শচীনননননননননন! শচীন!

 

স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শকদের এমন চিৎকার না শুনে থাকলে আপনি আসলে কখনো ক্রিকেটই দেখনি।

এমন একটি কথা বেশ প্রচলিত ক্রিকেট অঙ্গনে। কথার কথা হলেও ব্যাপারটা আপনি মোটেও অস্বীকার করতে পারবেন না। কারণ ৫ ফুট ৫ ইঞ্চির এই ভারতীয় ক্রিকেটার শুধু ভারতবর্ষে নয়, জনপ্রিয় ও পূজনীয় সারা ক্রিকেট বিশ্বে। ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষের বোলারদের তুলোধুনো করা এই ভারতীয় কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন রেকর্ডের এভারেস্ট সমান চূড়ায়। তাইতো ভালোবেসে তাকে ডাকা হয় ক্রিকেটের ঈশ্বর।

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক টেন্ডুলকারের মোট রান ৩৪ হাজার ৩৫৭। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শতকের শতকও আছে একমাত্র এই ক্রিকেটারের। ওয়ানডে ক্রিকেটে ন্যূনতম দশ হাজার রান, ১০০ উইকেট আর ১০০ ক্যাচ নেওয়ার অনন্য রেকর্ড শুধু টেন্ডুলকারেরই আছে। বিশ বছর বয়স হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঁচটা সেঞ্চুরি করেছিলেন টেন্ডুলকার। এমন সব রেকর্ডের মালিক শচীন শুধু ব্যাট হাতেই রাজত্ব করেছেন তা ভাবলে ভুল হবে। বরং বল হাতেও শচীন টেন্ডুলকার ছিলেন অনবদ্য, অসাধারণ ও কার্যকারী।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষের বোলারদের উপর তান্ডব চালানো শচীন, কেমন ছিলেন বল হাতেঃ

 

টেস্টে সর্বোচ্চ ২০০ ম্যাচ খেলা শচীন বল করেছেন মোট ১৪৫ ইনিংসে।মোটামুটি অর্ধেক বলা যায়। এই ১৪৫ ইনিংসে ৭০৬.৪ ওভার বল করে ৩.৫২ ইকোনোমি, ৫৪.১৭ গড় আর ৯২.১ স্ট্রাইক রেটে উইকেট নিয়েছেন ৪৬টি।

 

এক ইনিংসে শচীন সর্বোচ্চ বল করেছেন ৩৪ ওভার। মে ২০০২-এ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সেই ইনিংসে ৩৪ ওভার বল করে ২ উইকেট নেন শচীন। এক ইনিংসে শচীনের সর্বোচ্চ শিকার ৩ উইকেট, ২০০০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মুম্বাইয়ে এবং পরের বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ায়। এ দুটি ইনিংসে শচীন বল করেছেন ৫ ওভার আর ১১ ওভার।

 

একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে বল হাতে আরো বেশি উজ্জ্বল ছিলেন শচিন, ক্রিকেটের এই সংস্করণে পাকিস্তানের দুর্দান্ত ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতার, দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ডেল স্টেইন এবং ইংল্যান্ডের পেস স্টুয়ার্ট ব্রডের চেয়ে বেশি বোলিং করেছেন শচীন টেন্ডুলকার।একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৩৪২ ওভার বোলিং করেছেন তিনি, যেখানে শোয়েব আখতার ওয়ানডে ক্রিকেটে বল করেছেন মোট ১২৯৪ ওভার।

 

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শচীন ম্যাচ খেলেছেন মোট ৪৬৩টি ম্যাচ এবং বল করেছেন ২৭০ ইনিংসে। উইকেট পেয়েছেন ১৫৪ টি।
ক্রিকেটের এই সংস্করণে শচীনের নামের পাশে আছে ২টি ৫ উইকেট আর ৪টি ৪ উইকেট শিকারের কীর্তি। ৫ উইকেট দুটি অস্ট্রেলিয়া আর পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের কচিতে। ৪ উইকেট আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এই ফরমেটে শচীনের সেরা বোলিং ফিগার ৫/৩২, গড় ৪৪.৪৮, স্ট্রাইক রেট ৫২.২ আর ইকোনোমিটা ৫.১০।

 

নিজের খেলা একমাত্র আন্তর্জাতিক টি২০ তেও বল করেছিলেন শচীন। অজিত আগারকারের ইনজুরিতে তার রেখে যাওয়া ওভারের ৩ বলসহ আরও ২ ওভার বল করেন তিনি। সে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জাস্টিন কেম্পকে ২২ রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার।
সব ধরনের টি২০তে সব মিলিয়ে শচীন বল করেছেন ৯৩ বল, উইকেট দুটি। ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে শচীনের উইকেট সংখ্যা ৭১ আর লিস্ট-এ তে সংখ্যাটা ২০১।

 

 

ওয়ানডে ম্যাচের ৫০তম ওভারে ছয় বা তার কম রান ডিফেন্ড করার রেকর্ডেও সবার ওপরে রয়েছেন বোলার শচীন। তাও একবার নয়, দুই-দুইবার এ কীর্তি দেখিয়েছেন তিনি। যা নেই বিশ্বের অন্য কোনো বোলারের।

১৯৯৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল কর্তৃক আয়োজিত জুবিলি টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচে ভারতের করা ১৯৫ রানের জবাবে শেষ ওভারে ৫ রান দরকার ছিলো প্রোটিয়াদের। তবে হাতে ছিল দুইটি উইকেট।

বল হাতে শচীন একটি রানআউটসহ মাত্র ৩ রান খরচ করে দলকে এনে দেন দুই রানের অবিশ্বাস্য এক জয়।

 

দ্বিতীয়বার এই কৃতি গড়েন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, মোহালিতে। তবে এদিন বোলার শচীনকে খুব বেশি কিছু করতে হয়নি। ভারতের করা ২৮৯ রানের জবাবে ৪৯ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিলো ৯ উইকেটে ২৮৪ রান।

ফলে শেষ ওভারে তাদের জয়ের জন্য ছয় রান, হাতে একটিমাত্র উইকেট। এবার অধিনায়ক ছিলেন শচিন নিজেই। রবিন সিংকে না দিয়ে নিজেই নেন শেষ ওভারের দায়িত্ব। প্রথম বলেই উইকেটরক্ষক দীনেশ মঙ্গিয়ার সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন ব্র্যাড হগ। ভারত পায় ৫ রানের জয়।

 

ব্যাট হাতে ক্রিকেটের বরপুত্র নামে পরিচিত শচীনের ইচ্ছে ছিলো পেসার হওয়ার। তবে ১৯৮৭ সালে ডেনিস লিলি-র পেস ফাউন্ডেশন থেকে বাতিল হয়ে যান তিনি। ছোট চেহারার শচীনকে সেটিন লিলি পরামর্শ দেন পেস বোলার নয়, ব্যাটসম্যান হওয়ার।

তবে পেসার হতে না পারলেও হয়েছিলেন পার্টটাইমার অফ স্পিনার। পার্টনারশিপ ভাঙার জন্য আজহার থেকে সৌরভ, এমনকি ধোনিও বিপদে পড়লে বল তুলে দিয়েছিলেন মাস্টার ব্লাস্টারের হাতে। সবসময় অধিনায়কদের আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন শচীন।


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন