সিলেট টাইটান্সের জয়ের ধারায় বড় ভূমিকা রেখেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। টুর্নামেন্টের প্রথম পাঁচ ম্যাচে চার নম্বরে নেমে দারুণ ব্যাটিং করলেও, তাকে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে ওপেনিংয়ে।
এই বিপিএল শুরুর আগে এমন প্রশ্ন ওঠার সুযোগই ছিল না। পারভেজ তো স্বভাবতই টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যান, ওপেনিংই যেন তার চেনা ঠিকানা। কিন্তু আসরের মাঝপথে এসে সেই পরিচিত ধারণাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে তাকে ওপেন করানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়। সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন সিলেট টাইটান্সের কোচ সোহেল ইসলাম।
নোয়াখালীর বিপক্ষে সোমবারের ম্যাচের আগ পর্যন্ত ইমনকে দেখা গেছে পুরোপুরি মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যান হিসেবেই। পাঁচ ম্যাচেই চার নম্বরে নেমেছেন, আর পারফরম্যান্সেও ছিলেন দুর্দান্ত। প্রথম দুই ম্যাচেই খেলেছেন কার্যকর দুটি ফিফটি। চার নম্বরে খেলে পাঁচ ম্যাচে তার সংগ্রহ ২০১ রান, গড় ৫০.২৫, স্ট্রাইক রেট ১৩৬.৭৩। এই ম্যাচ পর্যন্ত পুরো আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানও ছিল তার ঝুলিতে।
কিন্তু নোয়াখালীর বিপক্ষে হঠাৎ করেই ইমনকে দেখা গেল ওপেনিংয়ে। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় অবশ্য এদিন সফল হতে পারেননি তিনি, আউট হয়েছেন মাত্র ১ রান করে।
একটি ম্যাচে ব্যর্থতা খুব বড় কিছু নয়। তবে তার ব্যাটিং পজিশন নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। বিশেষ করে সামনে যখন বিশ্বকাপের মঞ্চ। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ২৩ বছর বয়সেই প্রথম বিশ্ব আসরে খেলতে পারেন পারভেজ।
বাংলাদেশ দলের হয়ে সবশেষ টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে চার নম্বরে নেমে ২৬ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। সে কারণেই গুঞ্জন চলছিল—জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই কি তাকে চারে খেলানো হচ্ছে?
এমন অবস্থায় হঠাৎ ওপেনিংয়ে ফেরায় প্রশ্নটা আরও জোরালো হয়। তবে সিলেটের কোচ সোহেল ইসলাম পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় দল থেকে কোনো নির্দেশনা নেই। পুরোপুরি দলের প্রয়োজন বিবেচনা করেই তিনি এই পরিবর্তন এনেছেন।
“নাহ, কোনো তথ্যই ছিল না (জাতীয় দল থেকে)। ওকে যখন চারে ব্যাট করিয়েছি, তখনও কোনো তথ্য আমাকে দেওয়া হয়নি। এখন ওপেনিংয়ে নামছে আমাদের দলের প্রয়োজনেই।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, “এখন মইন আলি এসেছে। এছাড়া (আজমাতউল্লাহ) ওমারজাই আছে, ইথান ব্রুকস আছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, মিডল অর্ডারে এখন যে বিদেশি ক্রিকেটাররা আছে, তারা অনেক ভালো করছে। তাই ইমনকে ওপেনিংয়ে ব্যবহার করলে দল বেশি উপকৃত হবে। ইমন ফর্মে আছে, যত বেশি সময় সে ক্রিজে থাকবে, তত ভালো খেলতে পারবে।”
ওপেনিংয়ে ফেরালেও মিডল অর্ডারে সফলভাবে খেলার অভিজ্ঞতা পারভেজের মূল্য বাড়িয়েছে বলেই মনে করেন কোচ। এটা খেলোয়াড় হিসেবে তার জন্য যেমন ভালো, তেমনি দলের জন্যও দারুণ একটি দিক।
“সাধারণত ওপেনাররা পাওয়ার প্লেতে বৃত্তটা কাজে লাগায়। কিন্তু পাওয়ার প্লের পর খেলাটা যখন খোলা হয়ে যায়, তখন অনেকেই সেই একই প্যাটার্নে সফল হতে পারে না। তখন প্রান্ত বদলাতে হয়, হিসেবি ঝুঁকি নিতে হয়, খেলার ধরন বদলায়। ইমন প্রমাণ করেছে, সে পাওয়ার প্লেতে খেলতে পারে, আবার ইনিংস গভীরেও নিয়ে যেতে পারে। পাওয়ার প্লের পর যে স্ট্রাইক রেটে বা যে ধরনের ব্যাটিং দরকার, সেটাও ওর মধ্যে আমি দেখেছি।”
সব মিলিয়ে, ব্যাটিং অর্ডারে এই রদবদল ইমনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হলেও, তার সামর্থ্য নিয়ে কোচের আস্থা স্পষ্টই ফুটে উঠেছে।