দারবিশ রাসুলীর পরপর তৃতীয় টি-টোয়েন্টি অর্ধশতক, সেদিকউল্লাহ আতালের স্থিতিশীল ইনিংস এবং মুজিব উর রহমানের প্রথম টি-টোয়েন্টি হ্যাটট্রিকের সাহায্যে আফগানিস্তান তিন ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপ্রতিরোধ্য ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।
আফগানিস্তান ২০ ওভারে ১৮৯/৪ (রাসুলী ৬৮, আতাল ৫৩, ওমারজাই ৬৮) রান করে, ১৯০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮.৫ ওভারে ১৫০ রানে অল-আউট হয়। মুজিব উর রহমান চার উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হয়ে উঠেন।
মুজিব দুইটি ভিন্ন ওভারে মোট পাঁচ ডেলিভারিতে চারটি উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেজ ভেঙে দেন। ১৯০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটাই খারাপ ছিল। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ২৯ রান করতে সক্ষম হয় তারা, ফাযালহক ফারুকির চাপে। মুজিবের বোলিংয়ে অষ্টম ওভারে এভিন লুইস এবং জনসন চার্লস আউট হন। ষোড়শ ওভারে প্রথম বলেই ব্র্যান্ডন কিংকে আউট করে মুজিব হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। দুই বল পর কুয়েন্টিন স্যাম্পসনেরও উইকেট আসে।
রাসুলী ও আতালের জুটি আফগানিস্তানের ব্যাটিং ইনিংসকে ধরে রাখে। পাওয়ার প্লেতে দুই ওপেনার হারালেও, রাসুলী আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন। ২২ বলেই তিনি তৃতীয় পরপর অর্ধশতক স্পর্শ করেন। আতাল ছিলেন তুলনামূলকভাবে সাবধান এবং দলকে স্থিতিশীল ইনিংসে রাখেন।
অবশেষে আফগানিস্তান ১৮৯/৪ রান করে ইনিংস শেষ করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লোয়ার অর্ডার আর কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। শেষ পাঁচ উইকেট তারা মাত্র ২৭ রানে হারিয়েছে।
এই জয়ের মাধ্যমে আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনটি জয় একযোগে পূর্ণ করল। সিরিজের শেষ ম্যাচে দুই দল বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৮৯/৪ (গুরবাজ ১, ইব্রাহিম ২২, সেদিকউল্লাহ ৫৩, রাসুলী ৬৮, ওমারজাই ৬৮, নাবি ৭*; ফোর্ড ৪-০-২৫-২, শামার ৪-০-৩৫-১, সিমন্ডস ৪-০-৩৯-১, পিয়ের ৪-০-২৯-০, মোটি ৪-০-৫৪-০)
- ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৮.৫ ওভারে ১৫০ (কিং ৫০, আথানেজ ৮, লুইস ১৩, চার্লস ০, হেটমায়ার ৪৬, স্যাম্পসন ২, ফোর্ড ৬, মোটি ৯*, পিয়ের ১১, শামার ০, সিমন্ডস ১; ফারুকি ৩.৫-০-২৮-২, মুজিব ৪-০-২১-৪, ওমারজাই ৩-০-২০-২, রাশিদ ৪-০-১৯-১, নুর ২-০-৩২-০, নাবি ১-০-১৪-০, নাইব ১-০-১৫-০)
ফল: আফগানিস্তান ৩৯ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে আফগানিস্তান ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে
ম্যান অব দা ম্যাচ: মুজিব উর রহমান