শুরুর দিকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫ উইকেটে কানাডাকে হারিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নেয় তারা।
দিল্লিতে শুক্রবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে কানাডার করা ১৫০ রান দুই বল বাকি থাকতেই পেরিয়ে যায় আরব আমিরাত। কিন্তু এই জয় সহজ ছিল না মোটেও।
শেষ চার ওভারে দরকার ছিল ৫৬ রান। কঠিন সমীকরণকে সহজ করে দেন আরিয়ানশ শার্মা ও সোহাইব খান। পঞ্চম উইকেটে ৪৩ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন তারা।
ইনিংসের শুরু থেকে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন আরিয়ানশ। ৫৩ বলে ৭৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ছিল তিনটি ছক্কা ও ছয়টি চার। ছয়ে নেমে সোহাইব খেলেন ২৯ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস, যেখানে ছিল চারটি ছক্কা ও চারটি চার। শেষ দিকে তাদের আগ্রাসী ব্যাটিংই এনে দেয় জয়।
এর আগে বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান জুনাইদ সিদ্দিকি। ৩৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে কানাডাকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেননি তিনি। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এটাই তার প্রথম পাঁচ উইকেট। এই পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি।
অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় কানাডা। দুই ওপেনারকে দ্রুত ফেরান জুনাইদ। মুহাম্মাদ জাওয়াদউল্লাহও প্রথম বলেই উইকেট নিয়ে চাপ বাড়ান।
৩৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর নাভনিত ঢালিওয়াল ও হার্শ ঠাকের দলকে টেনে তোলেন। তাদের ৫৮ রানের জুটিতে একশর কাছাকাছি পৌঁছে যায় কানাডা। নাভনিত ৩৪ রান করে রানআউট হলে ভাঙে সেই জুটি। হার্শ ৪০ বলে ৫০ রান করে ইনিংসকে এগিয়ে নেন। তবে শেষ দিকে আবারও আঘাত হানেন জুনাইদ। শ্রেয়াস মোভা ও সাদ বিন জাফারকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
১৫১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় আমিরাতের শুরুটা ভালো হয়নি। মুহাম্মাদ ওয়াসিম, আলিশান শারাফু, মায়াঙ্ক কুমার ও হার্শিত কৌশিক কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ১৩তম ওভারে ৬৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে দলটি।
সেখান থেকেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। আরিয়ানশ ও সোহাইব আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। ৪১ বলে ফিফটি তুলে নেন আরিয়ানশ। সোহাইবও শুরু থেকেই মারমুখী ছিলেন। ১৭তম ও ১৮তম ওভারে একের পর এক ছক্কা-চারে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনেন তারা।
১৯তম ওভারে টানা দুই চার মারেন আরিয়ানশ। ওই ওভারের শেষ দুই বলে চার ও ডাবল নিয়ে ২৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন সোহাইব।
শেষ ওভারে দরকার ছিল ৮ রান। প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে কাজ প্রায় শেষ করে দেন আরিয়ানশ। এক বল পর সোহাইব আউট হলেও পরের বলেই জয় নিশ্চিত করে আরব আমিরাত।
৫ উইকেটের এই জয়ে গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট তুলে নিল তারা। আর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং আর ম্যাচ ঘোরানো জুটিতে নায়ক হয়ে থাকলেন জুনাইদ ও আরিয়ানশ–সোহাইব জুটি।