বিগ ব্যাশে নিজের প্রথম আসর শেষ করলেন রিশাদ হোসেন ১৫ উইকেট নিয়ে। ব্যক্তিগতভাবে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স থাকলেও দলীয় সাফল্যের স্বাদ না পাওয়ার হতাশা নিয়েই অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হচ্ছে হারিকেন্সের এই লেগ স্পিনারকে।
চ্যালেঞ্জার ম্যাচে দারুণ ব্যাটিংয়ে স্টিভেন স্মিথের ফিফটি ছোঁয়া ইনিংসের ওপর ভর করে বড় সংগ্রহ গড়ে সিডনি সিক্সার্স। এরপর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান তাড়ায় হোবার্ট হারিকেন্সকে কোনো সুযোগই দেয়নি তারা। ফলে আরেকটি দুর্দান্ত জয়ে বিগ ব্যাশের ফাইনালে উঠে গেল স্মিথ–স্টার্কদের দল।
শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে চ্যালেঞ্জার ম্যাচে ৫৭ রানের বড় জয় পায় সিক্সার্স। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৯৮ রান তোলে তারা। জবাবে ১৪১ রানেই গুটিয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হারিকেন্স।
এ নিয়ে বিগ ব্যাশে অষ্টমবার ফাইনালে উঠল তিনবারের শিরোপাজয়ী সিডনি সিক্সার্স। আগামী রোববার শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন পার্থ স্কর্চার্স। এই নিয়ে ষষ্ঠবার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।
এই মৌসুমেই প্রথমবার বিগ ব্যাশ খেলতে যান রিশাদ হোসেন। অভিষেক আসরেই ফাইনালের খুব কাছে পৌঁছেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশাই সঙ্গী হলো হারিকেন্সের এই বাংলাদেশি স্পিনারের।
তবে পারফরম্যান্সের দিক থেকে রিশাদ ছিলেন ধারাবাহিক ও কার্যকর। ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেন তিনি। চলতি বিগ ব্যাশে স্পিনারদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি উইকেট এখনো কেউ নিতে পারেননি। সমান ১৫ উইকেট নিয়েছেন ফাইনালিস্ট পার্থ স্কর্চার্সের কুপার কনোলি ও অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্সের লেগ স্পিনার লয়েড পোপ।
সিক্সার্সের বিপক্ষেও দারুণ বোলিং করেন রিশাদ। ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট—তাও আবার একই ওভারে।
নিজের প্রথম দুই ওভারে ১৪ রান দেওয়ার পর তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই স্টিভেন স্মিথের স্টাম্প ভেঙে দেন রিশাদ। সুইপ খেলতে গিয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ হন অস্ট্রেলিয়ান তারকা। ওই ওভারের শেষ বলেই ফেরান প্রতিপক্ষ অধিনায়ক মোইজেস হেনরিকেসকেও।
১৭তম ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে এসে মাত্র চার রান দেন রিশাদ। ওই ওভারেই উইকেট পেতে পারতেন তিনি। কিন্তু কট বিহাইন্ডের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ায় এবং রিভিউ না থাকায় সুযোগটি হাতছাড়া হয়।
এর আগে ব্যাট হাতে স্মিথই সিক্সার্সের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। ওপেনিংয়ে নেমে ১টি ছক্কা ও ৯টি চারে ৪৩ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। তার ইনিংসের সুবাদে পরের ব্যাটাররা শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলতে পারেন।
হেনরিকেস ৮ বলে করেন ১৯ রান। জোয়েল ডেভিস ১২ বলে দুটি ছক্কা ও দুটি চারে করেন ২৭ রান। আর শ ১৩ বলে চারটি চারের সাহায্যে যোগ করেন ২১ রান।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে হারিকেন্স। ইনিংসে কেউই ফিফটির দেখা পাননি। সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন বেন ম্যাকডারমট—এক ছক্কা ও তিনটি চারে ২৬ বলে।
নয় নম্বরে নেমে রিশাদ ব্যাট হাতে একটি ছক্কায় ৮ বলে ১১ রান করেন। তাকে আউট করেই দলের জয় নিশ্চিত করেন জ্যাক এডওয়ার্ডস।
ব্যাটে ক্যামিও ইনিংসের পর বল হাতেও আলো ছড়ান জোয়েল ডেভিস। বাঁহাতি স্পিনে ২ ওভারে ১৭ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। টানা দুই বলে নিখিল চৌধুরি ও ম্যাথু ওয়েডকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। সঙ্গে নেন দারুণ দুটি ক্যাচ। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন ডেভিস।
এ ছাড়া মিচেল স্টার্ক ২৯ রানে ও শন অ্যাবট ১৮ রানে নেন দুটি করে উইকেট। ৩ ওভারে ২৬ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে সিক্সার্সের সেরা বোলার ছিলেন বেন ডোয়ার্শিস।