অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও ব্যাটিং লেজেন্ড রিকি পন্টিং মনে করেন, গিলের মতো একজন খেলোয়াড়কে বিশ্বকাপ দলে না নেওয়া ভারতীয় ক্রিকেটের গভীরতাকেই ফুটিয়ে তোলে।
ভারতের টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক শুবমান গিল টি-টোয়েন্টিতে ছিলেন সহ-অধিনায়ক। কিন্তু তাকেই ২০ ওভারের ক্রিকেটের বিশ্বকাপ দলে রাখা হয়নি, যা পন্টিংকে যথেষ্ট অবাক করেছে। তবে গিলের মতো একজন ব্যাটসম্যান বাদ পড়লেও, এ থেকে ভারতীয় ক্রিকেটের শক্তিশালী প্লেয়ার-বেসের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, বলছেন অস্ট্রেলিয়ার এই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
গিলকে হুট করে বাদ দেওয়া হয়নি ভারতীয় দল থেকে। তার সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স প্রত্যাশার কাছাকাছি ছিল না; শেষ ১৫ ম্যাচে কোনো ফিফটি করতে পারেননি তিনি। এই ফর্মহীনতাই তাকে বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুবমান গিলকে টি-টোয়েন্টিতে খেলানো নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। গত সেপ্টেম্বর, এশিয়া কাপের আগে প্রায় ১৩ মাস পর তাকে হুট করেই দলে ফেরানো হয়েছিল। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠছিল। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তেমন ভালো পারফরম্যান্স না দেখানোয় এই প্রশ্নগুলো আরও বেড়ে গেছে।
তবুও, গিলের মতো একজন খেলোয়াড়কে বিশ্বকাপ দলে না নেওয়া পন্টিংয়ের জন্য অবিশ্বাস্য। আইসিসি রিভিউয়ে তিনি এ নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন।
“আমি এটা বিশ্বাস করতে পারছি না। জানি, সাদা বলে তার সাম্প্রতিক ফর্ম ভালো নয়। শেষবার ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজে তাকে অসাধারণ ব্যাটিং করতে দেখেছি, এমন ব্যাটিং আমি আগে কখনও কাউকে করতে দেখিনি। প্রথমত, আমি বিশ্বকাপ দলে তার বাদ পড়ায় অবাক হয়েছি। তবে এতে ভারতীয় ক্রিকেটের গভীরতার প্রমাণ পাওয়া যায়।”
“শুভমান গিলের মতো একজন দারুণ ক্রিকেটারকে তারা যদি বিশ্বকাপ দলে না নেওয়ার কথা ভাবতে পারে, তাহলে এটি প্রমাণ করে যে, তাদের কাছে কত ভালো খেলোয়াড় রয়েছে।”
ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে গিল এখন পর্যন্ত ৩৬ ম্যাচে ৮৬৯ রান করেছেন ১৩৮.৫৯ স্ট্রাইক রেটে। ব্যাটিং গড় ২৮.০৩। একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে তিনটি ফিফটি আছে তার।
সর্বমোট ১৭৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৫,৪১২ রান করেছেন গিল, ১৩৮.৮০ স্ট্রাইক রেটে ৩৬.৮১ গড় নিয়ে। এছাড়া পাঁচটি সেঞ্চুরি ও ৩২টি ফিফটি রয়েছে তার নামের পাশে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুবমান গিলের দল ‘এ’ গ্রুপে। তাদের অন্য চার প্রতিপক্ষ হলো পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়া ও নেদারল্যান্ডস।
ভারত আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার যাত্রা শুরু করবে।