ওই ঘটনার জেরে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ককে আর্থিক জরিমানাও গুনতে হয়েছিল।
মদ্যপান ঘিরে বিতর্ক যেন ইংল্যান্ড দলকে পিছু ছাড়ছেই না। অ্যাশেজ সিরিজের শেষ দিনে সামনে আসে হ্যারি ব্রুকের এক পুরনো নাইটক্লাব কাণ্ড, যেখানে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ইতোমধ্যেই সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত অক্টোবরে, নিউ জিল্যান্ড সফরের সময়। ওয়েলিংটনে কিউইদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচের আগের রাতে একটি নাইটক্লাবে যান ব্রুক। তবে তাকে মদ্যপ বলে সন্দেহ করে ভেতরে ঢুকতে দেননি নিরাপত্তারক্ষীরা।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এক নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে তর্কে জড়ান ব্রুক। একপর্যায়ে ওই নিরাপত্তারক্ষী তাকে আঘাতও করেন। যদিও এতে ইংল্যান্ডের টেস্ট সহ-অধিনায়ক কোনো চোট পাননি।
ঘটনার পর ব্রুক নিজেই বিষয়টি ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) জানান। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাকে ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করে বোর্ড। পাশাপাশি এটিকে ‘শেষ সতর্কতা’ হিসেবেও জানিয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার ইংলিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ প্রথম এই ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করে। একই দিনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিডনি টেস্টে ৫ উইকেটে হেরে অ্যাশেজ শেষ করে ইংল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।
গত ৩১ অক্টোবরের ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ব্রুক। ভবিষ্যতে নিজেকে শুধরে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
“আমার কাজের জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। পুরোপুরি স্বীকার করছি, আমার আচরণ ছিল অনুচিত এবং তা আমাকে ও ইংল্যান্ড দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করা আমার কাছে সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয়, যা আমি সবসময় গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। সতীর্থ, কোচ এবং সমর্থকদের হতাশ করার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত,” বলেন ব্রুক।
অস্ট্রেলিয়ায় নিজের প্রথম অ্যাশেজ সফরটা খুব একটা ভালো কাটেনি তার। ১০ ইনিংসে তিনি করতে পেরেছেন মোট ৩৫৮ রান। সামনে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেবেন ব্রুক। তার আগে শ্রীলঙ্কা সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড, যেখানে তিনিই থাকবেন অধিনায়কের ভূমিকায়।
এবারের অ্যাশেজ চলাকালে ইংলিশ ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগও ওঠে। বিবিসিসহ একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাডিলেইডে তৃতীয় টেস্টের আগে কুইন্সল্যান্ডের নুসা সৈকতে কাটানো সময়ের বড় একটি অংশে কয়েকজন ক্রিকেটার মদ্যপান করেন। এমনকি ব্রিজবেন টেস্টে হারের পরও টানা দুই দিন একই আচরণ করেন তারা।
বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেট পরিচালক রব কি। আর অ্যাশেজে ভরাডুবির পর ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গৌল্ড বলেছেন, পুরো সফরের সব দিকই পর্যালোচনা করছে বোর্ড—যার মধ্যে ক্রিকেটারদের আচরণও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হবে।