ব্রিস্টলের কাউন্টি গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। দু’দলের প্রথম ম্যাচটিতে উভয়পক্ষের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং ঝড়ে দেখা দেয় রানের বন্যা। দুই ইনিংসে মোট রান হয়েছে ৪২৭। ওভারের দিকে না থাকালে স্কোরকার্ড দেখে বুঝার কোনো উপায় নেই ম্যাচটি ওয়ানডে নয়, টি-টোয়েন্টি ফরমেটে ছিলো।

 

টসে জিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানিয়ে যেন এক মহাভুল করে বসেন আফ্রিকান অধিনায়ক ডেভিড মিলার।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড দলীয় ২৮ রানে জস বাটলার ও ৪১ রানে জ্যাসন রয়ের উইকেট হারায়। এরপর ক্রিজে থাকা দাওয়িদ মালান ও জনি বেয়ারস্টো তুলোধুনো করা শুরু করেন আফ্রিকান বোলারদের। দুই জনের মারমুখী ব্যাটিংয়ে ১১.৫ ওভারেই ১১২ রান তুলে ইংল্যান্ড এরপর মালান বিদায় নিলে উইকেটে আসেন মঈন আলী। মঈন-বেয়ারস্টো জুটি ছিলো তার আগের জুটির চাইতেও ভয়ানক। দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে আফ্রিকান বোলাররা৷ মাত্র ৩৭ বলে মঈন-বেয়ারস্টো জুটি স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ১০৬ রান। এক ওভারে আসে ৩৩ রান। দলীয় ২১৮ রানের মাথায় আলীকে ফিরিয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এই জুটি ভাঙেন লুঙ্গি এনগিদি।

আউট হওয়ার আগে মাত্র ১৮ বলে ২ চার ও ৬ ছক্কায় ৫২ রান করেন মঈন আলী। ১৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়েন তিনি।

শেষ ওভারের পঞ্চম বলে ২৩৩ রানের মাথায় সেঞ্চুরি থেকে ১০ রান দূরে থাকতে আউট হন বেয়ারস্টো। তিনি মাত্র ৫৩ বলে ৩টি চার ও ৮ ছক্কায় ৯০ রান করেন।

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৩৪ রান সংগ্রহ করে ইংলিশরা। টি-টোয়েন্টিতে যা তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ২৩৪ রানের ইনিংসে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা মোট ২০টি ছক্কা হাঁকান। যা তাদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ।

২৩৫ রানের এভারেস্ট সমান লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দুটি উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসে আফ্রিকান ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু দলের বিপর্যয় সামাল দেন রেজা হেনড্রিকস ও হেনরিক ক্লাসেন। ৬৫ রানের জুটি গড়ে আউট হওয়ার ক্লাসেন করেন ২০ রান। দলীয় ৮৬ রানের মাথায় আউট হোন হেনড্রিকস। ৩৩ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। স্বাগতিকরা যখন জয়ের আনন্দ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে তখনই জ্বলে উঠেন আফ্রিকান তরুণ অলরাউন্ডার স্টাবস। ২৮ বলে ২টি চার ও ৮ ছক্কায় ৭২ রানের এক খুনে ইনিংস খেলে লড়াই জমজমাট করার আভাস দেন। তবে ১৮৪ রানের মাথায় তিনি আউট হলে ১৯৩ রানের বেশি করতে পারিনি সফরকারীরা।

অলরাউন্ড নৈপূণ্য দেখিয়ে ম্যাচসেরা হন মঈন আলী।

আজ বৃহস্পতিবার রাতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হবে দল দুটি।


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন