আফগান পেসার ফরিদ আহমেদের বলে মারা পুল শটটা ডিপ মিডউইকেট দিয়ে আছড়ে পড়লো সীমানার ওপারে। পূর্ণিমার চাঁদটি যেন আকাশ থেকে নেমে এলো বিরাটের হাতের মুঠোয়। এত আনন্দ কেনো বিরাটের চোখেমুখে? প্রশ্নের উত্তর অবশ্য সবারই জানা। ১০২০ দিনের দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিরাট যে দেখা পেলো কাঙ্ক্ষিত ৭১ তম সেঞ্চুরির। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যা আবার কোহলির প্রথম।

মরুভূমিতে তৃষ্ণাত পথিক যেমন একফোঁটা পানির জন্য ছটফট করতে থাকে বিরাট কোহলির ব্যাটও একই ভাবে কাতরাতে ছিলো একটি মাত্র সেঞ্চুরির খোঁজে।

২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে নিজের ৭০তম সেঞ্চুরি করেছিলেন বিরাট, এরপর কেটে যায় দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। সেঞ্চুরি করাটাকে দুধভাত বানিয়ে ফেলা কোহলি সেঞ্চুরিহীন পার করেন হাজারতম দিন। তার উপর অফফর্ম, টেস্ট ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব হারানো সব মিলিয়ে বিরাট এতটাই ভেঙ্গে পড়েন যে, পাক্কা একটি মাস হাতে নেননি ব্যাট।

দুবাইয়ে চলতি এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে করেন ৩৫, পরের ম্যাচে হংকংয়ের সাথে ৫৯ রানের পর আবারো পাকিস্তানের বিপক্ষে করেন ৬০ রান।

লঙ্কানদের বিপক্ষে হেরে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ম্যাচে বিরাট আউট হন শূন্যরানে। নড়ে চড়ে বসার সুযোগ পান সমালোচকরা। তবে নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করতে বিরাট বেছে নিলেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিয়মরক্ষার ম্যাচটিকে।

আফগান বোলারদের তুলোধুনো করে ৩২ বলেই তুলে নেন ফিফটি। ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে খেলেন মাত্র ২১ বল। ৫৩ বলে তুলে নেন নিজের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম ও সব ধরণের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭১ তম শতক। এতে অবসান ঘটে ১০২০ দিনের এক দীর্ঘ সমময়ের অপেক্ষার।

সব ধরণের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭১ সেঞ্চুরি করে বিরাট ভাগ বসান সাবেক অজি অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের রেকর্ডে৷ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৭১) সেঞ্চুরির রেকর্ডটি এতদিন নিজের দখলে রেখেছিলেন পন্টিং৷ ১০০ শতক করে সবার উপরে আছেন ক্রিকেটের ঈশ্বর খ্যাত শচিন টেন্ডুলকার।

সেঞ্চুরির উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবেই গলায় ঝোলানো লকেটে চুমু খেতে যায় বিরাটকে। পরে কোহলি নিজেই জানান, সেঞ্চুরিটি তিনি করেছেন স্ত্রী ও মেয়ের জন্য।

সেঞ্চুরির পর কোহলি বলেন, ❝গত আড়াই বছর আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এক মাসের মধ্যে ৩৪ পূর্ণ করব আমি। বুনো যে উদ্‌যাপন (সেঞ্চুরির পর), সেগুলো আসলে অতীত এখন। আসলে আমি অবাকই হয়েছি। এ সংস্করণে সেঞ্চুরি পাব, ভাবতেই পারিনি। আসলে অনেক কিছুর সমন্বয় এটি।❞

তিনি আরো যোগ করেন, ❝দল আমাকে সহায়তা করেছে। আমি জানতাম, বাইরে অনেক কিছুই ঘটছে। লকেটে চুমু খেয়েছি; কারণ, আপনি আমাকে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছেন শুধু একজনের জন্যই। সে আমাকে অনেক কিছুই অন্যভাবে দেখতে শিখিয়েছে। সে আনুশকা। আমার এই সেঞ্চুরি তার জন্য, আমাদের ছোট মেয়ে ভামিকার জন্যও। যখন আপনার পাশে বসে কেউ কথাবার্তাকে এভাবে নিতে পারবে, যেমন আনুশকা করেছে…আমি আসলে মরিয়া ছিলাম না। ছয় সপ্তাহে তরতাজা হয়ে এসেছি। বুঝেছিলাম, কতটা ক্লান্ত আমি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, এ বিরতির কারণেই আমার খেলাকে আবার উপভোগ করতে পারছি।❞

কোহলির সেঞ্চুরির পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে বিরাট বন্দনা। অফফর্ম কাটিয়ে সেঞ্চুরি করা কোহলির ব্যাটে শততম শতক দেখার অপেক্ষায় এবার তার সমর্থকরা।


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন