বিপিএলের সিলেট পর্বের শেষ দিনে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষের কাছাকাছি উঠে এলো সিলেট টাইটান্স।
ম্যাচ শুরুর অনেক আগেই শহর থেকে স্টেডিয়ামের পথে নামতে থাকে মানুষের ঢল। নিজেদের মাঠে শেষ ম্যাচ—স্থানীয় দর্শকদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরোপুরি গ্যালারি ভরে না উঠলেও উপস্থিত দর্শকদের উৎসাহে মাঠজুড়ে তৈরি হয় দারুণ এক আবহ। আর সেই দর্শকদের আনন্দ দ্বিগুণ করে টুর্নামেন্টে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সটাই এ দিন উপহার দেয় সিলেট। ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে হারিয়ে দেয় ফেভারিট রংপুর রাইডার্সকে।
৬ উইকেটের জয় দিয়ে ঘরের মাঠে এবারের বিপিএল অভিযান শেষ করে সিলেট টাইটান্স। এই জয়ে রংপুরকে টপকে পয়েন্ট তালিকার তিনে উঠে যায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সোমবার পেস ও স্পিনের দুর্দান্ত সমন্বয়ে রংপুরকে মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে দেয় স্বাগতিকরা।
১৯ রানে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন সিলেটেরই সন্তান নাসুম আহমেদ। টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই নজর কাড়েন পেসার শহিদুল ইসলামও—শিকার করেন তিনটি উইকেট।
মইন আলির ঘূর্ণিতে রীতিমতো নাকাল হয়ে পড়ে রংপুরের ব্যাটিং লাইনআপ। চার ওভারে একটি মেডেনসহ মাত্র ৮ রান দিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন ইংলিশ অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিলেটের খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। যদিও জয়ের একেবারে কাছাকাছি গিয়ে দুটি উইকেট হারায় তারা, তবু আগেভাগেই ম্যাচ নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা।
টস জিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সিলেট। প্রথম ওভারেই মেডেন তুলে নেন মইন আলি, আগের ম্যাচে ৯৭ রান করা তাওহিদ হৃদয়কে আটকে রাখেন শুরুতেই। পরের ওভারেই নাসুমের বলে শূন্য রানে ফেরেন কাইল মেয়ার্স।
এরপর দ্রুতই বিদায় নেন হৃদয়ও। টুর্নামেন্টে প্রথমবার বল হাতে নিয়েই তৃতীয় ডেলিভারিতে উইকেট পান শহিদুল ইসলাম।
লিটন দাসের ব্যাটে শুরুতে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও তা স্থায়ী হয়নি। শহিদুলের স্লোয়ারে বোল্ড হয়ে ১২ বলে ২২ রান করে ফেরেন তিনি। আসরের আট ম্যাচে কোনো ফিফটির দেখা পেলেন না বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
ইফতিখার আহমেদ ও খুশদিল শাহ ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিছুটা চাপ সামাল দিলেও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি তারা। মইনের ক্যারম বলে আউট হন ইফতিখার (২০ বলে ১৭)।
পরের ওভারেই বড় ধাক্কা খায় রংপুর। দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে ইথান ব্রুকসের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হন খুশদিল শাহ। ২৪ বলে ৩০ রান করা খুশদিলই ছিলেন দলের সর্বোচ্চ স্কোরার।
অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানও ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে পারেননি। প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা নাঈম হাসান বাজে শটে নাসুমের বলে বোল্ড হয়ে যান। শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি।
৯৬ রানে ৯ উইকেট হারানো দলটি ১১৪ পর্যন্ত পৌঁছায় মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ভর করে। ২৩ বলে ২৯ রান করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি।
রান তাড়ায় শুরুতেই কাজের অর্ধেক সেরে ফেলেন তৌফিক খান তুষার ও পারভেজ হোসেন ইমন। স্থানীয় দর্শকদের উল্লাসে ভাসিয়ে তৌফিক ২২ বলে চার ছক্কায় ৩৩ রান করে আউট হন।
তিন নম্বরে নেমে আরিফুল হক ২৬ বলে করেন ২১ রান। ইনিংসটি ধীর হলেও ছিল বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন শট।
শেষটা গুছিয়ে দেন পারভেজ ও আফিফ হোসেন। তবে জয়ের একদম আগে নাহিদ রানার বলে সীমানায় ধরা পড়েন আফিফ। পরের বলেই দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হন ইথান ব্রুকস।
শেষ পর্যন্ত ছক্কা মেরে দলকে জেতান পারভেজ হোসেন ইমন। সেই সঙ্গে পূর্ণ করেন নিজের ফিফটিও।
ম্যাচ শেষে পুরো মাঠ ঘুরে গ্যালারির দর্শকদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানায় সিলেট টাইটান্সের খেলোয়াড়রা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- রংপুর রাইডার্স: ১৯.১ ওভারে ১১৪
- সিলেট টাইটান্স: ১৭.৩ ওভারে ১১৯/৪
ফল: সিলেট টাইটান্স ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাসুম আহমেদ