BN

ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে দাপুটে জয় নোয়াখালীর

ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে দাপুটে জয় নোয়াখালীর

টানা ছয় ম্যাচে হারের হতাশা পেছনে ফেলে পরপর দুই জয়ের স্বাদ পেল

টানা ছয় ম্যাচে হারের হতাশা পেছনে ফেলে পরপর দুই জয়ের স্বাদ পেল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। আর সেই জয়ের গল্পে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম—বিপিএলে অভিষেকেই আলো ছড়ানো হাসান ইসাখিল, আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মাদ নাবির ছেলে।

ইসাখিল যখন আউট হয়ে মাঠ ছাড়ছেন, তখন টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে নাবির মুখ। ডাগআউটে বসে পাথুরে মুখে ছেলের বিদায় দেখছিলেন তিনি। সতীর্থরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানালেও বাবার চোখে ছিল আলাদা কষ্ট। মাত্র ৮ রানের জন্য ছেলের সেঞ্চুরি না পাওয়া যেন মানতেই পারছিলেন না নাবি। কিছুক্ষণ পর অবশ্য তিনিও করতালিতে যোগ দেন।

এই আক্ষেপটুকু বাদ দিলে ম্যাচটি নাবি পরিবারের জন্য ছিল পুরোপুরি স্মরণীয়। বিপিএল অভিষেকে ইসাখিলের ৯২ রানের ঝলমলে ইনিংস, বাবার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি এবং দলের জয়—সব মিলিয়ে বিশেষ এক দিন।

এই ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৪১ রানে হারিয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টানা ছয় ম্যাচ হেরে বিদ্রুপের পাত্র হওয়া দলটি এখন টানা দুই জয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল।

রোববার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নোয়াখালী—যা এবারের বিপিএলে বেশ বিরল। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে তারা তোলে ১৮৪ রান।

ব্যাট হাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ইসাখিল ও সৌম্য সরকার। দুই জনের ব্যাটে বাউন্ডারির ফোয়ারা ছুটে। ইমাদ ওয়াসিমের এক ওভারে টানা চার বলে চার মারেন সৌম্য। পাওয়ার প্লেতে নোয়াখালীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬৪ রান, যেখানে পাঁচ ওভারে আসে ১১টি বাউন্ডারি।

দশম ওভারে দলীয় স্কোর ছুঁয়ে যায় শতরান। তবে এরপর সৌম্য সরকার আউট হন ২৫ বলে ৪৮ রান করে। শাহাদাত হোসেন ও সোহান দ্রুত ফিরে গেলে চাপ বাড়ে।

এরপরই আসে বাবা-ছেলের কাঙ্ক্ষিত জুটি। নাবি ও ইসাখিল মিলে ৩০ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিতে মূল ভূমিকা ছিল ইসাখিলের—১৮ বলে ৩৪ রান। ৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করে দ্রুত সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন তিনি।

কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন। ফুলটস বলে ভুল শটে আগে আউট হন নাবি। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলেই কোনো রান না বাড়িয়ে আউট হন ইসাখিল। শেষ তিন ওভারে নোয়াখালী তুলতে পারে মাত্র ১৭ রান।

ঢাকার হয়ে তাইজুল ইসলাম চার ওভারে ২৯ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট।

১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে ঢাকা ক্যাপিটালস। পাঁচ ওভারের মধ্যেই হারায় চার উইকেট। গুরবাজ, আল মামুন, সাইফ হাসান ও নাসির হোসেন দ্রুত ফিরে যান।

এরপর শামীম হোসেন ১৬ বলে ২৯ এবং অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ৩৩ রান করে কিছুটা লড়াই গড়ে তোলেন। শেষদিকে সাইফ উদ্দিনের ২০ বলে ৩৪ রান ব্যবধান কমালেও জয়ের কাছে যেতে পারেনি ঢাকা।

নোয়াখালীর হয়ে বল হাতে দারুণ ছিলেন নাবি—চার ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। এছাড়া ইহসানউল্লাহ, মেহেদি রানা ও হাসান মাহমুদও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

শেষ পর্যন্ত ১৮.২ ওভারে ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায় ঢাকা ক্যাপিটালস।

৪১ রানের জয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে হাসান ইসাখিলের হাতেই—যার বিপিএল অভিষেক হয়ে থাকল রীতিমতো রূপকথার মতো।

সর্বশেষ সংবাদ

অজস্র সাফল্য আর রেকর্ডের ঝুলি নিয়ে সব ধরনের ক্রিকেট

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে

ভারতে ম্যাচ খেলা নিয়ে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা

ক্রিকেট

অজস্র সাফল্য আর রেকর্ডের ঝুলি নিয়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে

ফুটবল

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে)

ক্রিকেট

ভারতে ম্যাচ খেলা নিয়ে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা আবারও

ক্রিকেট

সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে একতরফা দাপট দেখিয়ে প্লে-অফ