মোহাম্মাদ নাবির ছেলের চোখধাঁধানো সেঞ্চুরির আলোয় শুরু হলেও ম্যাচের আসল নায়ক হয়ে ওঠেন তাওহিদ হৃদয়। শেষটা একটু নাটকীয় হলেও রংপুর রাইডার্সকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে হাসিমুখেই ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন তিনি।
শেষ তিন বলে প্রয়োজন ছিল তিন রান। টিভি ক্যামেরায় তখন দেখা গেল হৃদয়কে—ড্রেসিংরুমের সামনে দাঁড়িয়ে মুখে হাত বুলাচ্ছেন, চোখেমুখে টানটান উত্তেজনা। তিনি আউট হওয়ার সময় ম্যাচ ছিল প্রায় জয়ের দোরগোড়ায়, কিন্তু শেষ ওভারে খানিকটা জটিলতা তৈরি হয়। তবু বড় কোনো নাটক হয়নি। প্রত্যাশিত জয়ই তুলে নেয় রংপুর। আর শেষ মুহূর্তে ক্রিজে না থাকলেও ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরির নায়ক যে হৃদয়ই, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
ম্যাচের প্রথম ভাগে আলো কাড়েন হাসান ইসাখিল। এক সপ্তাহ আগে বিপিএল অভিষেকে ৯২ রানে থামা এই তরুণ এবার খেলেন অপরাজিত সেঞ্চুরির ইনিংস। কিন্তু আফগান কিংবদন্তি মোহাম্মাদ নাবির ছেলের সেই শতরানকেও ছাপিয়ে যায় হৃদয়ের আরও কার্যকর ও গতিময় সেঞ্চুরি।
বিপিএলের প্রাথমিক পর্বের শেষ দিনে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ৮ উইকেটে হারায় রংপুর রাইডার্স। আগে ব্যাট করে নোয়াখালী ২০ ওভারে তোলে ২ উইকেটে ১৭৩ রান। জবাবে দুই বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রংপুর।
নোয়াখালীর হয়ে ৭২ বলে অপরাজিত ১০৭ রান করেন ইসাখিল। ফিফটি পেতে তার লাগে ৫০ বল, পরের পঞ্চাশ আসে মাত্র ২০ বলে। ১১টি ছক্কায় ভরা এই ইনিংস এবারের বিপিএলে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও গড়ে দেয়।
হৃদয়ের ইনিংস ছিল ভিন্ন ধাঁচের—ছক্কার ঝড় নয়, বরং নিখুঁত টাইমিং আর ধারাবাহিক আক্রমণ। ১৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৩ বলে ১০৯ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ও বিপিএলে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি; আগেরটি ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ১০৮ রান।
এই আসরের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না হৃদয়ের। প্রথম ছয় ম্যাচে তার রান ছিল মাত্র ১০৬, ফিফটি মাত্র একটি। ওপেনিংয়ে নামার পরই যেন বদলে যায় তার গল্প। চার ম্যাচের মধ্যে একটিতে অপরাজিত ৯৭, একটিতে ৬২, আর এবার সেঞ্চুরি। ৩৫৬ রান নিয়ে তিনি এখন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই রংপুরকে এগিয়ে নেন হৃদয়। প্রথম চার ওভারেই তার ব্যাট থেকে আসে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা। পাওয়ার প্লেতে রংপুর তোলে ৫৫ রান, যেখানে হৃদয়ের অবদান ২৬ বলে ৪৭। অন্যপ্রান্তে দাভিদ মালান তখন বেশ নিষ্প্রভ।
মালান পরে আর ছন্দে ফিরতে পারেননি। ৭৮ রানের জুটিতে হৃদয় একাই করেন ৬১ রান। মালান বিদায় নেন ১৫ বলে ১৫ রান করে। এরপর লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন হৃদয়। শেষ পাঁচ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪৭ রান, সৌম্য সরকারের এক ওভারে দুজন মিলে ১৮ রান তুলে কার্যত ম্যাচের ফয়সালা করে দেন।
৫৭ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান হৃদয়। আউট হওয়ার সময় জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১০ বলে ৯ রান। শেষ ওভারে লিটন ও খুশদিল শাহ ঠান্ডা মাথায় কাজ সেরে ফেলেন। লিটন অপরাজিত থাকেন ৩৫ বলে ৩৯ রানে।
এর আগে নোয়াখালীর ইনিংস শুরুটা ছিল ধীরগতির। পাওয়ার প্লেতে আসে মাত্র ৩৩ রান। ইসাখিল শুরুতে মন্থর থাকলেও ধীরে ধীরে ছন্দ খুঁজে পান। শেষদিকে ভয়ংকর রূপ নেন তিনি। হায়দার আলির সঙ্গে ৭৪ বলে ১৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে নোয়াখালীর সংগ্রহ দাঁড়ায় লড়াইয়ের পুঁজি। শেষ ছয় ওভারে তারা তোলে ৯১ রান।
তবে সেই রানও যথেষ্ট হয়নি হৃদয়-লিটনদের সামনে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৭৩/২
- রংপুর রাইডার্স: ১৯.৪ ওভারে ১৭৪/২
ফল: রংপুর রাইডার্স ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তাওহিদ হৃদয়