এবারের বিপিএলে মুস্তাফিজ যতটা দুর্দান্ত বোলিং করছেন, তা নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিক। তবে সব ছাপিয়ে গেছে আইপিএল থেকে বাদ পড়াকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক।
গ্র্যান্ড হোটেল সিলেটের লবিতে দেখা হয় এক সাবেক ক্রিকেটারের সঙ্গে, যিনি এখন বিপিএলের একটি দলের কোচিং স্টাফে আছেন। কুশলাদি বিনিময়ের পর তার প্রশ্ন, “কি হবে ভাই বলুন তো, বাংলাদেশের দাবি কি মানবে আইসিসি?”। ততক্ষণে আলোচনায় যোগ দিয়েছেন আরেক ক্রিকেটার, “মুস্তাফিজের টাকাটা কি হবে? কিছু অংশ কি দেওয়া হবে?”
শুধু ওই দুজনেরই নয়, এই প্রশ্ন এখন অসংখ্য মানুষের। মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া কেবল ক্রিকেটের সীমায় নেই, পুরো প্রসঙ্গ ঘিরে আগ্রহ ও আলোচনা ক্রিকেটের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে গেছে। বিপিএলের পরিচিত আবহেও ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে এই বিতর্ক। ক্রিকেটার, কোচ এবং সংশ্লিষ্ট অনেকেই নানা প্রশ্ন, মতামত ও চিন্তা বিনিময় করছেন।
এবারের বিপিএলে মুস্তাফিজ যেমন বোলিং করছেন, তাকে নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিক। তবে সব ছাপিয়ে গেছে আইপিএল থেকে বাদ পড়াকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি। তাই এখন বিপিএলকে বলা যায় ‘মুস্তাফিজময়’।
টানা দুই দিন ম্যাচ খেলার পর মঙ্গলবার রংপুর রাইডার্সের জন্য অনুশীলন ছিল না। সতীর্থদের সঙ্গে দিনটি বিশ্রামে কাটিয়েছেন মুস্তাফিজ। পরিবারকে নিয়ে ঘুরতেও বেরিয়েছিলেন। বিকেলে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুশীলনে যোগ দেন। বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেল তাকে। তবে ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট উত্তাল, এবং তার আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিয়েই চলছে আলোচনা।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে চার দলের সংবাদ সম্মেলনেও উঠে আসে মুস্তাফিজের প্রসঙ্গ। সাধারণ আড্ডা কিংবা আলোচনাতেও এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দুই দেশের বোর্ড ছাড়িয়ে সংবাদমাধ্যমেও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্রিকেটীয় রাজনীতি ও ভূ-রাজনীতির নানা বিশ্লেষণ চলছে।
বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, আইসিসির তরফ থেকে সভায় ডাকা হবে বিসিবিকে, এবং সেটির অপেক্ষা করা হচ্ছে। আপাতত চূড়ান্ত কিছু না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা ও উৎকণ্ঠার পালা চলতেই থাকবে।
মুস্তাফিজ অবশ্য এসব বিষয়কে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বরাবরই তিনি নির্লিপ্ত। উচ্ছ্বাস বা হতাশা খুব তীব্রভাবে প্রকাশ পায় না। আইপিএল থেকে বাদ পড়ায় তার ক্রিকেটীয় ক্ষতির পাশাপাশি বিশাল আর্থিক প্রাপ্তির সম্ভাবনাও মিলিয়ে গেছে। তবে রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান বলছেন, “মুস্তাফিজ বিন্দাস আছে।” দলের ব্যাটিং কোচ আশরাফুল বলেন, “মুস্তাফিজ চিল মুডে আছে।”
জাতীয় দলের সতীর্থ ও ঢাকা ক্যাপিটালসের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনও জানিয়েছেন, মুস্তাফিজকে নিয়ে আশঙ্কা ছিল, কিন্তু বাস্তবে তিনি পুরোপুরি রিল্যাক্সড। খেলোয়াড়দের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে সময় কাটিয়ে বোঝা যায়, তিনি মোটেও হতাশ নন।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে বিভিন্ন দলের অনুশীলন চলছিল। জাতীয় দলের পেসার তানজিম হাসানও সংবাদ সম্মেলনে মুস্তাফিজের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিসিবি শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং তাকে সাপোর্ট করছে। আইপিএল থেকে বাদ পড়ার কারণ আমরা জানি না, তবে বোর্ডের সাপোর্ট প্রশংসনীয়।
সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ও সিলেট টাইটান্সের ব্যাটিং কোচ ইমরুল কায়েস বিষয়টি খুব গভীরে যেতে চাইলেন না। তিনি মনে করান, এটি মূলত ভূ-রাজনৈতিক বিষয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের উত্তাপের চেয়ে বড় উত্তাপ পাকিস্তান-ভারতের মধ্যেও চলে। তবে ক্রিকেটকে রাজনীতিমুক্ত রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা।
সব মিলিয়ে, সংবাদ সম্মেলন, মাঠ, হোটেল ও দেশের ক্রিকেটের অলিগলি থেকে শুরু করে নানা প্রান্তে এখন মুস্তাফিজের উপস্থিতি। তার দাপটে বিপিএলের সব ধরনের আলোচনাকে ছাপিয়ে গেছে।