BN

শান্ত–ওয়াসিম জুটির দাপটে রংপুরকে হারাল রাজশাহী

শান্ত–ওয়াসিম জুটির দাপটে রংপুরকে হারাল রাজশাহী

মুহাম্মদ ওয়াসিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তারকাসমৃদ্ধ রংপুর রাইডার্সকে একেবারে

মুহাম্মদ ওয়াসিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তারকাসমৃদ্ধ রংপুর রাইডার্সকে একেবারে উড়িয়ে দিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

মুস্তাফিজুর রহমানের স্লোয়ারে সামান্য বিভ্রান্ত হলেও শেষ দিকে বড় শট খেলতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। আউট হয়ে হতাশায় কোমরে হাত রেখে, ব্যাটে ভর দিয়ে মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। এতটা দারুণ খেলছিলেন যে এমনভাবে আউট হওয়াটা তার জন্য কষ্টেরই ছিল। তবে ততক্ষণে মূল কাজটা সেরে ফেলেছিল রাজশাহী। অধিনায়ক শান্ত ও মুহাম্মদ ওয়াসিমের দুর্দান্ত জুটিতে দল পৌঁছে গিয়েছিল জয়ের একেবারে কাছাকাছি।

শেষ পর্যন্ত বিপিএলে রংপুর রাইডার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

ম্যাচের প্রথম ভাগে রংপুরের হয়ে মূল আলোচনায় ছিলেন তাওহিদ হৃদয়। শেষ বলে সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করে ৫৬ বলে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ব্যাটে ভর করে ২০ ওভারে রংপুর তোলে ১৭৮ রান।

কিন্তু সেই রানকে খুব একটা গুরুত্বই দেয়নি রাজশাহী। ৫ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা।

শান্ত ৪২ বলে ৭৬ রান করে আউট হলেও ইনিংসের ভার পুরোপুরি সামলান ওয়াসিম। ওপেনিংয়ে নেমে ৫৯ বলে ৮৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। এই দুজনের জুটিতে আসে ৮২ বলে ১৪২ রান, যা চলতি আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ জুটি।

রাজশাহীর রান তাড়া শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। তৃতীয় ওভারে ওপেনার তানজিদ হাসান ৭ বলে ৩ রান করে আউট হন। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলের এই ওপেনার টুর্নামেন্টের সাত ইনিংসেও একবারও ৩০ ছুঁতে পারেননি।

তিন নম্বরে নেমেই শান্ত দ্বিতীয় বলেই হুক শটে ছক্কা মারেন। অন্য প্রান্তে ওয়াসিমও দ্রুত ছন্দে ফেরেন। চার-ছক্কায় দুজনেই রানের গতি বাড়াতে থাকেন। কিছুটা ধীর শুরু হলেও পাওয়ার প্লেতে রাজশাহীর রান দাঁড়ায় ৬২।

পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পরও দুই ব্যাটসম্যানের দাপট থামেনি। রংপুরের কোনো বোলারই তাদের চাপে ফেলতে পারেননি। ওয়াসিম ৩২ বলে ও শান্ত ২৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। একাদশ ওভারে দলীয় রান পেরিয়ে যায় ১০০।

এক সময় মনে হচ্ছিল, এই জুটিতেই ম্যাচ শেষ হয়ে যাবে। তবে শান্ত আউট হওয়ায় সেই সম্ভাবনার অবসান ঘটে। এরপর প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা জিমি নিশামও বড় শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন।

ওয়াসিম অবশ্য কাজ শেষ করেই ফেরেন। সাহিবজাদা ফারহানের বদলি হিসেবে চার ম্যাচের জন্য দলে নেওয়া এই সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাটসম্যান তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতেই খেললেন ম্যাচজয়ী ইনিংস।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রংপুরের ইনিংস মূলত ঘুরেছে তাওহিদ হৃদয়কে ঘিরে। তার ইনিংসটা ছিল তিন ভাগে বিভক্ত—প্রথম পাঁচ ওভার, মাঝের দশ ওভার এবং শেষ পাঁচ ওভার।

শুরুর পাঁচ ওভারে ঝড়ো ব্যাটিং করেন হৃদয়। ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় ১৮ বলে করেন ৩৪ রান। এরপর মাঝের দশ ওভারে তার ব্যাট থেকে আর কোনো বাউন্ডারি আসেনি।

শেষ পাঁচ ওভারে আবার রানের গতি বাড়ান হৃদয়। যদিও শতক পূর্ণ করা হয়নি।

ইনিংসের শুরুতেই এসএম মেহরবের অফ স্পিনে প্রথম তিন বলেই বাউন্ডারি মারেন তিনি। ওপেনার কাইল মেয়ার্স ৬ বলে ৮ রান করে রিপন মন্ডলের বলে জিমি নিশামের দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হন।

হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে পাওয়ার প্লেতে রংপুর তোলে ৫৪ রান। অধিনায়ক লিটন দাস ১৪ বলে ১১ রান করে সান্দিপ লামিছানের বলে বাজে শটে আউট হন। টুর্নামেন্টের সাত ম্যাচেও তার ফিফটির খাতা খোলেনি।

ইফতিখার রহমান ১৫ বলে করেন মাত্র ৮ রান। একপর্যায়ে হৃদয়ও রানের গতি বাড়াতে পারেননি। টানা পাঁচ ওভারে কোনো বাউন্ডারি আসেনি।

এরপর খুশদিল শাহ এসে কিছুটা গতি ফেরান। প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে শুরু করেন তিনি। লামিছানেকে মারেন একটি ছক্কা ও একটি চার।

ষোড়শ ওভারে ফিফটি ছুঁয়ে আবার আক্রমণাত্মক হন হৃদয়। পরের চার ওভারে পাঁচটি ছক্কা হাঁকান তিনি। আব্দুল গাফফার সাকলাইনের বলে এক্সট্রা কাভার দিয়ে এবং তানজিম হাসানের বলে পয়েন্টের ওপর দিয়ে মারা দুটি ছক্কা ছিল দারুণ নান্দনিক।

রিপনের করা ১৯তম ওভারে হৃদয়ের দুটি ও খুশদিলের দুটি ছক্কায় আসে ২৮ রান।

শেষ ওভার শুরু করেন হৃদয় ৯২ রান নিয়ে। প্রথম বলেই নিশামকে বাউন্ডারি মারেন। পরের বলে এক রান নেন। এরপর খুশদিল একটি চার মারলেও পরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি (২৯ বলে ৪৪)। এই জুটিতে আসে ৫১ বলে ১০৫ রান, যা চলতি আসরে চতুর্থ উইকেটে প্রথম শতরানের জুটি।

শেষ বলে তিন রান দরকার ছিল হৃদয়ের সেঞ্চুরির জন্য। কিন্তু ফুল লেংথ ডেলিভারিতে শট খেলতে গিয়ে বোলারই বলটি ধরে ফেলেন। হতাশায় ব্যাট ছুড়ে মারার ভঙ্গি করে মাঠ ছাড়েন হৃদয়।

শেষ পাঁচ ওভারে রংপুর তোলে ৭৪ রান। তবে সেই রান অনায়াসেই পেরিয়ে যান ওয়াসিম-শান্তরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

  • রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৭৮/৪
    (হৃদয় ৯৭*, মেয়ার্স ৮, লিটন ১১, ইফতিখার ৮, খুশদিল ৪৪, সোহান ১*; মেহরব ১-০-১৩-০, তানজিম ৪-০-৩৫-১, রিপন ৪-০-৫৬-১, নিশাম ৩-০-২৭-১, লামিছানে ৪-০-২১-১, সাকলাইন ৪-০-২২-০)
  • রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ১৭৯/৩
    (ওয়াসিম ৮৭*, তানজিদ ৩, শান্ত ৭৬, নিশাম ১, বার্ল ৭*; মুস্তাফিজ ৪-০-৩৪-১)

ফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাজমুল হোসেন শান্ত

সর্বশেষ সংবাদ

অজস্র সাফল্য আর রেকর্ডের ঝুলি নিয়ে সব ধরনের ক্রিকেট

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে

ভারতে ম্যাচ খেলা নিয়ে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা

ক্রিকেট

অজস্র সাফল্য আর রেকর্ডের ঝুলি নিয়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে

ফুটবল

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে)

ক্রিকেট

ভারতে ম্যাচ খেলা নিয়ে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা আবারও

ক্রিকেট

সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে একতরফা দাপট দেখিয়ে প্লে-অফ