BN

ডি ক্লার্কের নায়কোচিত ফিনিশে শেষ বলে জিতল আরসিবি

ডি ক্লার্কের নায়কোচিত ফিনিশে শেষ বলে জিতল আরসিবি

শেষ ওভারে তিন উইকেট হাতে নিয়ে আরসিবির দরকার ছিল ১৮ রান। কঠিন

শেষ ওভারে তিন উইকেট হাতে নিয়ে আরসিবির দরকার ছিল ১৮ রান। কঠিন সেই সমীকরণ ভেঙে আবারও হারমানপ্রিত কৌরের নেতৃত্বাধীন দলের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয় ছিনিয়ে নিলেন নাদিন ডি ক্লার্ক।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

  • রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: ১৫৭/৭ (ডি ক্লার্ক ৬৩*, কের ২/১৩)
  • মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স: ১৫৪/৬ (সাজনা ৪৫, কেয়ারি ৪০, ডি ক্লার্ক ৪/২৬)
  • ফল: আরসিবি ৩ উইকেটে জয়ী

ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচেই রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় আরসিবি। শেষদিকে নাদিন ডি ক্লার্কের বিধ্বংসী ব্যাটিং অনেকটাই মনে করিয়ে দেয় ২০২৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া সেই ঐতিহাসিক ইনিংসের কথা।

এই জয়ের মাহাত্ম্য আরও বেড়ে যায় কারণ স্মৃতি মান্ধানা, গ্রেস হ্যারিস ও ঋচা ঘোষ—এই তিন তারকাই আট ওভারের মধ্যেই ফিরে যান। তখনও আরসিবির দরকার ছিল ৯০ রান। এমন পরিস্থিতিতে ডি ক্লার্কের একার লড়াই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

শেষ ওভারে ১৮ রান দরকার থাকলেও প্রথম দুটি বল ডট খেলেন ডি ক্লার্ক। এরপর টানা ছয়, চার ও ছক্কায় সমীকরণ নামিয়ে আনেন ১ বলে ২ রানে। এক রান বাঁচাতে ফিল্ডাররা সামনে এলে ব্যাক করে গিয়ে নাট স্কিভার-ব্রান্টের বলে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে মারেন ম্যাচ জেতানো শট। অবিশ্বাস্য এক জয় নিশ্চিত হয় তখনই।

৬৩ রানে অপরাজিত থাকা ডি ক্লার্ক এর আগে বল হাতেও নেন ৪ উইকেট, খরচ করেন ২৬ রান। ব্যাটে-বলে মিলিয়ে এমভিপি পারফরম্যান্সে তিনি প্রতিপক্ষ শিবিরকে স্তব্ধ করে দেন। হারমানপ্রিত কৌরের মুখে তখন শুধু একরাশ বিস্ময় আর তেতো হাসি—ডেজা ভু যেন আবার ফিরে এল।

মুম্বাইয়ের শেষদিকের ভুল আর সোনালি সুযোগ নষ্ট

১৯তম ওভারের শুরুতেই ম্যাচ নিজেদের করে নেওয়ার সুযোগ ছিল মুম্বাইয়ের। তখন আরসিবির দরকার ২৯ রান। প্রথম বলেই লং-অফে সহজ ক্যাচ ফেলেন স্কিভার-ব্রান্ট। একই ওভারের চতুর্থ বলে আরও দুটি সুযোগ হাতছাড়া হয়—ডিপ স্কয়ার লেগে ডি ক্লার্কের মিসটাইমড শট ধরতে পারেননি অ্যামেলিয়া কের, আর রান আউটের সুযোগ নষ্ট করেন জি কামালিনি।

এই বিশৃঙ্খলার মাঝেও অবদান রাখেন প্রিমা রাওয়াত। লেগস্পিনে একটি ওভারও না করলেও ব্যাট হাতে দুটি দারুণ বাউন্ডারি মারেন তিনি, যার একটি আসে শেষের আগের ওভারে। ৮ রানে অপরাজিত থাকেন রাওয়াত।

কেরের ঘুরে দাঁড়ানো

ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও বল হাতে ম্যাচে বড় প্রভাব রাখেন অ্যামেলিয়া কের। রাধা যাদব ও বিপজ্জনক ঋচা ঘোষকে দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে অষ্টম ওভারে আরসিবিকে ৬৫/৫ অবস্থায় ফেলে দেন তিনি। শুরুতে গ্রেস হ্যারিস ও স্মৃতি মান্ধানার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে (প্রথম তিন ওভারে ৭ চার ও ১ ছক্কা) ভালো সূচনা পেলেও, কেরের স্পেলে সেই ছন্দ ভেঙে যায়।

এরপর ডি ক্লার্ক ও অরুন্ধতী রেড্ডির ৫২ রানের জুটি আরসিবিকে আবার ম্যাচে ফেরায়। অরুন্ধতী করেন ২৫ বলে ২০ রান। এরপরই ডি ক্লার্ক ঝড় তোলেন।

বেল বনাম কের: ম্যাচ গড়ার দ্বন্দ্ব

লরেন বেল শুরুতেই সুইং বোলিংয়ে মুম্বাইকে চাপে ফেলেন। অসুস্থতার কারণে হেইলি ম্যাথিউজ না থাকায় ওপেন করতে নেমে কের প্রথম ১০ বলে ৮ বারই ব্যাটে বল লাগাতে ব্যর্থ হন। ১১তম বলে প্রথম রান পান তিনি।

পাওয়ারপ্লেতে তৃতীয় ওভার করতে এসে বেল কেরকে ফেরান হার্ড লেংথের বলে, কাভারে ক্যাচ দিয়ে। ১৫ বলে মাত্র ৪ রান করেন কের। বেলের বোলিং ফিগার (৪-১-১৪-১) বলে দেয় কতটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন তিনি মুম্বাইকে।

কামালিনি ও হারমানপ্রিত কিছুটা ঝলক দেখালেও ডি ক্লার্কের বলে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে ঋচা ঘোষের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হারমানপ্রিত। ১১ ওভারে তখন মুম্বাই ৬৭/৪।

সাজনার পাল্টা আঘাত

আমাঞ্জোত কৌরের আগে ব্যাট করতে নামা সাজনা দু’বার জীবন পান—একবার মিডউইকেটে ডি হেমালতার হাতে, আরেকবার মিড-অফে বদলি ফিল্ডার সায়ালি সাতঘারের হাতে। অন্য প্রান্তে অভিষিক্ত নিকোলা কেয়ারি ধুঁকছিলেন (১৪ বলে ১৪)। তখন গতি বদলানোর দায়িত্ব নেন সাজনাই।

১৫তম ওভারে রাধার স্পিনে ১৫ রান তোলেন তিনি। এরপর ডি ক্লার্কের ওভারে লং-অন ও ডিপ মিডউইকেটের মাঝের ফাঁক কাজে লাগিয়ে মারেন তিনটি চার। ১৪ থেকে ১৭ ওভারে মুম্বাই তোলে ৪১ রান।

সময়মতো সাজনা ও কেয়ারির ৮৫ রানের জুটিই ম্যাচে ফিরিয়ে আনে মুম্বাইকে। কিন্তু শেষ হাসিটা শেষ পর্যন্ত ডি ক্লার্কেরই—ফিনিশ লাইনে এসে ৩ উইকেটের নাটকীয় জয়ে ম্যাচ ছিনিয়ে নেয় আরসিবি।

সর্বশেষ সংবাদ

অজস্র সাফল্য আর রেকর্ডের ঝুলি নিয়ে সব ধরনের ক্রিকেট

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে

ভারতে ম্যাচ খেলা নিয়ে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা

ক্রিকেট

অজস্র সাফল্য আর রেকর্ডের ঝুলি নিয়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে

ফুটবল

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে)

ক্রিকেট

ভারতে ম্যাচ খেলা নিয়ে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা আবারও

ক্রিকেট

সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে একতরফা দাপট দেখিয়ে প্লে-অফ