নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে চার উইকেটের নাটকীয় জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত।
চমৎকার ব্যাটিংয়ে আরেকটি ওয়ানডে সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন ভিরাট কোহলি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের দেখা পাননি তিনি। কোহলির বিদায়ের পর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় ভারত। তবে শেষদিকে কিউইদের দুর্বল ফিল্ডিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
রোববার ভাদোদারায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে নিউ জিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারায় ভারত।
এর আগে শতরানের উদ্বোধনী জুটির পর ব্যাটিং ধস নামে সফরকারীদের ইনিংসে। এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন ড্যারিল মিচেল। তিনটি ছক্কা ও পাঁচটি চারে সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেন তিনি। ডেভন কনওয়ে ১ ছক্কা ও ৬ চারে করেন ৫৬ রান, আর হেনরি নিকোলসের ব্যাট থেকে আসে ৮ চারে ৬২ রান।
৩০১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ভারতের ইনিংসে সব আলো নিজের দিকে টেনে নেন কোহলি। ১ ছক্কা ও ৮ চারে ৯১ বলে ৯৩ রান করে আউট হন তিনি, রেখে যান আক্ষেপ। টানা পাঁচটি ওয়ানডেতে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেললেন এই ব্যাটিং মহাতারকা, যার মধ্যে দুটিই ছিল সেঞ্চুরি।
এই ইনিংসের পথে কোহলি গড়েন আরেকটি ঐতিহাসিক রেকর্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম ২৮ হাজার রান করার কীর্তিতে তিনি ছাড়িয়ে যান সাচিন টেন্ডুলকারকে। ৬২৪ ইনিংসেই এই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন কোহলি, যেখানে সাচিনের লেগেছিল ৬৪৪ ইনিংস।
কোহলি আউট হওয়ার সময় ভারতের দরকার ছিল ৬৫ বলে ৬৭ রান। কিন্তু এরপর দ্রুত আরও দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে হার্শিত রানা ও ওয়াশিংটন সুন্দারের সহজ ক্যাচ ফেলে সুযোগ নষ্ট করে নিউ জিল্যান্ড। সঙ্গে ছিল এলোমেলো ফিল্ডিং।
শেষ পর্যন্ত ৬ বল হাতে রেখেই ভারতকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন লোকেশ রাহুল। কোহলি ছাড়াও ফিফটি করেন দলে ফেরা অধিনায়ক শুবমান গিল—২ ছক্কা ও ৩ চারে ৫৬ রান। চোট কাটিয়ে ফেরা সহ-অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার সেঞ্চুরি মিস করেন মাত্র এক রানে, ১ ছক্কা ও ৪ চারে করেন ৪৯।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরু পেয়েছিল নিউ জিল্যান্ড। ষষ্ঠ ওভারেই উদ্বোধনী জুটি ভাঙার সুযোগ পায় ভারত, কিন্তু হার্শিত রানার বলে ডিপ থার্ডম্যানে হেনরি নিকোলসের ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন কুলদিপ ইয়াদাভ।
৪ রানে জীবন পেয়ে ডেভন কনওয়েকে সঙ্গে নিয়ে দলকে দারুণ শুরু এনে দেন নিকোলস। ১৭ রানেই ভাঙতে পারত যে জুটি, সেটি পরে ১০০ রান পার করে। দুই ওপেনারই একই ওভারে ফিফটি স্পর্শ করেন, দুজনেরই পঞ্চাশ আসে ৬০ বলে।
২২তম ওভারে নিকোলসকে কট বিহাইন্ড করে ফেরান হার্শিত রানা। পরের ওভারেই ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হন কনওয়ে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে কিউইরা। উইল ইয়াং, গ্লেন ফিলিপস, মিচেল হে ও মাইকেল ব্রেসওয়েল ব্যর্থ হলেও এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান মিচেল।
৫১ বলে ফিফটি করেন তিনি। সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে ৪৮তম ওভারে আউট হন মিচেল। শেষদিকে অভিষিক্ত ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক ১৭ বলে অপরাজিত ২৪ রান করলে ঠিক ৩০০ রান ছুঁতে পারে নিউ জিল্যান্ড।
রান তাড়ায় ভালো শুরু পেলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি রোহিত শার্মা। ২৬ রান করে কাইল জেমিসনের বলে আউট হন তিনি। ক্রিজে এসেই চার মেরে রানের খাতা খোলেন কোহলি। দ্রুত এগিয়ে যান ফিফটির দিকে। ৪৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি।
অন্য প্রান্তে কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছিলেন গিল। ৬৬ বলে তার ফিফটি আসে। এরপর আদিত্যিয়া আশোকের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি, ভাঙে ১১৮ রানের জুটি।
শ্রেয়াস আইয়ারকে নিয়ে আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি গড়েন কোহলি। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থাকতে জেমিসনের বলে মিড-অফে ধরা পড়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ওই ওভারের শেষ বলেই ফেরেন রবীন্দ্র জাদেজা। পরের ওভারে শ্রেয়াসকেও বোল্ড করে দেন জেমিসন।
এরপর কিউইদের ফিল্ডিংয়ের ভুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতে চলে যায়। হার্শিত রানা ও ওয়াশিংটন সুন্দার জীবন পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত ৪৯তম ওভারের শেষ তিন বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ম্যাচ শেষ করে দেন লোকেশ রাহুল। ২৯ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন তিনি।
এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। রাজকোটে আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে।