বাফুফের লিগ কমিটি প্রতিবারই লিগ শুরু করতে গিয়ে নানান সমস্যার সম্মুখীন হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নির্ধারিত সময়ে লিগ শুরু করলেও প্রথমে সাত ভেন্যুতে আয়োজন করার কথা বলে আসা বাফুফে ভেন্যু সংখ্যা কমিয়ে আনে চারে।

বসুন্ধরা কিংসের নিজস্ব মাঠ কিংস অ্যারেনা, টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম, আর্মি স্টেডিয়াম ও মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম-এই চার ভেন্যুতে লিগ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

পরে নানান জটিলতায় বাদ পড়ে আর্মি স্টেডিয়াম। লিগ শুরুর দুইদিন আগে লিগ কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় কিংস অ্যারেনাও বাদ দেওয়ার।

দুটি ভেন্যু নিয়ে লিগ শুরু করার পর মাঝপথে উপায় না থাকায় শেষমেশ বসুন্ধরার কিংস অ্যারেনাকে আবারও ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা করে লিগ কমিটি।

এরপর অবশ্য বাজে রেফরিং ছাড়া তেমন বড় কেনো সমস্যায় পড়তে হয়নি লিগ কমিটিকে।

চলুন এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সদ্য সমাপ্ত বিপিএলের খুটিনাটি সব বিষয়ঃ

চ্যাম্পিয়নঃ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে প্রথম ম্যাচে নবাগত স্বাধীনতার কাছে হেরে লিগ শুরুর করা বসুন্ধরা কিংস মোট ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। লিগে এ নিয়ে টানা তিন আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো দলটি।

চ্যাম্পিয়ন ট্রফি হাতে বসুন্ধরা কিংসের উল্লাস

রার্নাসআপঃ ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপ জিতে ট্রেবল জেতার লক্ষ্যে লিগ শুরু করা আবাহনী লিমিটেড চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস থেকে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে হয় রার্নাসআপ।

রার্নাসআপ ট্রফি হাতে আবাহনীর খেলোয়াড়রা।

সর্বোচ্চ গোলদাতাঃ ২০ গোল নিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর পিটার থ্যাংকগড এক প্রকার পুরুষ্কারটি নিশ্চিত জয়ের স্বপ্ন বুনছিলেন, তবে শেষ ম্যাচে ঢাকা মোহামেডানের অধিনায়ক সলোমান দিয়াবাতে চার গোল করে মোট ২১ নিয়ে লিগের সর্বোচ গোলদাতার খেতাব জিতে নেয়।

সর্বোচ্চ গোলদাতা সলোমন দিয়াবাতে।

সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টঃ বসুন্ধরা কিংসের হয়ে রবসন রবিনিহো সর্বোচ্চ ১১ গোলে অ্যাসিস্ট করেন এবারের লিগে।

ব্রাজিলিয়ান তারকা রবসন।

দেশীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাঃ ৬ গোল করে দেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন এলিটা কিংসলে। পাঁচটি করে গোল করেছেন আবাহনীর নাবীব নেওয়াজ জীবন ও বসুন্ধরা থেকে মুক্তিযুদ্ধোয় লোনে যাওয়া ওবায়দুর রহমান নবাব, সাইফের ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও ঢাকা আবাহনীর জুয়েল রানা।

এলিটা কিংসলে।

দেশীয় সর্বোচ্চ অ্যাসিষ্টঃ দেশিদের হয়ে ১০ টি গোলে অ্যাসিস্ট করেন সাইফ স্পোর্টিংয়ের ফয়সাল আহমেদ ফাহিম।

তরুণ তারকা ফয়সাল আহমেদ ফাহিম।

হলুদ কার্ডঃ এবার লিগে মোট হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে মোট ৪৪৬ টি।
দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি হলুদ কার্ড দেখেছে মুক্তিযোদ্ধার ফুটবলাররা।মোট ৪৭ টি হলুদ কার্ড দেখেছে দলটি।

ফুটবলারদের মধ্যে শেখ রাসেলের আয়জার আকমাটভ, স্বাধীনতার শাকিল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধার তারেক মিয়া ও সাজন মিয়া সর্বোচ্চ ৭ বার হলুদ কার্ড দেখেছেন।

লাল কার্ডঃ মোট ৩২ লাল কার্ডের মধ্যে লিগে সর্বোচ্চ ৫ টি লাল কার্ড দেখেছে মোহামেডান ফুটবলাররা। ফুটবলারদের মধ্যে মোহামেডানের মাসুদ রানা ও শেখ জামালোর ওতাবেক লাল কার্ড দেখেছেন দুইবার।

সর্বোচ্চ ক্লিনশিটঃ লিগে সর্বোচ্চ ১১ টি ক্লিনশিট রেখেছেব বসুন্ধরা কিংসের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০ টি ক্লিনশিট রেখেছে পুলিশের নেহাল ও আবাহনীর শহিদুল আলম সোহেল।

আনিসুর রহমান জিকো।

এবারের লিগে মোট ১৩২ ম্যাচে গোল হয়েছে ৪৪৭ টি। যা বিপিএল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ম্যাচ প্রতি গোল সংখ্যা ৩.৩৯ শতাংশ।

হোম ম্যাচে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে ৭-০ গোলে মোহামেডান জিতেছে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে।

অ্যাওয়ে ম্যাচে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় সাইফের ৭-০ উত্তর বারিধারার বিপক্ষে।

এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি গোল হয়েছে দুটি ম্যাচেঃ

সাইফ স্পোর্টিং ৫-৩ উত্তর বারিধারা

রহমতগঞ্জ ৭-১ মুক্তিযোদ্ধা

এবারের আসরে সেরা খেলোয়াড় ও সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা করেনি বাফুফে, তবে পুরুষ্কার দুটি যে বসুন্ধরা কিংসের ব্রাজিলিয়ান তারকা রবসন রবিনহো ও সাইফ স্পোর্টিংয়ের তরুণ তুর্কি ফয়সাল আহমেদ ফাহিম জিততো তা নিয়ে দ্বিমত পোষণ হয়তো কেউ করবে না।


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন