গভীর সমস্যায় পড়েছেন নেপাল ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সন্দীপ লামিচানে। ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে গত মঙ্গলবার (০৬ সেপ্টেম্বর) কাঠমান্ডুর গৌশালা মেট্রোপলিটন পুলিশ সার্কেলে সন্দীপ লামিচানের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। এবার দায়ের করা এই মামলায় স্পিনারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে কাঠমান্ডু জেলা আদালত।

আরও বড় দুঃসংবাদ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর দেশের হয়ে খেলার সুযোগ হারিয়েছেন সন্দীপ লামিচানে। জাতীয় দলের অধিনায়ককে নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব নেপাল।

মাত্র ১৮ বছর বয়সেই দিল্লি ক্যাপিট্যালসের হয়ে আইপিএলের মত বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ পাওয়া সন্দীপ লামিচানে খেলছেন সারা বিশ্বের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট। বলা যায় নেপাল ক্রিকেটের একমাত্র বড় ব্রান্ড সন্দীপ লামিচানে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠায় নড়েচড়ে বসেছে নেপাল পুলিশ। সুষ্ঠ তদন্তের জন্য নেপাল ক্রিকেট বোর্ডও অতি দ্রুত এই লেগ স্পিনারকে সাসপেন্ড করল।

এই ঘটনার পর থেকে লামিচানের কোন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছিল না।  এবার তিনি হাজির হলেন সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সুষ্ঠু বিচারের আবেদন জানিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি নির্দোষ এবং নেপালের সম্মানজনক আইনে সম্পূর্ণ বিশ্বাস রাখি। আমি সিপিএল থেকে ছুটি নিয়ে কয়েকদিনের মধ্যে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি এসব ভিত্তিহীন অভিযোগের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। নির্দোষের জন্য ন্যায়বিচার প্রদান করা হোক এবং জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করা হোক। আশা করি আইন সবার জন্য সমান কাজ করবে।

উল্লেখ্য যে, ১৭ বছরের এক নাবালিকা তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিল। সেই নাবালিকা দাবি করেছে তিনি সন্দীপ লামিচানের একজন ভক্ত। সন্দীপ লামিচানের সাথে তার হোয়াটসঅ্যাপ ও স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে যোগাযোগ হত।সেই যুবতী দাবি করেছে, সন্দীপ লামিচানে যুবতীকে ভক্তপুর সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এবং যুবতী আমন্ত্রণে রাজি হয়ে তার সঙ্গে সফরে যোগ গিয়েছিল। কিন্তু লামিচানে সেদিন সফর শেষ করে ফিরে আসেনি যার ফলে সেই যুবতীও তার হোস্টেলে ফিরতে পারেনি। যার ফলে তাদের দুজনকেই একটি হোটেলে রাত কাটাতে হয়।

যুবতী আরও দাবি করেছে সে লামিচানে আলাদা আলাদা রুমে থাকার কথা বলেছিল। কিন্তু লামিচানে রাজি হয়নি। বরং লামিচানে তাকে মাদকাসক্ত করে দুইবার ধর্ষণ করে।

কাঠমান্ডু পুলিশের কাছে সেই যুবতী এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কাঠমান্ডুর ভ্যালি পুলিশ অফিসারের প্রধান রবীন্দ্র প্রসাদ ধানুক। তিনি আরো বলেছেন, “পুলিশ এই ধরনের গুরুতর ঘটনার প্রতি সংবেদনশীল আমরা তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছি এবং তদন্ত শুরু করেছি।”

 


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন