BN

ঝড়ো ফিফটি ও সেরা ইনিংসে ঢাকার ম্যাচ জেতালেন নাসির

ঝড়ো ফিফটি ও সেরা ইনিংসে ঢাকার ম্যাচ জেতালেন নাসির

নাসির হোসেন ২১ বলেই ফিফটি তুলে ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসে ঢাকার জয় নিশ্চিত

নাসির হোসেন ২১ বলেই ফিফটি তুলে ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসে ঢাকার জয় নিশ্চিত করলেন, আর টানা পাঁচ ম্যাচে পরাজিত হওয়া নোয়াখালীর তেতো স্বাদ বজায় রইল।

যৌবন এখনও অনেকটাই তরুণ, তবে নাসিরকে সাধারণত ধরা হয় অতীতের তারকা হিসেবে। এবার জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টিতে তিনি সেই ধারণাকে উল্টে দিয়েছেন। চমকপ্রদ ব্যাটিংয়ে নিজের ক্যারিয়ারের দ্রুততম ফিফটি তুলে দিয়ে সবকিছুকে প্রমাণ করলেন। চলতি বিপিএলে এই ফিফটি আগের রেকর্ড ধারক কাইল মেয়ার্সের (২৩ বলে) থেকেও দ্রুত।

টানা তিন ম্যাচ হারের পর ঢাকা ক্যাপিটালস এই অলরাউন্ডারের জোরে জয় দেখল। ৭ উইকেটে তারা নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে হারিয়েছে। অপরদিকে নোয়াখালী টানা পাঁচ ম্যাচে হেরে গেছে।

আগের ম্যাচের মতোই নোয়াখালী শুরুতে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। শুরুতে ৫ উইকেটে ৪০ রান হারিয়ে তারা ১৩৩ পর্যন্ত যেতে পেরেছিল হায়দার আলি ও মোহাম্মাদ নাবির লড়াইয়েই। কিন্তু নাসিরের আগমন সব বদলে দেয়। প্রথমে বল হাতে একটি উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে অপরাজিত থেকে ১৪ চার ও ২ ছক্কায় ৫০ বলে ৯০ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ২১ বলেই তিনি ফিফটিতে পৌঁছে দেন, যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্রুততম।

নাসিরের রুদ্র রূপের ব্যাটিংয়ে ঢাকার রান তাড়ার শুরু দারুণ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই হাসান মাহমুদের শিকার হন রাহমানউল্লাহ গুরবাজ (০), এরপর তৃতীয় ওভারে বিদায় নেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। নাসির তখন মাঠে এসে শুরু করেন আক্রমণ। মোহাম্মাদ নাবিকে চারটি চার মারেন, মাজ সাদাকাতের ওভারে তিন চার ও একটি ছক্কায় ১৮ রান নেন। রেজাউর রহমান রাজার ওভারে তিন বাউন্ডারি মারার মধ্য দিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৫০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করেন।

প্রথম তিন ওভারে ঢাকা ২ উইকেটে ১৪ রান, পরবর্তী তিন ওভারে নাসিরের বাউন্ডারি ঝড়ে আসে ৫০ রান। অপর প্রান্তে ইরফান শুক্কুর ছিলেন দর্শক। জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক সাইফ হাসানের বদলে একাদশে সুযোগ পাওয়া ইরফান ১২ রান করে আউট হন।

ঢাকার জয় নিশ্চিত করতে ইমাদ ওয়াসিমের সঙ্গে নাসিরের জুটি অবিচ্ছিন্ন থাকে। ৪০ বলে তারা ৬৪ রান জুটিতে যোগ করেন। ম্যাচের প্রথম ভাগে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ইমাদ অপরাজিত ছিলেন ১৬ বলে ২৯ রানে।

ঢাকার শুরুও ছিল শক্তিশালী। টস জিতে বোলিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লেতে তিন উইকেট তুলে নেয় তারা। ইমাদ ওয়াসিমের বলে কাভারে সৌম্য সরকার ১ রান করে ক্যাচ দেন। হাবিবুর রহমান সোহানকে ফেরান তাসকিন আহমেদ, মুনিম শাহরিয়ারকে বোল্ড করে দেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। মাহিদুল ইসাম ৪ রান করে জিয়াউর রহমানের বলে আউট হন।

নাসির মাজ সাদাকাতকে ফেরিয়ে নোয়াখালীর ইনিংস বিপর্যয়াত্মকভাবে এগিয়ে দেন। হায়দার আলি ও মোহাম্মাদ নাবি দলকে কিছুটা সামলান। দশম ওভারে তারা জুটিতে ৬৪ রান যোগ করেন। হায়দার ৩৬ বলে ৪৭ রানে আউট হন, নাবি ৩৩ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন।

শেষ পর্যন্ত নাসিরের ব্যাটে ঢাকা জয় পায় ৩৫ বল বাকি রেখে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

  • নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৩৩/৬
    (সোহান ৬, সৌম্য ১, সাদাকাত ২৪, মুনিম ২, মাহিদুল ৪, নাবি ৪২*, হায়দার ৪৭, হাশিম ০*; ইমাদ ৪-০-১৬-১, তাসকিন ৪-০-২৮-১, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩০-১, জিয়াউর ৪-১-২৬-১, নাসির ৩-০-২৪-১, আল মামুন ১-০-৬-১)
  • ঢাকা ক্যাপিটালস: ১৪.১ ওভারে ১৩৪/৩
    (গুরবাজ ০, আল মামুন ১, নাসির ৯০*, ইরফান ১২, ইমাদ ২৯*; হাসান ৩-০-১৭-২, নাবি ৩-০-৩১-০, সাদাকাত ১-০-১৮-০, রেজাউর ২.১-০-২৭-০, হাশিম ২-০-৮-০, জাহির ৩-০-৩২-১)

ফলাফল: ঢাকা ক্যাপিটালস ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাসির হোসেন

সর্বশেষ সংবাদ

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এবারই প্রথম প্রকাশ্যে

‘পাকিস্তানকেও ভালো লেগেছে। জানি বিষয়টা রাজনৈতিক, তবু বাংলাদেশের পাশে

ক্রিকেট

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)

ক্রিকেট

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এবারই প্রথম প্রকাশ্যে কথা

ক্রিকেট

‘পাকিস্তানকেও ভালো লেগেছে। জানি বিষয়টা রাজনৈতিক, তবু বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোটা

ক্রিকেট

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার