ তবে আসিফ আলীর দুটি ছক্কায় ৮ বলে ১৬ রানের ইনিংসে ম্যাচে ফিরে পাকিস্তান। ১৮.৫ ওভারে আসিফ যখন আউট হলেন তখন দলের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আসেন হাসনাইন।

 

শেষ ওভারের যখন ফারুকি বল করতে এলেন তখনও হয়তো পাকিস্তান ভক্তদের মনের ঈশান কোণে জমেছিল হারের ভয়। অন্যদিকে আফগানিস্তানের সাথে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতও প্রাথর্নায় ব্যস্ত ছিলো পাকিস্তানের হার দেখতে৷ তবে নিজের অভিষেক হওয়ার আগের রাতে মা’কে হারানো পাকিস্তানি পেসার নাসিম শাহ্ তখন হয়তো মনে মনে তার মাকেই ভাবলেন।

 

ফারুকির ইর্য়াকার চেষ্টাকে ফুলটসে পরিণিত করে পরপর দুই বলে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে দূরে থেকে উঁকি দেওয়া জয়কে একেবারে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসলেন।

 

অন্যদিকে আফগানিস্তান সমর্থকেরা তখন ব্যস্ত ছিলেন হতাশার রাজ্যে, জয়টা তাদের “এতো কাছে তবু কেনো দূরে” এই হিসাব মেলাতে।

 

ব্যাট ও বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করায় ম্যাচ সেরার পুরস্কারটি অবশ্য উঠেছে শাদাব খানের হাতে। তবে পাকিস্তান সমর্থকদের মনের নায়ক হিসেবে নাসিম শাহ্ নামটিই উচ্চারিত হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন