টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগের দিন যে দলটা ছিল চরম অনিশ্চয়তায়, ফাইনালের আগের দিন সেই দলই এখন শিরোপার স্বপ্নে বিভোর।
বিপিএল শুরুর আগমুহূর্তে ফাইনালে ওঠা তো দূরের কথা, দলটাই আদৌ মাঠে নামতে পারবে কি না—সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। টুর্নামেন্টের ঠিক আগের দিন মালিকপক্ষ সরে দাঁড়ানোয় পুরো দল পড়ে যায় টালমাটাল অবস্থায়। তখন হুট করেই দায়িত্ব নেয় বিসিবি। সেখান থেকেই শুরু হয় এক রূপকথার গল্প।
বিপিএল শুরুর আগের দিন যে চট্টগ্রাম রয়্যালস ছিল বিপর্যস্ত ও দিশেহারা, টুর্নামেন্টের শেষপ্রান্তে এসে সেই দলটাই হয়ে উঠেছে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসানের কণ্ঠে এখন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন।
বিসিবি দায়িত্ব নেওয়ার পর টিম ডিরেক্টর হাবিবুল বাশার, ম্যানেজার নাফিস ইকবাল ও কোচ মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ায় চট্টগ্রাম। সীমিত শক্তি, বড় কোনো বিদেশি তারকা ছাড়াই তারা খেলেছে সাহসী ও সংগঠিত ক্রিকেট। কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করার পর টানা দুই ম্যাচ হারলেও প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে হারিয়ে সবার আগে ফাইনালের টিকিট কেটে নেয় তারা।
এখন শেষ বাধা পেরিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অপেক্ষা। ফাইনালের আগের দিন অধিনায়ক শেখ মেহেদি জানালেন, শিরোপার তাড়না রয়েছে দলের প্রতিটি ক্রিকেটারের ভেতরেই।
“ফাইনালে যেহেতু উঠেছি, শিরোপার স্বপ্ন কেন দেখব না? সবাইই তো স্বপ্ন দেখবে। তবে শেষ পর্যন্ত আগামীকাল যারা ভালো ক্রিকেট খেলবে, সব বিভাগে নিজেদের সেরাটা দিতে পারবে, তারাই শিরোপা জিতবে। আমার মনে হয়, প্রত্যেক ক্রিকেটারের ভেতরেই সেই ক্ষুধাটা আছে। দেখা যাক, কাল কী হয়।”
ফাইনালে আবারও প্রতিপক্ষ সেই রাজশাহী। প্রাথমিক পর্বে দুই দলের মধ্যে জয় ছিল একটি করে। কোয়ালিফায়ারে জয় পেয়ে অবশ্য মানসিকভাবে কিছুটা এগিয়ে চট্টগ্রাম। তবে ফাইনালের সমীকরণ যে আলাদা, সেটি ভালোভাবেই জানেন অধিনায়ক।
“আমার কাছে মনে হয়, এ বছরের বিপিএলে সেরা দলগুলোর একটি রাজশাহী। খুবই ভারসাম্যপূর্ণ দল, সব বিভাগে ভালো ক্রিকেটার আছে এবং পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তারা ভালো খেলেছে। সত্যি বলতে, এ বছর রাজশাহী দলটাই আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “রংপুরও ভালো খেলেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা ফাইনালে উঠতে পারেনি। রাজশাহী নিঃসন্দেহে সেরা দলগুলোর একটি। ওদের সঙ্গে আমাদের তিনটি ম্যাচ হয়ে গেছে, একে অন্যকে ভালোভাবেই চিনি। কাল যদি আমরা নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকভাবে মাঠে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে ফল আমাদের পক্ষেও আসতে পারে।”
ফাইনালে টসকে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না শেখ মেহেদি। তবে ম্যাচ যে রোমাঞ্চে ঠাসা হবে, সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত।
“রাতের ম্যাচে টসটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে না। টস জিতলে হয়তো মানসিকভাবে ১০ শতাংশ এগিয়ে থাকা যায়। এরপর সব কিছু নির্ভর করে উইকেট আর শিশিরের ওপর।”
“ফাইনাল মানেই ফাইনাল—এখানে টুইস্ট থাকবে, উত্তেজনা থাকবে। আমার মনে হয়, আগামীকাল খুব কঠিন ও জমজমাট একটা লড়াই দেখবে দর্শকরা।”