দুই অর্ধে দুই একদম বিপরীত চেহারায় দেখা গেল ম্যানচেস্টার সিটিকে। কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা এবং দুই অভিজ্ঞ ফুটবলার বের্নার্দো সিলভা ও জন স্টোন্সের বিদায়ী ম্যাচের প্রথমার্ধে চেনা আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরাল তারা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে এসে অ্যাস্টন ভিলার গতিময় ফুটবলের সামনে বারবার খেই হারাল সিটিজেনরা। উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া মরসুমের শেষ ম্যাচটায় শেষ পর্যন্ত হেরেই মাঠ ছাড়ল সিটি।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শেষ দিনে রোববার এক সাথে মাঠে নেমেছিল লিগের ২০টি দল। ৩৮তম রাউন্ডের এই ম্যাচে কদিন আগেই ইউরোপা লিগের মুকুট জেতা ভিলার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি।
ম্যাচের ২৩তম মিনিটেই অবশ্য অ্যান্টোয়ান সেমেনিওর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল সিটি। স্বাগতিকদের একটি কর্নার থেকে ভিলার একজন ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ফ্লিক করলে পেছনের পোস্টে ফাঁকায় পেয়ে যান সেমেনিও। সেখান থেকে অনায়াসে বল জালে জড়ান তিনি। এরপর প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ানোর দুটি দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করে সিটি।
তবে বিরতির পর অবিশ্বাস্যভাবে পাল্টে যায় খেলার পুরো চিত্র। প্রথমার্ধে গোলের জন্য একটি শটও নিতে না পারা ভিলা সমতা ফেরায় ৪৭তম মিনিটে। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল সিটির ডিফেন্ডার জন স্টোন্সের হেডে লেগে ভিলা ফরোয়ার্ড অলি ওয়াটকিন্সের শরীরে আঘাত করে। দারুণ ক্ষিপ্রতায় ফিরতি বলে খুব কাছ থেকে জাল খুঁজে নেন ওয়াটকিন্স।
ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে দুই দলের খেলোয়াড়দের দেওয়া ‘গার্ড অব অনার’ এবং গ্যালারি জুড়ে দর্শকদের তুমুল করতালির মধ্যে চোখভেজা জলে মাঠ ছাড়েন বের্নার্দো সিলভা। এই ম্যাচ দিয়েই সিটির সোনালী অধ্যায়ের ইতি টানলেন এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। সিলভার চোখে তখন জল, আর ডাগআউটে দাঁড়ানো সিটির বিদায়ী মাস্টারমাইন্ড পেপ গুয়ার্দিওলাকেও ছুঁয়ে যায় সেই আবেগ। অশ্রু দেখা যায় এই স্প্যানিশ কোচের চোখেও।
এর ঠিক দুই মিনিট পর, ৬১তম মিনিটে ভিলাকে এগিয়ে নেন সেই ওয়াটকিন্স। অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। সামনে থাকা স্টোন্সকে ফাঁকি দিয়ে এক কোনাকুনি শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি উদ্যাপন করেন তিনি।
৭৮তম মিনিটে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আবারও একই আবেগঘন দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে। সিলভার মতোই একইভাবে মাঠের সবার অভিবাদন নিয়ে চোখের জলে মাঠ ছাড়েন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জন স্টোন্স। ইংলিশ ফুটবলে সিটির গত কয়েক বছরের একচ্ছত্র আধিপত্যের নেপথ্যে অগ্রণী ভূমিকা ছিল তাঁর। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই ইতিহাদে শেষ হলো স্টোন্সের দীর্ঘ পথচলা।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, ৮৯তম মিনিটে এক বুলেট গতির শটে ভিলার জালে বল পাঠিয়েছিলেন ফিল ফোডেন। তবে অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। পরে ভিএআরে (VAR) যে ছবি দেখানো হয়, তাতে ফোডেন আসলেই অফসাইডে ছিলেন কি না তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না। সিদ্ধান্তটি স্ক্রিনে দেখামাত্রই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন স্বাগতিক সমর্থকেরা।
শেষ পর্যন্ত ৩৮ ম্যাচে ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দুই নম্বরে থেকে এবারের মরসুম শেষ করল ম্যানচেস্টার সিটি। আর সেই সাথে সমাপ্তি ঘটল সিটির ডাগআউটে পেপ গুয়ার্দিওলার এক অবিস্মরণীয় ও মহাসাফল্যের মহাকাব্যিক অধ্যায়ের।