ইনিংসের শুরুতে বিধ্বংসী ফিফটি করেছেন কাইল মেয়ার্স, শেষ দিকে দারুণ ব্যাটিংয়ে ম্যাচ শেষ করেছেন মাহমুদউল্লাহ।
ম্যাচের প্রথম ওভারেই পায়ে টান লাগায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে মেয়ার্সকে। পরে মাঠে ফিরলেও বোলিং করতে পারেননি। ব্যাটিং ওপেন করতে নেমে শুরুতেই ভাগ্যের জোরে বাঁচেন—হালকা ছোঁয়ায় বল কিপারের হাতে গিয়লেও আম্পায়ার আউট দেননি, প্রতিপক্ষও রিভিউ নেয়নি। এরপর মেয়ার্স রূপ নেন রুদ্ররূপে, বিধ্বংসী ফিফটি করে জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন।
মেয়ার্সের ঝড়ের শুরুতে শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ ও খুশদিল শাহ উপহার দেন কার্যকর দুটি ক্যামিও। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা দুই দলের লড়াইয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শীর্ষে উঠে যায় রংপুর রাইডার্স।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম ২০ ওভারে তুলেছিল ১৬৯ রান। টানা তৃতীয় ফিফটি করেন ওপেনার অ্যাডাম রসিংটন।
রান তাড়ায় রংপুর ম্যাচ শেষ করে ৭ বল বাকি রেখে। মেয়ার্সের ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ৫০ রান। আগের দুই ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচ মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত থাকেন ১৯ বলে ৩০ রানে। এই জয়ে চট্টগ্রামকে সরিয়ে শীর্ষে উঠে যায় রংপুর।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা চট্টগ্রাম শুরু করে মোহাম্মদ নাঈম শেখের তিন বাউন্ডারিতে। মেয়ার্স পায়ে টান নিয়ে মাঠ ছাড়েন, বদলি বোলার রকিবুল হাসান প্রথম বলেই চার খেয়ে শুরু করেন। মুস্তাফিজুর রহমান চতুর্থ ওভারে নাঈমকে ফেরান ১৬ রানে।
আগের দুই ম্যাচে শতরানের বন্ধন করা ওপেনিং জুটি এ দিন থামে ২২ রানে। তিনে নেমে মাহমুদুল হাসান জয় তিনটি চার মেরে দলের স্কোর বাড়ান। তবে রসিংটন ফেরান জমে যান, রকিবুল ও খুশদিলকে ছাড়িয়ে ক্রিজে ছক্কা মারেন। রসিংটনের ফিফটি আসে ৩৩ বলে, এরপর তিনি ৪১ বলে ৫৮ রানে আউট হন।
মেয়ার্স ও দাভিদ মালানের জুটিতে আসে ২৭ বলে ৬১ রান। ক্রিজে গিয়ে মালান পরে থামেন ৩০ বলে ৩০ রানে। মেয়ার্স আউট হওয়ার সময় রংপুরের রান রেট ছিল প্রায় ১২। এরপর জুটিতে কিছুটা চাপ আসে, কিন্তু শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ ও খুশদিল ম্যাচের সমীকরণ মেলান।
শেষ চার ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৪১ রান। মাহমুদউল্লাহ তিনটি চার ও এক ছক্কায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। খুশদিল দুই চার ও একটি ছক্কা মারেন, শেষ বলেই আউট হন। কিন্তু রংপুরের জয় তখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
৫ ম্যাচের ৪টি জিতে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রংপুর। সমান ম্যাচে চট্টগ্রামের পয়েন্ট ৬।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৬৯/৫ (নাঈম ১৬, রসিংটন ৫৮, জয় ১২, নাওয়াজ ৪৬, আসিফ ১, শেখ মেহেদি ১৩*, জামাল ১৯*; মেয়ার্স ০.২-০-৯-০, রকিবুল ৩.৪-০-৪২-১, আলিস ৪-০-২৫-০, আকিফ ৪-১-২৯-২, মুস্তাফিজ ৪-০-৩২-২, খুশদিল ৪-০-৩০-০)।
- রংপুর রাইডার্স: ১৮.৫ ওভারে ১৭০/৫ (মেয়ার্স ৫০, লিটন ১০, মালান ৩০, হৃদয় ১৭, মাহমুদউল্লাহ ৩০*, খুশদিল ২২, সোহান ৩*; শরিফুল ৪-০-৩৭-৩, আবু হায়দার ৩-০-২৯-১, শেখ মেহেদি ৪-০-৪৫-০, জামাল ৪-০-৩৬-১, তানভির ৩.৫-০-২৩-০)।
ফল: রংপুর রাইডার্স ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কাইল মেয়ার্স