অধিনায়ক বেন স্টোকস মনে করিয়েছেন যে, পরিস্থিতি মোটেও আদর্শ ছিল না।
অস্ট্রেলিয়ায় ৫,৪৬৮ দিন পর ইংল্যান্ডের কোনো টেস্ট জয়। তাই অধিনায়ক হিসেবে স্টোকসের গর্ব স্বাভাবিক। তবে কোন পরিস্থিতি থেকে এই জয় এসেছে, তা ভোলা যায়নি। তার মতে, দলের জন্য সামগ্রিক পরিস্থিতি মোটেও আদর্শ ছিল না।
অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া ইংল্যান্ডের আশা শুরুতেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়। ১১ দিনের অ্যাশেজ সফরে প্রথম তিনটি টেস্ট হারে তারা। সঙ্গে ক্রিকেটারদের অতিরিক্ত মদ্যপানের সমালোচনাও চাপ সৃষ্টি করে।
এই কঠিন পরিস্থিতিতেই মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টে নামেন ইংলিশরা। পেসারদের সুবিধাজনক উইকেটে দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্সে দুই দিনেই ৪ উইকেটে জয় তুলে নেয় তারা।
এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের দীর্ঘ এক অপেক্ষার অবসান হয়। ১৫ বছর আর ১৮ টেস্ট পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তারা টেস্ট জয়ের স্বাদ পায়। তাদের শেষ জয় হয়েছিল ২০১১ সালের জানুয়ারিতে, সিডনিতে। এরপরের ১৮ টেস্টের মধ্যে ১৬ হারে এবং ২ ড্রয়ে ইংল্যান্ড অপেক্ষা করছিল। অবশেষে প্রথম জয় তাদের হাতে আসে।
ম্যাচ শেষে স্টোকস বলেন, আশা অনুযায়ী সফরটা পুরোপুরি সফল না হলেও, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পেরে খুশি তারা। তিনি আরও বলেন, “ভালো লাগছে। সফরটা কঠিন ছিল। তবে লম্বা সময় পর অস্ট্রেলিয়ায় জেতে দলের অংশ হতে পারা দারুণ ব্যাপার।”
তিনি যোগ করেন, “অনেক সমালোচনার পরও এমন পারফরম্যান্স করা, শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারানো, খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের সাফল্য। তারা সবাই ক্রিকেটের দিকে মনোযোগ রেখেছিল।”
অস্ট্রেলিয়ায় চতুর্থবারের সফরে ১৮ টেস্ট খেলে প্রথম জয়ের স্বাদ পেলেন ইংল্যান্ডের সফলতম ব্যাটসম্যান জো রুট। তাই তার জন্যও এই জয় বিশেষ। সতীর্থদের নিয়ে তিনি গর্বিত।
স্টোকস বলেন, “যদিও এই জয় সিরিজে প্রভাব ফেলবে না, তবে সমালোচনার পর দলের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া। আমি ছেলেদের জন্য গর্বিত এবং আশা করি, এই ছন্দ পরের ম্যাচে কাজে লাগবে।”
অ্যাশেজের পঞ্চম ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ৪ জানুয়ারি, সিডনিতে।