ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি নিয়ে আইসিসিকে আরও জোরালোভাবে বোঝানোর চেষ্টা করবে বিসিবি—এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
বুধবার তিনি বলেন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার যে অনুরোধ বিসিবি করেছে, সেটির পেছনে নিরাপত্তা–সংক্রান্ত উদ্বেগের গুরুত্ব আইসিসিকে বোঝানোই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। এই বিষয়টি শুধু খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের মর্যাদার সঙ্গেও জড়িত বলে মনে করেন তিনি।
আসিফ নজরুল জানান, আইসিসির পক্ষ থেকে পাঠানো একটি চিঠি পড়ে তাদের ধারণা হয়েছে, ভারত সফরে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আইসিসি এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেনি। তার ভাষায়, এটি কেবল নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, জাতীয় সম্মানের বিষয়ও। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, যখন বিসিসিআই নিজেই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে জানিয়ে দেয় যে কোনো এক বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয় এবং তাকে দল থেকে বাদ দিতে বলে, তখন সেটিই প্রমাণ করে ভারতে খেলা কতটা নিরাপদ।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্রুপপর্বের প্রথম তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে। তবে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির মধ্যে বিসিসিআই কোনো নির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়েই আইপিএল ২০২৬ স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। একই সঙ্গে বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানায়, তারা ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে রাজি নয়। মঙ্গলবার আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে আলোচনা হয়। এরপর বুধবার সকালে বিসিবি এক বিবৃতিতে জানায়, আইসিসির কাছ থেকে তারা কোনো চূড়ান্ত আলটিমেটাম পায়নি এবং সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনার পথ খোলা থাকবে। তবে এর কিছুক্ষণ পরই আসিফ নজরুল আবারও স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ ভারতে খেলতে চায় না।
তিনি বলেন, ভারতের সামগ্রিক পরিস্থিতি বা সাম্প্রদায়িক প্রসঙ্গ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে চান না। কিন্তু যখন প্রশ্ন আসে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদার, তখন কোনো আপস হবে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলতে চায়, বিশ্বকাপ খেলতেও চায়, তবে শ্রীলঙ্কায়, যা এই টুর্নামেন্টের আরেক আয়োজক দেশ। তাদের অবস্থান স্পষ্ট এবং তারা আশা করেন, আইসিসি খোলা মন ও নিরপেক্ষভাবে বাংলাদেশের যুক্তি বিবেচনা করবে।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, পরবর্তীতে কী সিদ্ধান্ত আসবে তার ওপর ভিত্তি করে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। আপাতত তাদের অবস্থান পরিষ্কার—আইসিসিকে বোঝাতে হবে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে খেলা বাংলাদেশের জন্য অনুকূল নয়।
এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। তিনি বলেন, নিরাপত্তা শঙ্কা শুধু দল নিয়েই নয়, এর সঙ্গে জড়িত সমর্থক ও সাংবাদিকরাও। ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে বিদেশে যাওয়া প্রতিটি বাংলাদেশির নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। তাই সরকার যে নির্দেশনা দেবে, বিসিবি সেটিই অনুসরণ করবে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, তারা ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন সরকারের অবস্থান জানতে। যদি নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অধিকার আদায়ে তারা লড়াই করবেন। অতীতেও নিরাপত্তার কারণেই বিভিন্ন টুর্নামেন্ট হাইব্রিড মডেলে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে যায়নি, আবার কোনো কোনো আসরে পাকিস্তানও ভারতে খেলেনি—এই উদাহরণ টেনে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আইসিসি বাংলাদেশের যুক্তির যথাযথ মূল্যায়ন করবে।
বর্তমান অবস্থানে যদি বাংলাদেশ ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় এবং আইসিসি ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরাতে রাজি না হয়, তাহলে কার্যত গ্রুপপর্বেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশ।