জৈষ্ঠ্যের তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ মানুষগুলো এক পলশা বৃষ্টিতে যেমন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে তেমনি এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে অস্থির লঙ্কায় কিছুটা স্বস্তি এনে দিলো দানুস শানাকার শ্রীলঙ্কা।

এশিয়া কাপের ফাইনালে আজ পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে নিজেদের ষষ্ঠ শিরোপা ঘরে তুলে শ্রীলঙ্কা। অথচ টুর্ণামেন্টের শুরুতো দলটিকে গোনায়ও ধরেনি ক্রিকেটবোদ্ধরা। আফগানদের বিপক্ষে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা লঙ্কানরা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের মতো দলকে হারিয়ে নিশ্চিত করেছিল ফাইনাল। পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে দুইবার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখে শিরোপা জিতে দানুস শানাকার দল।

এশিয়া কাপে এবারের আসরে টস জেতা দল আগে বোলিং নিয়ে পরে ব্যাট করে রান তাড়া করে জিতেছে বেশিরভাগ ম্যাচ। তাই ম্যাচ শুরুর সময় পাকিস্তানের বাবার আজম টস জিতলে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন ফাইনালটা পাকিস্তান জিতে নিবে। তবে টস জেতা মানেই অর্ধেক ম্যাচ জেতা এমন অদ্ভুদ সমীকরণকে পাশ কাটিয়ে দুই দুইবার ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের বন্দরে তরী ভেড়ালো লঙ্কানরা।

 

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র তৃতীয় বলেই কুশল মেন্ডিসের উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। রানের খাতা না খুলেই কুশল যখন সাজঘরে ফিরছিলেন দলের রান তখন মাত্র দুই।

 

৮.৫ ওভারে ৫৮ রান তুলতেই ৫ উইকেট নেই লঙ্কানদের। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, আফগানদের বিপক্ষে দলকে ম্যাচ জিতিয়ে আসা লঙ্কান অধিনায়ক দানুস শানাকা ফিরেন মাত্র ২ রানে। তবে ষষ্ঠ উইকেটে হাসরাঙ্গার সাথে ৩৬ বলে ৫৮ ও সপ্তম উইকেটে করুণারত্নের সাথে ৩১ বলে ৫৪ রানের জুটিতে রাজাপাকসা দলকে টেনে আনেন খাদের কিনার থেকে। ৪৫ বলে ৭১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে স্কোরকার্ডে জমা করেন ১৭০ রান।

 

১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলো পাকিস্তান। তবে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বল করতে এসে পরপর দুই বলে লঙ্কান পেসার প্রমোদ মাদুশান ফেরান অধিনায়ক বাবর আজম ও ফখর জামানকে তখন পাকিস্তানের টান ছিলো ২২। তৃতীয় উইকেটের জুটিতে ইফতেখারকে নিয়ে ৫৯ বলে ৭১ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরান সদ্য টি-টোয়েন্টিতে শীর্ষে উঠা রিজওয়ান। দলীয় ৯৩ রানের মাথায় ইফতেখারকে সাজঘরে ফিরিয়ে ভয়ংকর হতে থাকা জুটি ভাঙ্গেন প্রমোদ মাদুশান। ইফতেখারের উইকেট হারানোর পর দুই ওভারের মাথায় আউট হন পাকিস্তানকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকা রিজওয়ানও। ৪৯ বলে ৫৫ রান করে হাসরাঙ্গার বলে ক্যাচ দিয়ে রিজওয়ান যখন সাজঘরে ফিরছিলেন তখনই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে শ্রীলঙ্কা। রিজওয়ানকে ফিরিয়েই থামেননি হাসরাঙ্গা। একই ওভারে আসিফ ও খুশদিল শাহ্কে ফিরিয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন এই লেগস্পিনার।

এরপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি লঙ্কানদের। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৭ রানে পাকিস্তানকে অলআউট করে নিজেদের ষষ্ঠ এশিয়া কাপ শিরোপা জিতে শানাকার দল।

 

ব্যাট হাতে দূর্দান্ত খেলায় লঙ্কান ব্যাটার রাজাপাকসের হাতে উঠে ফাইনাল সেরার পুরুষ্কার। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট ও বল হাতে আলো ছড়িয়ে টুর্ণামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতে নেন লঙ্কান লেগস্পিনার হাসরাঙ্গা।


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন