অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কোচ ড্যারেন লেম্যানের চোখে জো রুট এমন এক উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছেন, যেখানে পৌঁছাতে অন্যদের লাগবে অনেকটা পথ আর সময়।
টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট হাতে রুট যে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন, তাতে রীতিমতো মুগ্ধ লেম্যান। সিডনিতে দেড়শ ছাড়ানো ইনিংস খেলার পর তার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে—সাচিন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভেঙে ইংল্যান্ডের এই ব্যাটিং গ্রেট নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন, যা ছোঁয়া অন্যদের জন্য সহজ হবে না।
চলমান অ্যাশেজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন রুট। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সোমবার তিনি থামেন ১৬০ রানে। ২৪২ বল ও প্রায় ৪০০ মিনিট ধরে গড়া সেই ইনিংসে ছিল ১৫টি চার।
এটি টেস্ট ক্রিকেটে রুটের ৪১তম শতক। টেস্টে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির তালিকায় তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে। তার ওপরে আছেন ৪৫ সেঞ্চুরি করা দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রেট জ্যাক ক্যালিস। আর শীর্ষে, ৫১ শতক নিয়ে ভারতীয় কিংবদন্তি সাচিন টেন্ডুলকার।
শুধু সেঞ্চুরিই নয়, টেস্টে সবচেয়ে বেশি রানের মালিকানাও টেন্ডুলকারের—১৫ হাজার ৯২১ রান। তবে লেম্যানের বিশ্বাস, ৩৫ বছর বয়সী রুটের পক্ষে এই দুই রেকর্ডই ভাঙা সম্ভব।
টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে যেতে রুটের দরকার আর মাত্র ১১টি সেঞ্চুরি। আর রানের হিসাবে তিনি পিছিয়ে আছেন প্রায় দুই হাজারের মতো। ইংল্যান্ড যত নিয়মিত টেস্ট খেলছে, আর রুট যেভাবে ধারাবাহিক পারফর্ম করে চলেছেন, তাতে তার নতুন উচ্চতায় ওঠা কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করেন লেম্যান।
“এ কথা আমি আগেও বলেছি—অস্ট্রেলিয়ায় একবার সেঞ্চুরি পেয়ে গেলে, পরিসংখ্যানের বিচারে সে ব্র্যাডম্যানের পরেই সর্বকালের সেরাদের কাতারে থাকবে,” বলেন লেম্যান।
তার ভাষায়, “সে সব রেকর্ড ভেঙে দেবে। টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে যাবে, অন্য যে কারো চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করবে। আর তাকে ছুঁতে অন্যদের অনেক সময় লাগবে, কারণ সে এখনও দারুণ ফিট।”
এবারের আগে অ্যাশেজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় তিনবার সফর করেছিলেন রুট। ১৪টি টেস্ট খেলেও সেখানে কোনো সেঞ্চুরি ছিল না তার নামের পাশে। বিষয়টি নিয়ে কম আলোচনা-সমালোচনা হয়নি। এবারও সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারবেন কি না, তা নিয়েই ছিল তুমুল চর্চা।
এই সিরিজে পার্থে প্রথম টেস্টে রুট আউট হন ০ ও ৮ রানে। তবে দ্বিতীয় টেস্টে ব্রিজবেনে গিয়ে ভাঙে তার দীর্ঘ অপেক্ষা। দিন-রাতের টেস্টে গোলাপি বলে খেলেন ১৩৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। এরপর আবার ছন্দ হারান তিনি, পরের পাঁচ ইনিংসে ফিফটিও পাননি। শেষ পর্যন্ত সিডনিতে এসে ফের সেঞ্চুরির দেখা পেলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান।
চার বছর পর আবার অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ খেলতে যাবে ইংল্যান্ড। তখন রুটের বয়স হবে ৩৯। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এটাই কি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তার শেষ টেস্ট?
সিডনিতে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে এই প্রশ্নই করা হয়েছিল রুটকে। উত্তরে তিনি জানালেন নিজের ভাবনার কথা।
“আমার মনে হয়, বিষয়টা নিয়ে সবাই একটু বেশি ভাবছে। এই সিরিজজুড়ে আমরা দর্শকদের দারুণ সমর্থন পেয়েছি,” বলেন তিনি।
রুট যোগ করেন, “দল হিসেবে আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছিলাম, সেটা পূরণ করতে পারিনি। তবু সেই সমর্থনে কোনো ঘাটতি ছিল না। অস্ট্রেলিয়ায় যতবারই এসেছি, দর্শকদের ভালোবাসার কমতি দেখিনি।”
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আরেকটি অ্যাশেজ খেলার আশা যে তার আছে, সেটাও লুকাননি রুট। তবে ভবিষ্যৎটা তিনি সময়ের হাতেই ছেড়ে দিতে চান।
“কে জানে? দেখা যাক। আমি আবার এখানে ফিরতে চাইব, তবে তখন পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেটাই দেখার বিষয়।”