এই সমস্যার সমাধান জয় শাহর জন্য মোটেও সহজ হবে না।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে ভারতে বাংলাদেশের না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সেই পরিস্থিতি সামলাতে রোববার বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। এনডিটিভির খবর, ভাদোদরায় ভারত ও নিউজিল্যান্ডের প্রথম ওয়ানডের ফাঁকে হবে এই বৈঠক।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই টানাপোড়েন শুরু হয়। ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং ধর্মীয় কিছু গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে কলকাতা নাইট রাইডার্স শনিবার তাকে দল থেকে ছাড়ার ঘোষণা দেয়।
পাল্টা জবাবে নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা দেয়, আগামী মাসের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভারতে খেলবে না। বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের জন্য আইসিসিকে চিঠি পাঠায়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসিবির প্রথম চিঠিতে ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। শ্রীলঙ্কাকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় চিঠিতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রায় চলে গেছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় চিঠিতে বিসিবি জানিয়েছে, বিষয়টি শুধু লজিস্টিকস নয়। তারা জাতীয় সম্মানে আঘাতের বিষয়ও উত্থাপন করেছে, যা মুস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত। তাই ভারতে না গেলে বাংলাদেশ দলের প্রতিটি সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বিসিবি। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের সবাই এতে অন্তর্ভুক্ত।
এখন সেই চ্যালেঞ্জ জয় শাহর সামনে। আইসিসি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবিকে দ্বিতীয় চিঠির কোনো জবাব দেয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয় শাহর প্রথম কাজ হবে বিসিসিআই ও আইসিসির অপারেশন টিমের সঙ্গে বসে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা। বাংলাদেশ কোথায় নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছে বা কেন আশ্বাসগুলো যথেষ্ট মনে হয়নি, সেসব চিহ্নিত করা হবে।
সবচেয়ে কঠিন কাজ হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে এমন একটি সমাধান তৈরি করা, যা তারা চাপ ছাড়া মেনে নিতে পারে। সমাধান এমন হতে হবে যাতে বাংলাদেশ তাদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে, সেটা হোক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, পরিষ্কার যোগাযোগ বা ম্যাচ আয়োজনের কিছু নমনীয়তা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সমীকরণে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। তারা যোগ্যতা অর্জন করেছে, আর তাদের বাদ দিলে আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হবে। এমন সিদ্ধান্তে আইসিসি বোর্ডে ভোটের প্রয়োজন হবে এবং এতে আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টের জন্যও এটি বিপজ্জনক precedent হবে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছেন। তিনি প্রকাশ্যে বর্তমান পরিকল্পনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং ভারতে খেলার বিষয়টি জাতীয় সম্মানে আঘাত হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সব মিলিয়ে এখন কঠিন পরীক্ষার সামনে জয় শাহ। তিনি শুধু আইসিসির চেয়ারম্যান নন, ভারতীয় বোর্ডের সাবেক সচিব ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে। তবে এখন তাকে ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতিনিধি নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের নিরপেক্ষ প্রশাসক হিসেবে কাজ করতে হবে, যাতে উত্তেজনা কমানো যায় এবং আস্থা ফিরিয়ে আনা যায়।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর এক মাসও বাকি নেই। ৭ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী দিনে কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুটি ম্যাচও কলকাতায়, আর শেষটি নেপালের বিপক্ষে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে।