তবে পুরো বিষয়টাই যে প্রতিপক্ষের আচরণের ওপর নির্ভর করছে—সেই ইঙ্গিতই দিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আগা।
অনেক টানাপোড়েনের পর ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে গেলেও, লড়াই ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। এবার কি দুই দলের ক্রিকেটাররা হাত মেলাবেন? আগের সেই বিতর্কিত পরিস্থিতির বদল হবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন সালমান। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে খেলতে নামলে খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবই ধরে রাখতে চান তিনি।
ভারত–পাকিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব যে ক্রিকেটেও পড়ে—এটা নতুন কিছু নয়। গত বছর সীমান্তে সংঘর্ষের রেশ দেখা গিয়েছিল সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপে।
সেই আসরে তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। কিন্তু একটি ম্যাচেও ভারতের ক্রিকেটাররা পাকিস্তানের অধিনায়ক বা খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাননি। বিষয়টি নিয়ে বেশ বিতর্কও তৈরি হয়।
পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনাল জিতলেও ভারত ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরতে পারেনি। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রধান মহসিন নাকভি—যিনি একই সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—তার হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। পরে আর ট্রফিই দেওয়া হয়নি তাদের হাতে।
পরবর্তীতে নারী বিশ্বকাপ ও এবারের যুব বিশ্বকাপেও ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মধ্যে করমর্দন হয়নি। এমনকি সাবেকদের এক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচই বর্জন করে ভারত।
এশিয়া কাপ ফাইনালের পর আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। কলম্বোয় রোববার সন্ধ্যায় মাঠে গড়াবে সেই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে সালমানের কাছে করমর্দনের প্রসঙ্গ তোলা হয়।
তিনি বলেন, “আমি আশা করি, খেলাটা সেই চেতনা নিয়েই খেলা উচিত, যেটা শুরু থেকেই চলে আসছে। (হাত মেলানো হবে কি না) সেটা কাল দেখা যাবে।”
দুই দেশের বৈরী সম্পর্কের প্রভাব চলতি বিশ্বকাপেও পড়েছিল। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। পরে আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবির বৈঠকের পর পরিস্থিতির সমাধান হয় এবং সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে পাকিস্তান।
ম্যাচটি ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকলেও সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল দল—এমনটাই জানালেন সালমান।
“ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই তীব্র লড়াই। আগামীকালের ম্যাচও তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা টুর্নামেন্টে আসার আগেই সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম—ম্যাচ হোক বা না হোক।”