২০১৫ সালে মেগ ল্যানিংয়ের পর প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টানা দুইবার ‘বেলিন্ডা ক্লার্ক অ্যাওয়ার্ড’ জিতে নিলেন অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পুরো বছর দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সুবাদে এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ফের দেশটির বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটারের পুরস্কারটি নিজের করে নিলেন।
২৪ বছর বয়সী সাদারল্যান্ড ৭৭ ভোট পেয়ে সেরা হয়েছেন। ৭৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বেথ মুনি, আর ৫৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন অ্যালানা কিং।
মেগ ল্যানিংয়ের পর সাদারল্যান্ডই প্রথম ক্রিকেটার যিনি টানা দুইবার এই সম্মান অর্জন করলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান কোচ শেলি নিটস্কি ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা চারবার এই পুরস্কার জিতেছিলেন। এছাড়া টানা পুরস্কারটি জয়ের কৃতিত্ব আছে কেবল কারেন রোল্টন ও লিসা স্টালেকারের।
সাদারল্যান্ড শুধু বর্ষসেরাই হননি, জিতেছেন মেয়েদের বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটারের পুরস্কারও। এদিকে, বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার হয়েছেন বেথ মুনি।
ভোটিংয়ের জন্য বিবেচিত সময়ে অস্ট্রেলিয়া মোট ১৩টি ম্যাচ খেলেছিল, যার সবকটিই ছিল দেশের বাইরে এবং সাদা বলের ক্রিকেটে (১০টি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি)। এর মধ্যে ৯টি ওয়ানডে খেলে ৪৩.২০ গড়ে ২১৬ রান করেছেন সাদারল্যান্ড। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রান তাড়ায় খেলেছেন অপরাজিত ৯৮ রানের এক ম্যাচ জয়ী ইনিংস। বল হাতেও ছিলেন দারুণ উজ্জ্বল; ওই ৯ ম্যাচে ১৯টি উইকেট নিয়েছেন, যার ১৭টিই ছিল বিশ্বকাপে—যা ছিল আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, তিনটি টি-টোয়েন্টিতে সাদারল্যান্ড নিয়েছেন আটটি উইকেট। এছাড়া গত বছরের মার্চে নিউ জিল্যান্ড সফরে তিনটি টি-টোয়েন্টিতে ৮৩ গড়ে ১৬৬ রান করে মুনি হয়েছিলেন বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার।
শনিবার সন্ধ্যায় সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এক অনুষ্ঠানে সাদারল্যান্ডের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ ও নারী দলের ব্যস্ত সূচির কারণে সবাইকে একসাথে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তাই জমকালো অনুষ্ঠানের বদলে এভাবেই পুরস্কার ঘোষণা করা হচ্ছে। যেমন, গত বছর ট্রাভিস হেডকে বর্ষসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কার ‘অ্যালান বোর্ডার মেডেল’ দেওয়া হয়েছিল শ্রীলঙ্কার একটি হোটেলে। এই বছরে পুরুষদের বিজয়ীদের নাম পরে ঘোষণা করা হবে।
পুরস্কারের এই রাতে অস্ট্রেলিয়া নারী দলের সাবেক অধিনায়ক অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েলকে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১২ টেস্ট, ১৪৪ ওয়ানডে ও ৯৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ওয়ানডেতে ৩৬.০০ গড়ে তিন হাজার ৪৯২ রান করা ব্ল্যাকওয়েলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনটি সেঞ্চুরিই এই সংস্করণে। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ২০০৫ ও ২০১৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি এবং তার নেতৃত্বেই ২০১০ সালে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।