BN

অবশেষে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন ইসাখিল

অবশেষে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন ইসাখিল

বিপিএলে অভিষেকেই আলোচনায় উঠে এসেছিলেন হাসান ইসাখিল। প্রথম ম্যাচে ৯২ রানে আউট

বিপিএলে অভিষেকেই আলোচনায় উঠে এসেছিলেন হাসান ইসাখিল। প্রথম ম্যাচে ৯২ রানে আউট হয়ে সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। তৃতীয় ম্যাচেই তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ফেললেন মোহাম্মাদ নাবির ছেলে।

ফ্রি হিটে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে উদ্‌যাপন শুরু করে ফেলেছিলেন ইসাখিল। কিন্তু হেলমেট খুলতে গিয়ে বড় পর্দায় চোখ পড়তেই বুঝতে পারেন, সেঞ্চুরির জন্য তখনো একটি রান বাকি। ভুলটা বুঝে মুচকি হাসি দেন তিনি। পরের বলেই দুই রান নিয়ে পূরণ করেন শতক। এরপর হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে ধরেন—এবার হাসিটা ছিল অনেক বেশি প্রশস্ত।

এই মুহূর্তটা আসতে পারত আরও আগেই। সাত দিন আগে সিলেটে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচে সেঞ্চুরির খুব কাছেই পৌঁছে গিয়েছিলেন ইসাখিল। সেটাই ছিল তার বিপিএল অভিষেক। সেদিন বাবার সঙ্গে দারুণ জুটি গড়ে রূপকথার মতো এক গল্প লিখতে পারতেন তিনি। কিন্তু মোহাম্মাদ নাবি আউট হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ৯২ রানে থামতে হয় ইসাখিলকে।

ম্যাচ শেষে সেদিন তিনি বলেছিলেন, সেঞ্চুরি না পেলেও দলের জয়ে তিনি সন্তুষ্ট। আক্ষেপ না থাকলেও মনের ভেতর যে শতরানের তৃষ্ণা ছিল, তা স্পষ্ট। বিপিএলের তৃতীয় ম্যাচেই সেটার পূরণ করলেন ১৯ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

এবার বাবার সামনে সেঞ্চুরি করার সুযোগ হয়নি। জাতীয় দলের ব্যস্ততায় নাবি বিপিএল ছেড়ে গেছেন। তবু দিনটি ইসাখিলের জন্য স্মরণীয় হয়েই থাকবে—টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটাই যে তার প্রথম সেঞ্চুরি।

রোববার মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে পুরো ২০ ওভার ব্যাট করে ১০৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৭২ বলের ইনিংসে মারেন ৪টি চার ও ১১টি ছক্কা।

এবারের বিপিএলে এক ম্যাচে ছয়টির বেশি ছক্কা মারার কীর্তি এটিই প্রথম। টুর্নামেন্টের শুরুতে নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরি করেছিলেন, এরপর ২৯তম ম্যাচে এসে আবার দেখা মিলল তিন অঙ্কের ইনিংস।

৭০ বলে সেঞ্চুরি ছোঁয়াটা আধুনিক টি-টোয়েন্টির বিচারে খুব দ্রুত না হলেও নোয়াখালীর পরিস্থিতিতে লম্বা ইনিংস খেলার বিকল্প ছিল না। শুরুটা ছিল ধীরগতির। পাওয়ার প্লেতে ২৫ বলে করেন মাত্র ২০ রান। দশম ওভারে গিয়ে তার রান দাঁড়ায় ৩৫ বলে ২৩।

ফিফটি করতে লেগেছে ৫০ বল। তবে এরপরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। পরের পঞ্চাশ আসে মাত্র ২০ বলে, যেখানে ছক্কাই ছিল ছয়টি।

এক সময় মনে হচ্ছিল, সেঞ্চুরি বুঝি অনেক দূরে। ইনিংসের শেষ তিন ওভার বাকি থাকতে তার রান ছিল মাত্র ৬৭। কিন্তু তখনই গিয়ার বদলান তিনি। নাহিদ রানাকে ছক্কা, ফাহিম আশরাফকে ছক্কা ও চার মারার পর শেষ ওভারে ঢোকেন ৮৭ রান নিয়ে।

শেষ ওভারের প্রথম বলেই আকিফ জাভেদকে ছক্কা মারান—বলটি ছিল নো। ফ্রি হিটে আবারও পুল শটে বল পাঠান গ্যালারিতে। এরপর সেঞ্চুরি ছুঁয়ে আরও একটি ছক্কা হাঁকান। শেষ বলে হায়দার আলি চার মারলে ওভার থেকে আসে ২৮ রান।

হায়দার আলির সঙ্গে ৭৪ বলে ১৩৭ রানের অপরাজিত জুটি গড়েন ইসাখিল। সেখানে হায়দারের অবদান ৩২ বলে ৪২ রান, আর ইসাখিল করেন ৪২ বলে ৮৬।

নোয়াখালী এক্সপ্রেস ২০ ওভারে তোলে ২ উইকেটে ১৭৩ রান।

এর আগে আফগানিস্তানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে চার ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন ইসাখিল। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটি। এবার টি-টোয়েন্টিতেও তিন অঙ্কের স্বাদ পেলেন তিনি। এই সংস্করণে ৩৩ ম্যাচে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি, সঙ্গে রয়েছে সাতটি ফিফটি।

সর্বশেষ সংবাদ

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এবারই প্রথম প্রকাশ্যে

‘পাকিস্তানকেও ভালো লেগেছে। জানি বিষয়টা রাজনৈতিক, তবু বাংলাদেশের পাশে

ক্রিকেট

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)

ক্রিকেট

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এবারই প্রথম প্রকাশ্যে কথা

ক্রিকেট

‘পাকিস্তানকেও ভালো লেগেছে। জানি বিষয়টা রাজনৈতিক, তবু বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোটা

ক্রিকেট

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার