BN

রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় জানিয়ে কৃতজ্ঞতায় ভাসলেন আলাবা

রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় জানিয়ে কৃতজ্ঞতায় ভাসলেন আলাবা

গত পাঁচ বছরে সাফল্য, ব্যর্থতা আর চোটের সাথে লড়াকু দিনগুলোতে পাশে থাকায়

গত পাঁচ বছরে সাফল্য, ব্যর্থতা আর চোটের সাথে লড়াকু দিনগুলোতে পাশে থাকায় রিয়াল মাদ্রিদের সবাইকে হৃদয় নিংড়ানো কৃতজ্ঞতা জানালেন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার ডাভিড আলাবা।

বুকভরা ভালোবাসা আর রাজ্যের স্মৃতি নিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ছাড়ছেন ডাভিড আলাবা। লা লিগায় আথলেতিক বিলবাওকে ৪-২ গোলে হারিয়ে এবারের মরসুমের ইতি টেনেছে রিয়াল। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর এই বিদায়ী ম্যাচে শুরু থেকে ৭০ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন আলাবা। এরপর তাকে তুলে নেন দলের বিদায়ী কোচ আলভারো আরবেলোয়া।

ডাগআউটে তখন আলাবার বিদায়ের মুহূর্তটি ভাগ করে নিতে অপেক্ষা করছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। মাঠ ছাড়ার সময় সতীর্থরা হাত মেলাচ্ছিলেন, পরম মমতায় আলিঙ্গনে বাঁধছিলেন আলাবাকে। আর গ্যালারি জুড়ে রিয়াল সমর্থকেরা দাঁড়িয়ে অবিরাম করতালি দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন আবেগঘন মুহূর্তে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার, বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

ক্লাবের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলার পর রিয়াল মাদ্রিদ টিভিতে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আলাবা বলেন:

“আমি সবার প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ। কেবল আজকের এই মুহূর্তটির জন্য নয়, গত পাঁচটি বছরের প্রতিটি দিনের জন্য। এখানে আমি যেমন অনেক সাফল্য পেয়েছি, তেমনি একজন খেলোয়াড় ও মানুষ হিসেবেও পরিপক্ব হয়ে উঠেছি।”

“এমনকি যখন চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলাম, এই ক্লাব সবসময় আমার পাশে ছায়ার মতো ছিল এবং সব ধরনের সাহায্য করেছে। এই ভালোবাসা আমি ভেতর থেকে অনুভব করেছি। দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, কোচ, ক্লাব সভাপতি এবং ভক্ত—সবার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো ভাষা আসলেই আমার জানা নেই।”

আলাবা যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন গ্যালারিতে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায়। বেশ কয়েকজন দর্শক প্লাস্টিকের চেয়ার মাথার ওপর তুলে ধরে উদযাপন করছিলেন। এর পেছনে রয়েছে এক দারুণ গল্প। ২০২২ সালের মার্চে চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির বিপক্ষে রিয়ালের সেই অবিশ্বাস্য রূপকথার জয়ের রাতে, বার্নাব্যুর মাঠে একটি প্লাস্টিকের চেয়ার মাথায় তুলে বুনো উল্লাস করেছিলেন আলাবা। রিয়াল ভক্তদের মনের গভীরে দাগ কেটেছিল সেই দৃশ্যটি। বিদায়বেলায় ভক্তদের আবদারে সেই চেনা উদযাপনের পুনরাবৃত্তি করেন ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার নিজেও।

গ্যালারির দিকে তাকিয়ে আলাবা বলেন:

“সেদিন বিশেষ একটা মুহূর্ত উদযাপন করতে আমি চেয়ার তুলেছিলাম। আজ গ্যালারিতে এই চেয়ারগুলো দেখে আমার সেই সোনালী স্মৃতির কথা মনে পড়ে গেল। এমন ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

বায়ার্ন মিউনিখের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে চুক্তি নবায়ন না করে রিয়ালে যোগ দিয়েছিলেন আলাবা। সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ছাড়লেও তাঁর নতুন গন্তব্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত অস্ট্রিয়ার হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠ মাতাবেন তিনি। এরপর হয়তো ক্যারিয়ারের নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ খুঁজে নেবেন। তবে বার্নাব্যু যে সবসময় তাঁর হৃদয়ের মণিকোঠায় থাকবে, তা আলাবার কথাতেই স্পষ্ট:

“এটি একটি বিশেষ ক্লাব, নির্দ্বিধায় বিশ্বের সেরা। এখানে কাটানো পাঁচটি বছর আমি দারুণ উপভোগ করেছি। রিয়াল মাদ্রিদ ও এর ভক্তরা সবসময়ই আমার হৃদয়ে থাকবে। এটি আমার জীবনের খুব বিশেষ এক অংশ। ভক্তদের ভালোবাসা আর সমর্থনের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমরা একসাথে অনেক সাফল্য পেয়েছি। বিশেষ করে আমার হাঁটুর চোটের সেই কঠিন সময়েও আপনারা যেভাবে আমার পাশে ছিলেন, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।”

সর্বশেষ সংবাদ

প্রশান্ত মহাসাগরের কোল ঘেঁষে এবং মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত

গত পাঁচ বছরে সাফল্য, ব্যর্থতা আর চোটের সাথে লড়াকু

লা লিগায় মরসুম সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার নিজের ঝুলিতে পুরলেন

ফুটবল

প্রশান্ত মহাসাগরের কোল ঘেঁষে এবং মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত ঘেঁষে

ফুটবল

লা লিগায় মরসুম সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার নিজের ঝুলিতে পুরলেন তিনি।

ফুটবল

লিগ টেবিলে দলের অবস্থান যেমনই হোক না কেন, টটেনহ্যাম হটস্পারের

ক্রিকেট

আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ