BN

দুর্দান্ত স্কোরে ম্যাচ জিতে লিগ লিডার চট্টগ্রাম

দুর্দান্ত স্কোরে ম্যাচ জিতে লিগ লিডার চট্টগ্রাম

স্থানীয় দর্শকদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিল সিলেট টাইটান্স। নিজেদের মাঠে আবারও হারতে

স্থানীয় দর্শকদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিল সিলেট টাইটান্স। নিজেদের মাঠে আবারও হারতে হলো তাদের। ম্যাচের উত্তেজনা শেষ হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। পরাজয় যেন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তবুও শেষ পর্যন্ত গ্যালারিতে টিকে ছিলেন প্রায় দুই হাজার দর্শক। শেষদিকে তাদের কিছুটা হলেও বিনোদন দিলেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। মূলত পেসার হলেও দশ নম্বরে নেমে ব্যাট হাতে কয়েকটি চোখধাঁধানো শট খেলেন তিনি। গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়ে করতালি—স্থানীয় দর্শকদের প্রাপ্তি বলতে সেটুকুই।

সিলেট টাইটান্সকে ১৪ রানে হারিয়ে আবারও বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল চট্টগ্রাম রয়্যালস। ব্যবধান শেষ পর্যন্ত খুব বড় না হলেও বাস্তবে ম্যাচটি চট্টগ্রামের দখলেই চলে গিয়েছিল আগেই। শেষদিকে খালেদের ঝোড়ো ব্যাটিং কেবল ব্যবধানটাই কিছুটা কমিয়েছে।

বুধবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম তোলে ২০ ওভারে ১৯৮ রান। চলতি আসরে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। আশ্চর্যের বিষয়, এই বড় স্কোরের ইনিংসে কোনো ব্যাটসম্যানই ফিফটির দেখা পাননি। দলীয় ও সম্মিলিত ব্যাটিংয়ের দারুণ এক উদাহরণ রেখে যায় চট্টগ্রাম।

মাত্র এক রানের জন্য বিপিএলে টানা চার ম্যাচে ফিফটির অনন্য কীর্তি গড়া হলো না ইংলিশ ওপেনার অ্যাডাম রসিংটনের। তবে মাহমুদুল হাসান জয় ও শেখ মেহেদি হাসানের ক্যামিও ইনিংস ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

রান তাড়ায় সিলেট থামে ১৮৪ রানে। শেষদিকে খালেদ ৯ বলে ২৫ রান করেন, মারেন তিনটি ছক্কা। বল হাতেও এ দিন উজ্জ্বল ছিলেন আমির জামাল। আগের তিন ম্যাচে মাত্র তিন উইকেট নেওয়া এই পেসার এক ম্যাচেই তুলে নেন চারটি উইকেট।

চট্টগ্রামের ইনিংসের শুরুটাই ছিল আগ্রাসী। প্রথম চার ওভারে রসিংটন ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ মিলিয়ে ছয়বার বল পাঠান সীমানার বাইরে। বাঁহাতি নাঈমকে আটকাতে তৃতীয় ওভারেই মইন আলিকে আক্রমণে আনা হয়। পরের ওভারেই তা কাজে লাগে—স্লগ করতে গিয়ে আউট হন নাঈম (১৫ বলে ১৮)।

তবে সেই ধাক্কা উপেক্ষা করে দুর্দান্ত সব শট খেলতে থাকেন মাহমুদুল হাসান জয়। আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের এক ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন তিনি। পাওয়ার প্লেতে চট্টগ্রামের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬০ রান। জয় তখন দ্রুত ফিফটির পথে ছুটছিলেন। রুয়েল মিয়াকে টানা দুই বলে দুটি ছক্কা মারলেও পরের বলেই থামেন (২১ বলে ৪৪)।

রসিংটনের ইনিংস শুরুতে কিছুটা মন্থর ছিল। ২৭ বলে ৩২ রান করার পর গিয়ার বদলান তিনি। খালেদ আহমেদকে টানা চার ও ছক্কা হাঁকান। বিপিএলের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা চার ম্যাচে ফিফটি করার খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত থেমে যান ৩৮ বলে ৪৯ রানে, রুয়েলের বলেই।

হাসান নাওয়াজের শুরুটাও ছিল ধীর। পরে খালেদকে টানা দুই ছক্কায় ইঙ্গিত দিলেও আউট হয়ে যান (২০ বলে ২৫)। আসিফ আলিও দুটি চার মেরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। এরপর ইনিংসের শেষটা জমিয়ে তোলেন অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসান। শেষ তিন ওভারে চট্টগ্রাম তোলে ৩৯ রান, এর মধ্যে ৩৩ রানই আসে তার ব্যাট থেকে।

রান তাড়ায় সিলেটের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। দ্বিতীয় ওভারেই আউট হন পারভেজ হোসেন ইমন (২)। চার নম্বরে নেমে ভালো শুরু করা তৌফিক খান তুষার ও আফিফ হোসেন জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে নাটকীয়ভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। আমির জামালকে ছক্কা মারার পরের বলেই আউট হন তৌফিক (১৯ বলে ২৩)। রনি তালুকদার প্রথম বলেই ছক্কা মারলেও পরের ডেলিভারিতে বিদায় নেন।

আফিফ হোসেনকে দেখে মনে হচ্ছিল নিজের সেরা ছন্দে ফিরছেন। কিন্তু আসরে প্রথম ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়েও তানভির ইসলামের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন (৩৩ বলে ৪৬)।

এরপর মইন আলি ও ওমারজাইও বড় কিছু করতে পারেননি। হাসান নাওয়াজের অফ স্পিনে ছক্কা মারার পরের বলেই বোল্ড হন মইন। স্বীকৃত ক্রিকেটে এটি ছিল নাওয়াজের প্রথম শিকার। এরপর ইথান ব্রুকস ১০ বলে ২০ রান করেন। অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বোলিং না করলেও ব্যাট হাতে আট নম্বরে নেমে করেন ১৪ বলে ১৭।

সিলেট তখন বড় পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে। শেষদিকে খালেদ ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্য দেখিয়ে ব্যবধান কিছুটা কমান। বল হাতে এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খরুচে ম্যাচ—৪ ওভারে দেন ৫৫ রান। ব্যাটিংয়ে নেমে কিছুটা হলেও পুষিয়ে দেন সেই ক্ষতি।

ছয় ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস। এক ম্যাচ কম খেলেও সমান পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে দ্বিতীয় স্থানে রংপুর রাইডার্স। আর সাত ম্যাচে এটি সিলেট টাইটান্সের চতুর্থ হার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

  • চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৯৮/৫
  • সিলেট টাইটান্স: ১৯.৪ ওভারে ১৮৪

ফল: চট্টগ্রাম রয়্যালস ১৪ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মাহমুদুল হাসান জয়

সর্বশেষ সংবাদ

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এবারই প্রথম প্রকাশ্যে

‘পাকিস্তানকেও ভালো লেগেছে। জানি বিষয়টা রাজনৈতিক, তবু বাংলাদেশের পাশে

ক্রিকেট

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)

ক্রিকেট

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এবারই প্রথম প্রকাশ্যে কথা

ক্রিকেট

‘পাকিস্তানকেও ভালো লেগেছে। জানি বিষয়টা রাজনৈতিক, তবু বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোটা

ক্রিকেট

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার