ম্যাচের কথা বাদ দিন, খোদ নেটে অনুশীলন করার সময়ও উসমান তারিকের স্পিন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সতীর্থরা। পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আগা অকপটে স্বীকার করলেন, এই রহস্যময় স্পিনারকে পড়া প্রায় অসম্ভব। অধিনায়ক আশা করছেন, বিশ্বকাপের আসল সময়েও তারিক এভাবেই নিজের ভেলকি দেখিয়ে যাবেন।
কেন উসমান তারিক এত ‘ভয়ংকর’?
৩৪ বছর বয়সী এই স্পিনারের বোলিংয়ে এমন কিছু বৈচিত্র্য আছে যা আধুনিক ক্রিকেটে বিরল:
- অদ্ভুত ডেলিভারি স্ট্রাইড: বল ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি হুট করে ২-৩ সেকেন্ডের জন্য থমকে যান। এই বিরতি ব্যাটসম্যানের মনঃসংযোগ পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়।
- সাইড-আর্ম অ্যাকশন: অনেকটা স্লিঙ্গিং বা সাইড-আর্ম অ্যাকশনে বল ছাড়েন বলে তার ক্যারম বল বা গুগলি বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
- অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান: মাত্র ৬ ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি, যেখানে গড় মাত্র ৭.৯৩!
অধিনায়ক সালমানের মুগ্ধতা
নামিবিয়ার বিপক্ষে ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলকে জেতানোর পর সালমান বলেন—
“বিশ্বাস করুন, ওকে খেলা সত্যিই খুব কঠিন। ঘরোয়া ক্রিকেটে যখন ওর বিপক্ষে খেলেছি, তখনও বুঝে উঠতে পারতাম না। বিশেষ করে বল ছাড়ার আগে ওর ওই থেমে যাওয়াটা ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় ধাঁধা। আমি খুশি যে ও আমাদের দলে খেলছে।”
জীবন যেন সিনেমার গল্প
উসমান তারিকের ক্রিকেটে ফেরার গল্পটি কোনো সিনেমার চেয়ে কম নয়। খাইবার পাখতুনখাওয়ায় বড় হওয়া এই ক্রিকেটার অভাবের তাড়নায় ২০১৫ সালে ক্রিকেট ছেড়ে দুবাই চলে গিয়েছিলেন। সেখানে রিয়েল এস্টেট ফার্মে চাকরিও নেন। কিন্তু মহেন্দ্র সিং ধোনির বায়োপিক ‘MS Dhoni: The Untold Story’ দেখার পর তার জীবন বদলে যায়। সিনেমার গল্পের সাথে নিজের জীবনের মিল খুঁজে পেয়ে চাকরি ছেড়ে আবার ব্যাট-বল তুলে নেন তিনি।
বিতর্ক ও জয়
তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে পাকিস্তান সুপার লিগে (PSL) দুইবার প্রশ্ন উঠলেও প্রতিবারই তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেছেন। এখন সেই বিতর্ক ছাপিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্বমঞ্চে ব্যাটসম্যানদের জন্য এক জীবন্ত বিভীষিকা।