BN

মেহেদির দাপটে রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনালে চট্টগ্রাম

মেহেদির দাপটে রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনালে চট্টগ্রাম

কম রানের লক্ষ্য নিয়েও শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল রাজশাহী। তবু

কম রানের লক্ষ্য নিয়েও শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল রাজশাহী। তবু জয়টা আর ধরা দিল না তাদের হাতে।

ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গ্যালারিতে বসে ছিলেন কয়েক হাজার দর্শক। দিনের প্রথম ম্যাচের মতো আরেকটি রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তির আশাই হয়তো তাদের চোখে-মুখে। পরিস্থিতিও ছিল ঠিক তেমনই। তবে এবার আর শেষ বলের নাটক জমেনি, ম্যাচ শেষ হয়ে যায় তিন বল হাতে থাকতেই। সীমিত রানের পুঁজি নিয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়েও শেষ রক্ষা হয়নি রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের। অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ফাইনালে উঠে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস।

বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহীকে ৬ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জয়ের শেষ ধাপে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম। মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ১৩৩ রানেই গুটিয়ে যায় রাজশাহী। পরে তিন বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম।

বিপিএল শুরুর ঠিক আগের দিন আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে দলটির মালিকানা ছেড়ে দেয় ট্রায়াঙ্গল সার্ভিসেস। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেয় বিসিবি। নানা অনিশ্চয়তার মাঝেও সেই দলটিই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সবার আগে ফাইনালে জায়গা করে নিল।

এই হারে রাজশাহীর বিদায় হলেও ফাইনালে ওঠার আরেকটি সুযোগ থাকছে তাদের সামনে। বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে নাজমুল হোসেন শান্তর দল মুখোমুখি হবে সিলেট টাইটান্সের। এলিমিনেটরে শেষ বলে ছক্কা মেরে ফেভারিট রংপুর রাইডার্সকে বিদায় করে সেই ম্যাচে জায়গা করে নিয়েছে সিলেট।

চট্টগ্রামের জয়ের নাটকীয়তা আসে শেষ ওভারে। তখন দরকার ছিল ৯ রান। রিপন মন্ডলের করা ওভারের প্রথম বলে এক রান নেন আমের জামাল। পরের বলেই লং অফের ওপর দিয়ে দারুণ এক ছক্কা হাঁকান শেখ মেহেদি। তৃতীয় বলে দুই রান নিয়ে ম্যাচের ফয়সালা করে দেন অধিনায়ক নিজেই।

বল হাতে ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে মাত্র ৯ বলে দুই ছক্কায় ১৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন শেখ মেহেদি হাসান।

দুপুরের এলিমিনেটরের মতো সন্ধ্যার এই ম্যাচেও উইকেট ছিল মন্থর। ব্যাটসম্যানদের জন্য রান তোলা সহজ ছিল না। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহীর শুরুটাও ছিল ধীরগতির। সাহিবজাদা ফারহানের দুটি চার ও একটি ছক্কা থাকলেও প্রথম পাঁচ ওভারে আসে মাত্র ২৭ রান। তানজিদ হাসান তখন ১২ বলে করেন ৫ রান।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে সাহিবজাদা ফারহানকে (১৯ বলে ২১) ফিরিয়ে ৩০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম। এরপর রাজশাহীর ব্যাটিং একেবারেই ছন্দ হারায়। পরের পাঁচ ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।

শেখ মেহেদির বলে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন অধিনায়ক শান্ত। পরের বলেই শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। আকবর আলিও ব্যর্থ হন, ১০ বলে করেন মাত্র ৩ রান।

তানভিরকে ছক্কায় মারার চেষ্টা করেছিলেন তানজিদ হাসান, কিন্তু সেই চেষ্টাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। সীমানার কাছে ধরা পড়ে বিদায় নেন তিনি। তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৭ বলে ৪১ রান করে পঞ্চদশ ওভার পর্যন্ত লড়াই করেন তানজিদ।

শেষদিকে জিমি নিশাম ও রায়ান বার্ল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। মির্জা বেইগের অফ স্পিনে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বৃত্তের ভেতর ক্যাচ দেন নিশাম। একই ওভারে পরপর দুই বলে ছক্কা হাঁকান আব্দুল গাফফার সাকলাইন। শেষের আগের ওভারে শরিফুল ইসলামের বলে একটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি।

শেষ ওভারের শুরুতেই আউট হয়ে যান সাকলাইন। তিন ছক্কা ও দুই চারে ১৫ বলে ৩২ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি। রিপন মন্ডলের ছক্কায় ভর করে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৩ রানে।

চট্টগ্রামের হয়ে সাতজন বোলারই অন্তত একটি করে উইকেট পান। শেখ মেহেদির পাশাপাশি আমের জামালও নেন ২টি করে উইকেট।

জবাবে রান তাড়ায় সতর্ক শুরু করেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মির্জা বেইগ। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারালেও রান আসে মাত্র ৩১। প্রথম ১০ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৫২।

দ্বাদশ ওভারে তিনটি চারে ৩৮ বলে ৩০ রান করে আউট হন নাঈম। ৭০ বলে ৬৪ রানের উদ্বোধনী জুটির সেখানেই সমাপ্তি ঘটে।

ইনিংসের প্রথম ছক্কা আসে পঞ্চদশ ওভারে। রিপন মন্ডলের বলে ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন হাসান নাওয়াজ। এটি ছিল তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের শততম ছক্কা। একই ওভারে আরও একটি ছক্কা মারেন তিনি। তবে ১৪ বলে ২০ রান করে জয় থেকে ৩৬ রান দূরে থাকতে থামতে হয় তাকে।

একটি ছক্কার পর আরেকটি মারতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন আসিফ আলি, তার ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই বিনুরা ফার্নান্দোর ওপর চড়াও হয়ে ছক্কা হাঁকান শেখ মেহেদি। তবে পঞ্চম বলে ছক্কার চেষ্টায় আউট হয়ে যান বেইগ (৪৭ বলে ৪৫)।

এলিমিনেটরের মতো এখানেও শেষ ওভারে দরকার ছিল ৯ রান, তবে এবার আর শেষ বল পর্যন্ত গড়ায়নি নাটক। শেখ মেহেদির দৃঢ়তায় তিন বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম।

ফল: চট্টগ্রাম রয়্যালস ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শেখ মেহেদি হাসান

সর্বশেষ সংবাদ

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এবারই প্রথম প্রকাশ্যে

‘পাকিস্তানকেও ভালো লেগেছে। জানি বিষয়টা রাজনৈতিক, তবু বাংলাদেশের পাশে

ক্রিকেট

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)

ক্রিকেট

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এবারই প্রথম প্রকাশ্যে কথা

ক্রিকেট

‘পাকিস্তানকেও ভালো লেগেছে। জানি বিষয়টা রাজনৈতিক, তবু বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোটা

ক্রিকেট

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার