টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে না থাকলেও, ওয়ানডে পরিকল্পনায় মোহাম্মেদ সিরাজকে দেখে খুশি দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটিং গ্রেট এবি ডি ভিলিয়ার্স।
ভারতের টেস্ট দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সিরাজ ওয়ানডেতে কিছুটা অনিয়মিত থাকলেও, টি-টোয়েন্টিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের বাইরে। আগামী বিশ্বকাপের স্কোয়াডেও সুযোগ পাননি এই ডানহাতি পেসার। সেই কারণে দক্ষিণ আফ্রিকান লেজেন্ড সিরাজকে কিছুটা দুর্ভাগা মনে করছেন।
সিরাজ ভারতের জার্সিতে শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। এই সংস্করণে ১৬ ম্যাচে তার সংগ্রহ ১৪ উইকেট, ওভারপ্রতি রান ৭.৭৯।
আইপিএলে অবশ্য নিয়মিত দেখা যায় সিরাজকে। ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে ৯ আসরে ১০৮ ম্যাচে তিনি ১০৯ উইকেট নিয়েছেন। সব মিলিয়ে, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১৬০ ম্যাচে তার প্রাপ্তি ১৮৩ উইকেট।
গত মাসে ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে হায়দরাবাদের হয়ে দারুণ বোলিং করেছেন সিরাজ। চার ম্যাচে ধরেছেন সাত উইকেট। তবে এই পারফরম্যান্সও যথেষ্ট হয়নি ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ফেরার জন্য।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ভারতের ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে বিশেষজ্ঞ পেসার কেবল তিনজন—জসপ্রিত বুমরাহ, আর্শদীপ সিং ও হার্শিত রানা। তবে পেস বোলিং অলরাউন্ডার আছেন আরও দুইজন—হার্দিক পান্ডিয়া ও শিবাব দুবে।
সিরাজের তুলনায় ব্যাট হাতে কিছুটা ভালো হওয়ায় হার্শিতকে দলে রেখেছে ভারত, মনে করছেন ডি ভিলিয়ার্স। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভারতের বিশ্বকাপ দল নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
“সিরাজকে আমরা ওয়ানডে দলে দেখছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া দুর্ভাগাদের একজন সে। তবে এটা দলের ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করেছে। দলে বুমরাহ ও আর্শদীপ আছে। হার্শিত ব্যাটিংও করতে পারে। এই তিনজনই পেসার। আমার মনে হয়, এই কারণেই হার্শিতকে নেওয়া হয়েছে, কারণ সিরাজ কেবলই বোলার।”
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতের ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সিরাজকে ফেরানো হয়েছে। ডি ভিলিয়ার্সের ধারণা, ভারতের দল সিরাজকে সামনে রেখে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।
“তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পেস বোলিংয়ের দিকে বেশি নজর দেয়নি। তারা বেশি মনোযোগ দিয়েছে স্পিন বোলিংয়ে। শুরুর দিকে যদি পেসাররা উইকেট আনে, তাহলে এটাকে বোনাস হিসেবে দেখছে তারা। তাই সিরাজকে বলা যায় দুর্ভাগা, তবে অন্তত ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য ওয়ানডে দলের পরিকল্পনায় সে আছে।”
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে ভারত। ‘এ’ গ্রুপে তাদের অন্য তিন প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, নামিবিয়া ও নেদারল্যান্ডস।