সাকিব আল হাসান বরাবরই নিজেকে রেখেছেন আলোচনা-সমালোচনার টেবিলে ‘হটকেক’ হিসেবে, সম্প্রতি বেটউইনার নামক একটি পোর্টালের সাথে স্পন্সরশীপ চুক্তি করেন সাকিব। যা নিয়ে চারদিকে উঠে সমালোচনার ঝড়। সমালোচনা হওয়াটাও স্বাভাবিক। বেটউইনার নামক পোর্টালটি বেটিং সাইট থেকে একেবারে মুক্ত এমনটাও যে নয়। বিসিবিকে না জানিয়ে এমন চুক্তি করায় খেপেছেন বিসিবি সভাপতিও।

দরজায় কড়া নাড়ছে এশিয়া কাপ, অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পারেনি এখনও দল ঘোষণা করতে। দলের অধিনায়ক নির্ধারণ করতে। হয়তো এতটা বেকায়দায় বিসিবিকে পড়তে হতো না, তবে নামটা সাকিব আল হাসান বলে বিসিবিও চাইলেই হুটহাট সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

তবে সাকিব বনাম বিসিবি ইস্যুতে বিসিবি বস নাজমুল হাসান পাপন এখনও আছেন নিজের আগের অবস্থানে। আগের অবস্থানে অটল সাকিবও। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে তাই এখনো ঝুলে আছে বাংলাদেশের এশিয়া কাপের জন্য দল ঘোষণার কাজ।

আজ বিসিবিতে সাকিব ইস্যুতে হয়েছে শ্বাসরুদ্ধকর এক বৈঠক। বৈঠক শেষে নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন বিসিবির পরিস্কার অবস্থানের কথা। সাকিব তার অবস্থান থেকে সরে না এলে সাকিবকে৷ দল থেকে বাদ দিতে দ্বিতীয়বার ভাববে না বিসিবি।

নাজমুল হাসান পাপন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ❝এখানে দ্বিতীয় চিন্তা করার কোনো সুযোগ নেই। বিসিবি প্রথম থেকে যে অবস্থায় ছিল, এখনো তাই আছে। তখনই আমি বলেছিলাম, এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। বিসিবি কোনোভাবেই এটা গ্রহণ করবে না। যে কারণে আশরাফুলের মতো খেলোয়াড়কেও আমাদের বাদ দিতে হয়েছে।’ তাঁর কথায় পরিষ্কার—সাকিব বেটউইনার নিউজের সঙ্গে চুক্তি থেকে সরে না এলে তাঁকে ছাড়াই হবে এশিয়া কাপের বাংলাদেশ দল।❞

বেটিং সাইটের সাথে চুক্তি নিয়ে সাকিবের সাথে কোনো প্রকার আপোষের সুযোগ নেই বলে জানান পাপান, সাকিবকে হয় বাংলাদেশের জন্য খেলা বা বেটিং সাইটের সাথে চুক্তি দুটির যেকোনো একটি বেছে নিতে বলেন তিনি।

‘এটা নিয়ে আলোচনার কিছু নেই। এটা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া। এটা খুবই পরিষ্কার। ওরা বেটিং সাইটের “সারোগেট”, এ নিয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই। ওরা মূলত একটা বেটিং কোম্পানি যারা জুয়া, ক্যাসিনো, বেটিং এগুলো নিয়ে জড়িত। আপনারা বলতে পারেন এটা তো নিউজ পোর্টাল। কিন্তু বেটউইনার তো জুয়ার অংশ। আমরা বলেছি সম্পর্কই থাকতে পারবে না। সাকিব দেশের জন্য খেলবে নাকি বেটিংয়ে থাকবে এটা তার সিদ্ধান্ত। এখানে বোঝানোর কিছু নেই।’


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন