ব্রাজিলিয়ান খেলোয়ারদের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে উঠে আসার গল্প নতুন কিছু নয়। আগেকার পেলে, গারিঞ্চা, রোমারিও, রোনালদিনহো থেকে শুরু করে হালের গ্যাব্রিয়েল জেসুস, নেইমার, এন্থনিদের গল্প প্রায় একই রকম।

এর ব্যতিক্রম ঘটেনি  থেকে বার্সেলোনাতে সদ্য যোগ দেওয়া রাফিনিয়ারও। এই মৌসুম চেলসির সঙ্গে দর কষাকষিতে এগিয়ে ৬০ মিলিয়নে বার্সেলোনা দলে ভেড়ায় এই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে।

১৯৯৬ সালে ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রি শহরের জন্ম হয় রাফিনিয়ার। এই একই শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান আর এক লিজেন্ডস রোনালদিনহোও‌। ব্রাজিলের অন্যতম জনবহুল শহর এটি। সেখানেই রাফিনিয়াকে ক্ষুধা ও দারিদ্রতা নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়েছে।

রাফিনিয়া তার একটি সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন সম্পর্কে বলেছেন, “সত্যি বলতে এটা বলা আমার জন্য অনেক কঠিন। আমি ক্ষুদা এবং দারিদ্রতা নিয়ে মানুষকে বাঁচতে দেখেছি। কিন্তু সেখানে বেশিরভাগ মানুষই প্রলোভনের লোভে পড়ে বিপথগামী হয়ে হয়েছে।

আমি অনেক মানুষকে দেখেছি তারা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছে ভালো পথ বেছে নেওয়ার। কিন্তু কোন এক মুহূর্ত তাদের জীবনকে পাল্টে দিয়েছে। আমিও প্রলোভনের শিকার হয়েছি বহুবার, কিন্তু আমি জানতাম আমি কি চাই।

আমি আমার লক্ষ্যকে স্থির করেছিলাম যে আমি একজন ফুটবলার হতে চাই। এজন্যই আমি আমার এলাকা ছাড়ি। কিন্তু আমার স্বপ্নটা ছিল সবচেয়ে বড় পর্যায়ে খেলার।

আমি আমার অনেক বন্ধুকে হারিয়েছি। তারা আমার থেকে দশগুণ বেশি প্রতিভাবান ছিল। তারা চাইলেই বিশ্বের যে কোন বড় ক্লাবে খেলতে পারতো। কিন্তু মাদক ব্যবসা ও মাদক আসক্তিতে জড়িয়ে তারা তাদের জীবন ধ্বংস করে ফেলেছে।

সেখানে থাকা অবস্থায় আমার প্রতিটা পদক্ষেপেই ছিল মাদক এবং অর্থের ফাঁদ। আমার পরিবারের জন্যই আমি এতদূর আসতে পেরেছি। তারা সবসময়ই আমাকে সাহায্য করেছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন