নিউ জিল্যান্ডের ২০ বছর পুরোনো রেকর্ড ভেঙে যুব বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান তাড়ার অনন্য কীর্তি গড়ে শিরোপার মঞ্চে পৌঁছে গেল ভারত।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। ২২ রানে বৈভাব সুরিয়াভানশির ক্যাচ ফেলেন উজাইরউল্লাহ নিয়াজাই, আর ২০ রানে অ্যারন জর্জের ক্যাচ ছেড়ে দেন ওয়াহিদউল্লাহ জাদরান। সেই ভুলগুলোর কঠিন মূল্য দিতে হয় আফগানিস্তানকে। জীবন পেয়ে সুরিয়াভানশি খেলেন বিধ্বংসী ইনিংস, আর জর্জ তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। ফলাফল—রেকর্ড গড়া রান তাড়ায় যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত।
দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ভারতীয় যুবাদের জয় আসে ৭ উইকেটে।
হারারেতে বুধবার ফায়সাল খান ও উজাইরউল্লাহ নিয়াজাইয়ের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৩১০ রান তোলে আফগানিস্তান। টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির মাধ্যমে যুব ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ শতকের (৬টি) বিশ্ব রেকর্ডে ভাগ বসান ফায়সাল খান।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ছিল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। দাপুটে ব্যাটিংয়ে ৫৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে তারা। ১৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৪ বলে ১১৫ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান ওপেনার অ্যারন জর্জ। আরেক ওপেনার বৈভাব সুরিয়াভানশি ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় মাত্র ৩৩ বলে করেন ৬৮ রান। অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে ৫৯ বলে ৬২ রান করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এতদিন যুব বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড ছিল নিউ জিল্যান্ডের দখলে। ২০০৬ সালে কলম্বোয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল তারা। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় উঠল ভারত।
শুধু তাই নয়, যুব বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সফলভাবে ৩০০+ রান তাড়ার এটাই প্রথম উদাহরণ। এই মঞ্চে আগেও নজির গড়েছে ভারত—২০২৪ আসরে সেমি-ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় পেয়েছিল তারা।
ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচে মোট রান হয়েছে ৬২১, যা যুব বিশ্বকাপের প্লে-অফ ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর চেয়ে বেশি রান হয়েছিল শুধু ২০০৪ আসরে প্লেট সেমি-ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ডের ম্যাচে—৬৩১ রান।
টানা ষষ্ঠবার এবং সব মিলিয়ে দশমবার যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
প্রথম সেমি-ফাইনালে গতবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত একমাত্র শিরোপা জিতেছে ১৯৯৮ সালে।