আফগানিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে মুশফিক, রিয়াদের পর তৃতীয় বাংলাদেশী হিসেবে শততম ম্যাচ খেলবেন সাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশ একাদশঃ

নাইম শেখ,এনামুল হক,সাকিব আল হাসান,আফিফ হোসেন,মুশফিকুর রাহিম,মোসাদ্দেক হোসেন,মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ,মেহেদী হাসান,মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন,তাসকিন আহাম্মেদ,মোস্তাফিজুর রহমান।

আফগানিস্তান একাদশ

রহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহীম জাদরান, হজরতউল্লাহ জাজাই, নাজিবুল্লাহ জাদরান, মোহাম্মদ নবী (অধিনায়ক), করিম জানাত, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, রশিদ খান, ফজলহক ফারুকি, নভিন উল হক, মুজিব উর রহমান।

শুরুতে মুজিবের জোড়া আঘাতঃ

নিজের প্রথম দুই ওভারে বাংলাদেশের দুই ওপেনার নাইম শেখ ও এনামুল বিজয়কে ফেরান মুজিবুর রহমান

মুজিবের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরলেন নাইম শেখ। সাজঘরে ফেরার আগে ৮ বলে করেন ৬ রান। নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে এই আফগান অফস্পিনার এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয়কেও। ১৪ বলে মাত্র ৫ রান করে প্যাভিলয়নের পথ ধরেন বিজয়।

পাওয়ার প্লে’তে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের পুরাতন চিত্রঃ

এশিয়া কাপে সাকিব আল হাসানের দল শুরু করতে চেয়েছিলো নতুন ভাবে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা সাকিবের দল পাওয়ার প্লেতে পড়ে রইলো এখনো সেই আগেরকার দিনে। এক মুজিবেই লন্ডভন্ড টাইগারদের ব্যাটিং লাইন আপ। নাইম, বিজয়ের পর নিজের তৃতীয় ওভারে সাকিবকেও প্যাভিলিয়নে পাঠান আফগান স্পিনার।

প্রথম দশ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫০/৪

টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় প্রথম দশ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৫০ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। নাইম, বিজয়, সাকিবকে ফেরান মুজিব। আরেক অভিজ্ঞ মুশফিককে ফেরান রশিদ খান।

দাঁড়াতে পারলেন না আফিফওঃ 

সিনিয়রদের দেখানো পথে হাঁটলেন তরুণ আফিফও। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারলেন না এলবিডব্লু হওয়া আফিফ। স্পিনার রশিদ খানের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরার আগে ১২ বলে খেলেন ১৫ রানের ইনিংস।

তিন অঙ্কের ঘরে বাংলাদেশের রান,ফিরলেন রিয়াদওঃ

মুজিব-রশিদদের স্পিন বিষে নীল হয়ে দিশেহারা বাংলাদেশ দলের হাল ধরেছিলেন সাবেক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেন৷ দুই ডানহাতির ৩১ বলে ৩৬ রানের পার্টনারশিপে ভর করে শতরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো বাংলাদে। তবে দলীয় ৮৯ রানে ব্যক্তিগত ২৫ বলে ২১ রান করে রশিদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন রিয়াদ।

মোসাদ্দেক হোসেনের লড়াইয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১২৭ঃ

নাইম,বিজয় থেকে সাকিব, মুশফিক কিংবা আফিফরা যখন দাঁড়াতে পারেনি আফগান বোলারদের সামনে। তখন মুদ্রোর উল্টো পিঠ দেখা গেলো মোসাদ্দেক হোসেনের ব্যাটে। বুক চিতিয়ে লড়াই করে ৩১ বলে ৪৮ রান করে দলকে ১২৭ রানের পুঁজি এনে দেন এই অলরাউন্ডার। তাকে সঙ্গ দিয়েছিলেন রিয়াদ ও শেষের দিকে মেহেদি মিরাজ। অর্ধশতক করতে না পারলেও ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক।

সাকিবের শিকার গুরবাজ, পাওয়ার প্লেতে আফগানদের সংগ্রহ ২৯/১ঃ

১২৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৫ রানে ওপেনার  রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ফেরান সাকিব। ছয় ওভার শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান।

দুই জাদরানের দূর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে হারালো আফগানিস্তানঃ

সাইফুদ্দিনের বলে মোহাম্মদ নবী ফিরলে হারের শঙ্কা জাগে আফগান সমর্থকদের মনে। তবে ইব্রাহীম জাদরানের দায়িত্বশীল ও নাজিবুল্লাহ জাদরানের ঝড়ো তান্ডবে বাংলাদেশ সমর্থকদের হতাশার সাগরে ডুবিয়ে সাত উইকেটের জয়ে সবার আগে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে জায়গা নিশ্চিত করে মোহাম্মদ নবীর দল। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচে যে দল জিতবে তারা জায়গা করে নিবে সুপার ফোরে। হেরে যাওয়ার দলকে ধরতে হবে নিজ দেশের বিমান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৭/৭ (নাঈম ৬, এনামুল ৫, সাকিব ১১, মুশফিক ১, আফিফ ১২, মাহমুদউল্লাহ ২৫, মোসাদ্দেক ৪৮*, মেহেদি ১৪, সাইফ ০*; ফারুকি ৪-০-২৫-০, মুজিব ৪-০-১৬-৩, নাভিন ৪-০-৩১-০, রশিদ ৪-০-২২-৩, নবি ৩-০-২৩-০, ওমরজাই ১-০-৭-০)।

আফগানিস্তান: ১৮.৩ ওভারে ১৩১/৩ (জাজাই ২৩, গুরবাজ ১১, ইব্রাহিম ৪২*, নবি ৮, নাজিবউল্লাহ ৪৩*; সাকিব ৪-০-১৩-১, মুস্তাফিজ ৩-০-৩০-০, মেহেদি ৪-০-২৬-০, তাসকিন ৩-০-২২-০, মোসাদ্দেক ২.৩-০-১২-১, সাইফ ২-০-২৭-১)


সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের Google News ফিডটি ফলো করুন