মার্কো ইয়ানসেনের আগুনঝরা বোলিংয়ে ১৭৫ রানে থেমে গেল নিউজিল্যান্ড। এরপর অধিনায়ক এইডেন মার্করামের অপরাজিত ৮৬ রানের ঝলমলে ইনিংসে সহজ জয় তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রথম দুই ম্যাচে রান তাড়া করে দাপুটে জয় পেয়েছিল কিউইরা। তবে এবার আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় তারা। পাওয়ার প্লেতেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। পরে মিডল ও লোয়ার অর্ডারের কিছুটা প্রতিরোধে কোনোভাবে ১৭৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় দলটি। কিন্তু বোলিংয়ে সেই লড়াই জমাতে পারেনি তারা। মার্করামের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেটের বড় জয় পেয়ে সুপার এইটের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল প্রোটিয়ারা।
বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে আহমেদাবাদে শনিবার ১৭৬ রানের লক্ষ্য ১৭ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের ভিত নড়িয়ে দেন ইয়ানসেন। পাওয়ার প্লেতেই তিন উইকেট তুলে নিয়ে টপ অর্ডার এলোমেলো করে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন এই পেসার।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে ছিলেন মার্করাম। আটটি চার ও চারটি ছক্কায় ৪৪ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে দেশের হয়ে এটি তার যৌথ সর্বোচ্চ ইনিংস। গত মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও করেছিলেন অপরাজিত ৮৬।
তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে ৬ পয়েন্টসহ গ্রুপের শীর্ষে এখন দক্ষিণ আফ্রিকা। টানা দুই জয়ের পর প্রথম হারের মুখ দেখা নিউজিল্যান্ড ৪ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে।
দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আফগানিস্তান ও কানাডা এখনো পয়েন্টের দেখা পায়নি। গ্রুপের শীর্ষ দুই দল উঠবে সুপার এইটে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ডও অক্ষুণ্ণ রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা। পাঁচ দেখায় পাঁচবারই জয় প্রোটিয়াদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৭৫/৭
(সাইফার্ট ১৩, অ্যালেন ৩১, রাভিন্দ্রা ১৩, ফিলিপস ১, চ্যাপম্যান ৪৮, মিচেল ৩২, স্যান্টনার ৪, নিশাম ২৩*, হেনরি ৯*; ইয়ানসেন ৪-৪০-৪, এনগিডি ১-৩৪, মহারাজ ১-২৪) - দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৭.১ ওভারে ১৭৮/৩
(মার্করাম ৮৬*, ডি কক ২০, রিকেলটন ২১, ব্রেভিস ২১, মিলার ২৪*; ফার্গুসন ১-৩৩, নিশাম ১-১৫, রাভিন্দ্রা ১-৯)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মার্কো ইয়ানসেন