এইতো বছর খানেক আগেও অনলাইন কিংবা অফলাইনে ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন লিটন কুমার দাসের রানের সাথে মিল রেখে নানানরকমের অফার দেওয়ার৷ প্রতিটি সিরিজের দল ঘোষণার সময় লিটনের নাম দেখে সমালোচনার ঝড় উঠতো, ব্যাট হাতে ব্যর্থ লিটনকে নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলো ক্রিকেট প্রেমিরা৷ শুধু ব্যক্তিগত আক্রমন নয়, লিটনকে কি হিন্দু কৌটায় খেলেন? এমন প্রশ্নও করা হতো অহরহ।

অথচ বছর ঘুরতেই লিটনের সমালোচনাগুলো সব রূপ নিয়েছে প্রশংসায়, হের্টাস থেকে ফ্যান হয়েছেন অনেকে। ব্যাট হাতে নিজেকে নিয়েছেন এক অনন্য উচ্চতায়। তিন ফরমেটেই পরিণিত হয়েছেন দলের প্রাণভোমরা হিসেবে। ওপেনিং থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার সব জায়গায় ব্যাট হাতে নির্বাচক, কোচ ও সমর্থকদের আস্থার প্রতীক হয়েছেন তিনি।

লিটন যখন আলো ছড়াচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ঠিক তখনই জ্বলে উঠতে চাওয়া নাজমুল হাসান শান্ত নামের সূর্যটি অস্ত যাওয়ার পথে। কোচ থেকে নির্বাচকরা বারবার তার কাঁধে আস্থার হাত রাখলেও ব্যাট হাতে ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছেন শান্ত।

নয়টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা শান্তের ব্যাট একেবার নামের ন্যায় শান্ত। ১৭ গড়ে মোট রান ১৪৮। স্ট্রাইক রেটেরও করুণ অবস্থা, ১০৪.২২। নয় ম্যাচে ডজনখানেক চার মারলেও শান্তের ব্যাটে ছক্কা এসেছে মাত্র একটি। বিপিএলেও শান্তের পারফরম্যান্স একদম সাদামাটা শান্তশিষ্ট। ১১ ম্যাচে ২০ গড়ে মোট রান ১৮৮। স্ট্রাইক রেট ৯১.৭০।সর্বোচ্চ ৪৫।

ব্যাট হাতে বারবার ব্যর্থ শান্তকে দলে নেওয়ায় সমালোচনার তীরে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে নির্বাচকদের অবস্থান। নতুন কনসালটেন্ট শ্রীরাম জানান পারফরম্যান্স নয়,ম্যাচে শান্তের ইমপ্যাক্টের জন্য রাখা হয়েছ দলে। শান্ত কি আসলেই পারবেন দলে ইমপ্যাক্ট রাখতে? শান্তের ব্যাট কি হাসবে ত্রিদেশীয় সিরিজ কিংবা বিশ্বকাপের মঞ্চে? শান্ত কি পারবেন আরেকজন লিটন কুমার দাসের হতে? ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙ্গে সমালোচনার জবাব দিয়ে শান্তের ব্যাটে কি রানের বন্যা বয়ে যাবে?

প্রশ্নগুলো আপাতত এক পাশে রেখে অপেক্ষা করুন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য। কারণ সকল প্রশ্নের উত্তর মিলবে সেখানে।


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন