এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েও আর এই আসরে খেলা হচ্ছে না অ্যাডাম রসিংটনের। চোটের কারণে তার বিপিএল শেষ হয়ে গেছে, যা চট্টগ্রাম রয়্যালসের জন্য বড় দুঃসংবাদ।
বিনুরা ফার্নান্দোর একটি ডেলিভারি লাফিয়ে এসে রসিংটনের আঙুলে আঘাত হানে। যন্ত্রণায় কাতর হলেও মাঠে চিকিৎসা নিয়ে আবার ব্যাটিং চালিয়ে যান তিনি। তবে খুব বেশি সময় ক্রিজে থাকতে পারেননি। সেই আঘাতই পরে আরও গুরুতর হয়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত তার এবং দলের জন্য বড় ধাক্কা বয়ে আনে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে শুক্রবার সিলেটে ব্যাটিং করার সময় এই চোট পান ইংলিশ এই ব্যাটসম্যান। চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ডিরেক্টর হাবিবুল বাশার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, পুরোনো চোটের জায়গাতেই আবার আঘাত লেগেছে রসিংটনের।
“ও আঘাত পাওয়ার পর ব্যাটিং করলেও তখনই বোঝা যাচ্ছিল সমস্যাটা বড়। ব্যাটিংয়ে অস্বস্তি ছিল। পরে ও নিজেই জানায়, আগে থেকেই ওই জায়গায় চোট ছিল। সেখানেই আবার লেগেছে, চিড় ধরেছে। কালই সে চলে যাবে,” বলেন হাবিবুল বাশার।
রসিংটনের ছিটকে পড়া চট্টগ্রামের শিরোপা সম্ভাবনায় বড় আঘাত। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকার পেছনে তার অবদান ছিল বিশাল। বিপিএলে প্রথমবার খেলতে এসে এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচে ৬৫.৫০ গড়ে ও ১৩৯.৪৫ স্ট্রাইক রেটে সর্বোচ্চ ২৫৮ রান করেছেন তিনি। মোহাম্মদ নাঈম শেখের সঙ্গে তার গড়া উদ্বোধনী জুটি ছিল দারুণ কার্যকর।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই কিপার-ব্যাটসম্যান। এক ম্যাচে চারটি স্টাম্পিংয়ের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি মাঠে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো প্রাণবন্ত।
এমন একজন ক্রিকেটারকে হারিয়ে হতাশা ঝরেছে টিম ডিরেক্টরের কণ্ঠে।
“সে ছিল আমাদের দলের বড় শক্তির জায়গা। ওকে ঘিরেই আমাদের ব্যাটিং পরিকল্পনা সাজানো হতো। সবচেয়ে বড় কথা, সে ছিল দারুণ টিমম্যান। খুব অল্প সময়েই দলের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। ওকে হারানো আমাদের জন্য বিশাল ক্ষতি। আমরা এখন তার বিকল্প খুঁজছি,” যোগ করেন তিনি।
সাত ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। তাদের পরবর্তী ম্যাচ আগামী বৃহস্পতিবার মিরপুরে নোয়াখালীর বিপক্ষে।