আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত পারলেন না মইন আলি। ম্যাচের শেষভাগের টানটান উত্তেজনায় জয় তুলে নিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
রাজশাহীর ইনিংসের ১৩তম ওভারে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ভেসে ওঠে দর্শকসংখ্যা—২০ হাজার ৮৯২। তবে রাজশাহীর ইনিংস শেষ হতেই সেই উন্মাদনা অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। শক্ত ভিত গড়ে বড় সংগ্রহ তুলতে পারেনি তারা। কিন্তু ওই রানই যথেষ্ট করে তোলেন রাজশাহীর বোলাররা। সিলেট টাইটান্সকে হারিয়ে বিপিএলের প্রাথমিক পর্ব শীর্ষ দুইয়ে থেকেই শেষ করা নিশ্চিত করে শান্তর দল।
ঢাকা পর্বের প্রথম দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে রাজশাহীর জয় আসে মাত্র ৫ রানে।
শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ২০ ওভারে রাজশাহী তোলে ১৪৭ রান। জবাবে সিলেট থামে ১৪২ রানে।
জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে সিলেটের দরকার ছিল ২৫ রান। ১৯তম ওভারে রিপন মন্ডলের প্রথম দুই বলে টানা দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে মইন আলি সমীকরণ নামিয়ে আনেন ১০ বলে ১৩ রানে। কিন্তু দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাকি চার বলে মাত্র ২ রান দিয়ে মইন (১২ বলে ২৭) ও নাসুম আহমেদকে ফিরিয়ে দেন রিপন।
শেষ ওভারে দুটি ওয়াইড থাকলেও বিনারা ফার্নান্দো দেন মাত্র ৫ রান, সঙ্গে নেন একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
রাজশাহীর হয়ে পাঁচ বোলারই উইকেট পান। ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন পেসার রিপন মন্ডল।
৯ ম্যাচে ৭ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রাজশাহী। ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তিনে সিলেট, যাদের প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচ ছিল এটি। ৮ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে রংপুর রাইডার্স।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারে মইন আলিকে চার মারলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তানজিদ হাসান (৭ বলে ৯)। চতুর্থ ওভারে রুয়েল মিয়াকে পুল করে ম্যাচের প্রথম ছক্কা মারেন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। কিন্তু পরের বলেই শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি (১২ বলে ১৩)।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম ব্যাট হাতে ম্যাচে গতি আনেন। রুয়েলকে পরপর দুটি চার মারেন মুশফিক, শহিদুল ইসলামের বলে টানা দুটি বাউন্ডারি পান শান্ত। মেহেদী হাসান মিরাজকে ছক্কায় উড়িয়ে দেন শান্ত, সেই বল নিয়ে গ্যালারিতে শুরু হয় দর্শকদের কাড়াকাড়ি। নাসুম আহমেদকেও হাঁটু গেঁড়ে ছক্কা মারেন মুশফিক।
তবে মিরাজকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন শান্ত। পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ২২ বলে ৩৪ রান করেন তিনি। ৩২ বলে ৫৬ রানের জুটি ভাঙতেই ছন্দ হারায় রাজশাহী।
দ্বাদশ ওভারের প্রথম বলে জিমি নিশামের ছক্কায় রাজশাহীর রান ছাড়ায় ১০০। আশ্চর্যের বিষয়, পরের ৪৩ বলে আর কোনো বাউন্ডারি আসেনি। ওই ওভারেই আরেকটি ছক্কা মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন নিশাম (১০ বলে ১২)। রিভার্স সুইপে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুশফিক। আকবর আলি ও রায়ান বার্লও দ্রুত বিদায় নেন।
শেষ ওভারে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের চার ও ছক্কায় রাজশাহী দেড়শর কাছাকাছি পৌঁছায়।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারে অফ স্পিনার মোহাম্মদ রুবেলকে ছক্কা মারেন পারভেজ হোসেন ইমন। তৃতীয় ওভারে তাওফিক খানকে ফিরিয়ে দেন রিপন মন্ডল। এরপর মিরাজও টিকতে পারেননি।
১৫ রানে ২ উইকেট হারানোর পর পারভেজ ও মুমিনুল হকের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় সিলেট। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পারভেজ মারেন আরও তিনটি ছক্কা। তবে পানি বিরতির পর রুয়েলকে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন তিনি। ৩০ বলে ৪১ রানে থামে তার ইনিংস।
আফিফ হোসেন ব্যর্থ হন (১৫ বলে ১৬)। পরের ওভারে বিদায় নেন মুমিনুল হকও। ২০২২ সালের পর বিপিএলে ফিরে ৩৬ বলে ৩১ রান করেন তিনি।
ইথান ব্রুকস দ্রুত ফিরলেও শেষ পর্যন্ত আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন মইন আলি। তবে ম্যাচ জেতাতে পারেননি এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ১৪৭/৮
(শান্ত ৩৪, মুশফিক ৪০; রিপন ৪-০-৩৪-৪) - সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৪২/৯
(পারভেজ ৪১, মুমিনুল ৩১, মইন ২৭)
ফল: রাজশাহী ৫ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: রিপন মন্ডল