ক্রিকেট হোক কিংবা ফুটবল দলীয় খেলায় দুই-একজনের কাঁধে বড় করে বড় জোর দুই/তিনটি ম্যাচ জেতা যায় তবে টুর্নামেন্ট জিততে হলে দরকার দলীয় পারফরম্যান্স। যে দলের দলীয় পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা থাকবে টুর্ণামেন্টের শিরোপা তারাই জিতবে, এশিয়া কাপ শিরোপা জিতে কথাটির যথার্থতা আবারো প্রমান করলো শ্রীলঙ্কা।

দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এশিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরু হওয়ার আগে শিরোপা জয়ী দল হিসেবে ধরা হচ্ছিলো ভারত ও পাকিস্তানের নাম। কারণ ভারতের বিরাট কোহলির অফফর্ম থাকলেও সূর্যকুমার যাদব, রোহিত শর্মা, কেএল রাহুল, হার্দিক পান্ডিয়াদের সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন সবাই। ভারতের একজন ক্রিকেটারই ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য রাখে এমন মন্তব্যে তর্কে যাওয়ার সুযোগ খুবই কম।

আরেক ফেভারিটের তকমা ছিলো যে পাকিস্তান দলে, সেখানেও ছিলেন এশিয়া কাপ শুরু হওয়ার আগে টি-টোয়েন্টিতে সেরা শীর্ষে থাকা বাবর আজম, টুর্ণামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করা রিজওয়ান, তাছাড়াও ছিলেন বড় বড় ছক্কা হাঁকানোর সামর্থ্য রাখা আসিফ আলী।

ভারত-পাকিস্তানের পর ফেভারিট হিসেবে ধরা হয়েছিল আফগানিস্তানকে। হার্ডহিটার ব্যাটার হজরাতুল্লাহ্ জাজাই, অলরাউন্ডার নবী, অফস্পিনার মুজিবুর কিংবা লেগ স্পিনার রশিদ খান, এদের মধ্যে কেউ একজন জ্বলে উঠলেই আফগানদের আটকানো কঠিন হতো।

সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙ্গে এমন ভবিষ্যৎ বাণীও করেছেন অনেকে। তবে দুবাইয়ে টুর্ণামেন্ট হলেও আয়োজক স্বত্ব ছিলো যে লঙ্কানের সে দলটিকে গোনায়ও ধরে নি কেউ। কারণ একটাই। বাকি দলগুলোর মতো লঙ্কান শিবিরে ছিলো না বড় কোনো তারকা ক্রিকেটারের নাম। প্রথম ম্যাচে আফগানদের কাছে হারার পর শ্রীলঙ্কা শিরোপা জিতবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি হয়তো।

তবে দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থাকা শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে ঠিক যেভাবে প্রতিরোধ গড়তে হয় সে কাজটি করেছে দলের সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।

দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে সুপার ফোরে একে একে হারায় আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তানকে। প্রতিটি ম্যাচে ছিলো পুরো দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্স। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দানুস শানাকা। ফাইনালেও একই চিত্র।

লঙ্কান অধিনায়ক দানুস শানাকা

দুবাইয়ে টস জিতলেই অর্ধেক ম্যাচ জেতা হয়ে যায় এমন সমীকরণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দুইবার ঘুরে দাঁড়ানোর কাব্য রচনা জিতে নেয় এশিয়া শ্রেষ্ঠত্বের খেতাব। মরুভূমির বুকে লঙ্কানদের শিরোপা উৎসব আরো একবার দুই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় তারকা খেলোয়াড়রা ম্যাচ জেতাতে পারে, শিরোপা জিততে হলে দরকার দলীয় পারফরম্যান্স ও দানুস শানাকার মতো যোগ্য নেতা।


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন